মিরপুরের উইকেট-ধাঁধা ক্রিকেটারদের বেশ দুশ্চিন্তায় রেখেছে। এর কারণও আছে, হোম অব ক্রিকেটের উইকেটের বেজমেন্টে ফাটল ধরায় চাহিদামতো উইকেট বানানো সম্ভব হয়নি। তামিম ইকবালের মতো বড় তারকারাও মিরপুরের উইকেট নিয়ে চিন্তায়। দেশের উইকেট নিয়ে আলোচনা নতুন নয়। সংস্করণ অনুযায়ী কোনো দিনই উইকেট দিতে পারেননি কিউরেটররা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটও খেলা হয় স্লো এবং লো উইকেটে। টি২০ বিশ্বকাপের আগে যেমনটা দেখা গেছে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হোম সিরিজে। দেশের মাটিতে নিজেদের মতো উইকেট বানিয়ে বিশ্বের সেরা দুটি দলকে সিরিজ হারানো ফলস কনফিডেন্স দিয়েছিল মাহমুদউল্লাহদের। বিশ্বকাপে যার নেতিবাচক প্রভাব ফেলে টাইগারদের পারফরম্যান্সে। বিশ্বকাপ চলাকালেই বিভিন্ন দেশ থেকে সাবেক ক্রিকেটাররা প্রশ্ন তুলেছিলেন বাংলাদেশের ক্রিকেট পিচ নিয়ে। বিপিএলের অষ্টম আসরের খেলা মাঠে গড়ানোর আগে আবারও আলোচনায় উইকেট। কারণ ক্রিকেটাররা চান রানের উইকেটে বিপিএল টি২০ ম্যাচ খেলতে।

কন্ডিশন নিয়ে কথা শেষ হওয়ার নয়। বছরের পর বছর একই উইকেটে খেলার পরও ক্রিকেটাররা নিজেদের পরিবর্তন করেননি। স্লো এবং লো উইকেটেও যে রান করা যায়, সেটা পাকিস্তানের খেলোয়াড়রা দেখিয়ে গেছেন বিশ্বকাপ শেষে তিন ম্যাচ টি২০ সিরিজ জিতে। এবারের বিপিএল মঞ্চ ব্যাটারদের নতুন করে বদলে নেওয়ার। কারণ এবারের বিপিএলে জাতীয় দল নির্বাচকদের ফোকাস থাকবে বেশি। ২০২২ সালের টি২০ বিশ্বকাপের দলে সুযোগ পেতে ভূমিকা রাখবে বিপিএলের পারফরম্যান্স। তাই ভালো ক্রিকেট খেলতে সাকিবের মতো টি২০ ফেরিওয়ালাও স্পোর্টিং উইকেট আশা করছেন মিরপুরে, 'আমি বিশ্বাস করি ভালো স্পোর্টিং উইকেট হবে। যেখানে সবার জন্য কিছু না কিছু থাকবে। আশা করছি, ভালো একটা ম্যাচ দিয়ে বিপিএল শুরু হবে।' পিচের বৈশিষ্ট্যের কারণে ঢাকার উইকেটে জমাট ম্যাচ না হলেও চট্টগ্রামের উইকেট বরাবরই ভালো। ভারতীয় কিউরেটর প্রবীন হিঙ্গিকার রানের উইকেট তৈরি করেন। ব্যাটাররাও মুখিয়ে থাকেন চট্টগ্রামে খেলার জন্য। উইকেট যেমনই হোক, সবার জন্য সমান সুবিধা থাকার কথা। বিশেষ করে দিনের ম্যাচগুলো ভালো যাবে রোদ থাকায়। সন্ধ্যার ম্যাচে শিশিরের প্রভাব থাকবে বেশি। উইকেট এবং শিশির মিলে টস গুরুত্বপূর্ণ দ্বিতীয় ম্যাচে।

কন্ডিশন যেমনই থাক, এবারের বিপিএলে ক্রিকেটারদের ভালো খেলার সম্ভাবনা বেশি। টানা খেলার মধ্যে থাকায় দারুণ ছন্দে আছেন দেশি ক্রিকেটাররা। জাতীয় লিগের খেলা শেষ করে বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ (বিসিএল) খেলেছেন তারা। লাল বলে খেলা শেষ করে সাদা বলে ওয়ানডে টুর্নামেন্টও রেখেছিল বিসিবি। সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত একদিনের ম্যাচের টুর্নামেন্টে সাকিব, তামিম, মাহমুদউল্লাহরাও খেলেছেন বিপিএলের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে। যে কারণে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো দেরিতে অনুশীলন শুরু করলেও মাঠের পরফরম্যান্সে প্রভাব ফেলার কথা নয়। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিবের বিশ্বাস, ছয় দলের বিপিএলে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলা হবে, 'ছয়টি দলকেই একই রকম মনে হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, একটা দুইটা ম্যাচ গেলে অনেক বেশি পর্যালোচনা করা সম্ভব। এখন যেটা মনে হচ্ছে, ভালো ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলা হবে এবার।' দেশিদের মতো বিদেশি ক্রিকেটাররাও মোটামুটি খেলার ভেতরেই ছিলেন। সেদিক থেকে দেখলে রানের উইকেট দেওয়া হলে চার-ছক্কার ফুল ফুটতে পারে নিউ নরমাল সময়ের বিপিএলে। বিশ্বকাপে ব্যর্থ হলেও খুলনার অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম বিপিএলকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন। তার মতে, 'টি২০ সংস্করণে খেলা সত্যিই অনেক চ্যালেঞ্জিং। আর বিপিএল টি২০তে আমাদের সবচেয়ে বড় লিগ। বিশ্বব্যাপী বিপিএলের একটা সুনাম আছে। এখানে কোয়ালিটি ক্রিকেট হয়, মানস্মপন্ন বিদেশি ক্রিকেটারও আছে। অবশ্যই একটা চ্যালেঞ্জ তো থাকেই। যে কোনো দলই চ্যাম্পিয়ন হতে চায়। আমরাই চাই ইনশাআল্লাহ? শুরুটা খুব গুরুত্বপূর্ণ, কাল শুরু হচ্ছে। শীর্ষ দুইয়ে থেকে যেন লিগ পর্ব শেষ করতে পারি, সেই চেষ্টা করব। আশা করি একটা শিরোপা যেন জিততে পারি, আর সেটা যেন এ বছরই হয়।' জাতীয় দলের টি২০ অধিনায়ক সব সময় ভালো শুরুর পক্ষে। ঢাকার নেতৃত্বেও খুলনার বিপক্ষে ভালো একটা শুরু আশা করছেন তিনি, 'আমরা শুরুটা কেমন করি এটা গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি দলই খুব ভারসাম্যপূর্ণ। ভালো শুরু পেলে টুর্নামেন্টে ছন্দ পাব।' সব কিছু একবিন্দুতে মিলে গেলে করোনাকালের বিপিএলও উন্মাদনা ছড়াতে পারবে দর্শক হৃদয়ে।

মন্তব্য করুন