অব্যবহূত পড়ে আছে সরকারি ভবন

শাল্লা

প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০১৯

পঙ্কজ দে, সুনামগঞ্জ

৩৫ লাখ টাকায় নির্মিত সরকারি ভবন কোনো কাজে আসেনি। বলা হয়েছিল, এটি হবে উপজেলা পরিষদের মিনি মার্কেট। কিন্তু অপরিকল্পিতভাবে নির্মাণ করা ভবনটি এখন কেবল ময়লা-আবর্জনার ভাগাড় আর পাবলিক টয়লেট হিসেবে ব্যবহূত হচ্ছে।

শাল্লা উপজেলা সদরে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৪৫ ফুট দৈর্ঘ্য এবং ২৫ ফুট প্রস্থের এই মিনি মার্কেট ভবন নির্মাণ করা হয়। ভবনের নিচে ও ওপরে দোকান ভাড়া দেওয়ার কথা ছিল। আর ভাড়ার টাকা পাওয়ার কথা ছিল উপজেলা পরিষদের। ওপরে ওঠার একটি সিঁড়িও নির্মাণ করা হয়। ওপরে দরজা-জানালাহীন ৭টি দোকান এবং নিচে একেবারে খোলা রাখা হয়। তবে ২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর ওই উপজেলার প্রকৌশলী মোহাম্মদ মতিউল্লা অবসরে যাওয়ার পর থেকেই ভবনটি এক প্রকার পরিত্যক্ত থাকে।

ভবনটির নিচে বসা দোকানি বাহাড়া'র খেলু রায় জানালেন, 'শূন্য ঘর, চারদিক খোলা দেখে আমরা এখানে বসি; পান-সুপারি বিক্রি করি। ফুটপাতে বসলে বাজারের ইজারাদারকে ১০ টাকা দিতে হয়। এখানে বসলেও ১০ টাকা দিলে চলে। কেউ কারও কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে এখানে বসে না।'

বাজারের ব্যবসায়ী ফজল মিয়া জানালেন, ওপরে গোডাউনের মতো। এক সময় গাঁজাখোর, মদখোরদের আস্তানা ছিল, শয়তানের কারখানা ছিল। এখনও এইসব হয়। তবে প্রস্রাব-পায়খানার গন্ধে এখানে টেকা দায়।

তৎকালীন উপজেলা প্রকৌশলী মতিউল্লা জানালেন, 'এটি করা হয়েছিল উপজেলা পরিষদের আয় বাড়ানোর জন্য। ২০১৫ সালে অবসর নেওয়ার পর কী হয়েছে, আমি বলতে পারব না।'

এদিকে সম্প্রতি বদলি হওয়া শাল্লা উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমানের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'আমি এই ভবন বিষয়ে কিছুই জানি না। এ রকম কোনো ভবন আছে বলেও আমার জানা নেই।'

শাল্লা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলামিন চৌধুরী বলেন, ভবনটি উপজেলা পরিষদকে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে আমার জানা নেই। একে পরিত্যক্ত ভবনই বলা চলে। এ ভবনের কোনো আয় উপজেলা পরিষদ পায় না।

এ বিষয়ে শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মুক্তাদীর আহমদ জানালেন, 'এ ভবনের দোকান বরাদ্দে ঝামেলা ছিল। আমি যোগদানের পর নির্বাচনসহ নানা ব্যস্ততা থাকায় এ বিষয়ে আমার পক্ষে কোনো উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হয়নি।'