কারখানা বন্ধ, তবুও বাড়ছে আল-হাজ্ব টেক্সের দর

বেশিরভাগের দর কমায় আবার নিম্নমুখী সূচক

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

সমকাল প্রতিবেদক

আবারও অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে আল-হাজ্ব টেক্সটাইলের শেয়ারদর। দেড় মাস আগে গত ২১ জুলাই শেয়ারটি ৪৩ টাকায় কেনা হয়। প্রায় ৬৩ শতাংশ বেড়ে এখন তা ৭০ টাকায় ঠেকেছে। অবশ্য দুই সপ্তাহ আগে শেয়ারদর ৭৮ টাকা ছাড়িয়েছিল।

কোম্পানিটির দর বাড়ার বাস্তবভিত্তিক কোনো কারণও নেই বলে মনে করেন বাজারসংশ্নিষ্টরা। কেননা সুতার বিক্রি ব্যাপক হারে কমে যাওয়ায় কোম্পানিটির কারখানা বন্ধ রয়েছে। মজুদ সুতা বিক্রি শেষ না হওয়ায় কয়েক দফা উৎপাদন বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছে কোম্পানি নিজেই। এরপরও লাফিয়ে লাফিয়ে দর বাড়ছে এটির। বাজার সূত্র জানায়, কারসাজির মাধ্যমেই দর বাড়াচ্ছে একটি চক্র। এ কারণে গতকাল সোমবারও শেয়ারটি সার্কিট ব্রেকার নির্ধারিত সর্বোচ্চ দরে কেনাবেচা হয়েছে। লেনদেনের শেষ পর্যন্ত ছিল বিক্রেতাশূন্য অবস্থায়।

আল-হাজ্ব টেক্সটাইলের শেয়ারদর গতকাল সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠলেও দেশের দুই শেয়ারবাজারে আবারও অধিকাংশ কোম্পানি দর হারিয়েছে। প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইতে ৭৪ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের দরবৃদ্ধির বিপরীতে ২৩৭টি দর হারিয়েছে এবং অপরিবর্তিত ছিল ৪২টির দর। অর্থাৎ লেনদেন হওয়া দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি শেয়ার দর হারিয়েছে। দ্বিতীয় শেয়ারবাজার সিএসইতে দর হারিয়েছে ৭২ শতাংশেরও বেশি শেয়ার।

এতে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২৫ পয়েন্ট হারিয়ে ৫০০৯ পয়েন্টের নিচে নেমেছে। সিএসইর প্রধান সূচক সিএসসিএক্স প্রায় ৩৭ পয়েন্ট হারিয়ে নেমেছে ৯২৪৭ পয়েন্টে। দুই বাজার মিলে কেনাবেচা হয়েছে ৪৭৬ কোটি ৫০ লাখ টাকার শেয়ার। ডিএসইর লেনদেন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গতকাল এ বাজারে পাট খাত ছাড়া সব খাতে দরপতনের ছোঁয়া লেগেছে। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস গত রোববারও অধিকাংশ শেয়ার দর হারায়। তবে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও টেলিযোগাযোগ খাতের অধিকাংশ শেয়ারের দরবৃদ্ধি ওই দিন সূচককে ঊর্ধ্বমুখী রেখেছিল। গতকাল এসব খাতের অধিকাংশ শেয়ারের দর কমেছে। তাই সূচককে নিম্নমুখী করার ক্ষেত্রে এসব শেয়ারের ভূমিকা ছিল বেশি। তবে সবচেয়ে বেশি দর হারিয়েছে বীমা খাতের শেয়ার। গড়ে পুরো খাতের সোয়া ২ শতাংশ দরপতন হয়েছে।

দেখা গেছে, ব্যাংক খাতের ৩০ কোম্পানির মধ্যে মাত্র তিনটির দর বেড়েছে, কমেছে ১৮টির। একইভাবে আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের ২২ কোম্পানির মধ্যে ১৫টির, বীমা খাতের ৪৭ কোম্পানির মধ্যে ৩৮টির, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের ১৯ কোম্পানির মধ্যে ১৩টির, প্রকৌশল খাতের ৩৮ কোম্পানির মধ্যে ৩২টির, বস্ত্র খাতের ৫৫ কোম্পানির মধ্যে ৪০টিরই দরপতন হয়েছে।

গতকাল একক কোম্পানি হিসেবে সর্বাধিক প্রায় ১৩ শতাংশ দর হারিয়ে ইউনাইটেড পাওয়ার ৩৩৯ টাকায় নেমেছে। বোনাস লভ্যাংশ-সংক্রান্ত দর সমন্বয়ের কারণে শেয়ারটির দর কমেছে। তবে গ্লোবাল, ঢাকা, ইসলামিক ও সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স ৫ থেকে ৭ শতাংশ দর হারিয়ে ছিল দরপতনের শীর্ষে। এমন দরপতনে আল-হাজ্ব টেক্সটাইল ছাড়াও জেমিনি সি ফুডস, ওয়াটা কেমিক্যাল, দুলামিয়া কটন, ডেল্টা স্পিনার্স, ন্যাশনাল ফিড মিলস ও ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের শেয়ারদর ৫ থেকে পৌনে ৯ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।

আল-হাজ্ব টেক্সটাইলের দরবৃদ্ধি :গত বছরও প্রায় একই সময়ে শেয়ারটির দরে ব্যাপক উল্লম্ম্ফন হয়েছিল। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে অগ্রণী ব্যাংকে রাখা আমানতের সুদসহ পুরো অর্থ ফেরত পেতে যাচ্ছে- এমন খবর ছিল ওই সময়ে দর বৃদ্ধির কারণ। কিন্তু গত জানুয়ারিতে সুদসহ আমানতের অর্থ ফেরত পেতে আদালতের রায় নিজের পক্ষে এলেও দর হারাতে থাকে শেয়ারটি। গত ১৫ জানুয়ারি ১২৩ টাকায় ওঠার পর প্রায় টানা দরপতনে শেয়ারটির দর গত ২১ জুলাই এক-তৃতীয়াংশে (৪৩ টাকা) নেমে এসেছিল। এরপর থেকে শুরু হয়েছে নতুন করে দরবৃদ্ধি।

এমন দরপতনের মধ্যে গত ২৫ জুন সুতার বিক্রি ব্যাপক হারে কমে যাওয়ায় কোম্পানিটি ওইদিন থেকে ৩০ দিন কারখানা বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়। এর পর আরও চার দফা কারখানা বন্ধের মেয়াদ আড়াই মাস বাড়িয়েছে। এখন পর্যন্ত কারখানাটির উৎপাদন বন্ধ। এরপরও ২১ জুলাইয়ের পর মাত্র পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে শেয়ারটির দর টানা বেড়ে ৭৮ টাকা ছাড়ায়।