টি২০ একাদশে ছিলেন কেবল মুস্তাফিজুর রহমান। আর আইসিসির বর্ষসেরা ওয়ানডে একাদশে জায়গা করে নিয়েছেন সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম ও মুস্তাফিজুর রহমান। বর্ষসেরা ওয়ানডে দলে বাংলাদেশ থেকে সর্বোচ্চ তিনজন জায়গা পেয়েছেন। বাংলাদেশ যে ওয়ানডে ফরম্যাট ভালো খেলে, এ যেন তারই প্রমাণ। গতকাল বর্ষসেরা টেস্ট একাদশও ঘোষিত হয়েছে। সেখানে অবশ্য কোনো বাংলাদেশি নেই।

দক্ষিণ আফ্রিকা, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও আয়ারল্যান্ড থেকে দু'জন করে ওয়ানডে একাদশে জায়গা পেয়েছেন। তবে ভারত, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড ও উইন্ডিজ থেকে একজনও ওয়ানডে দলে আসতে পারেননি। এই বড় দলগুলো থেকে কোনো খেলোয়াড় ওয়ানডে একাদশে না থাকাটা অবশ্যই অবাক ব্যাপার। তবে এর পেছনে যৌক্তিক কারণও রয়েছে। গত বছর টি২০ বিশ্বকাপ থাকায় প্রায় সব দলই কুড়ি ওভারের ম্যাচ বেশি খেলেছে। ২০২১ সালে সবচেয়ে বেশি ১৫টি ওয়ানডে খেলেছে শ্রীলঙ্কা। এরপর আয়ারল্যান্ড ১৪টি, বাংলাদেশ ১২টি, দক্ষিণ আফ্রিকা ১০টি, ইংল্যান্ড ও উইন্ডিজ ৯টি করে, ভারত ও পাকিস্তান ৬টি করে এবং অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড খেলেছে মাত্র ৩টি করে ম্যাচ। এই ম্যাচগুলোর পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে এই একাদশ গড়া হয়েছে। তার পরও বাংলাদেশ থেকে সর্বোচ্চ তিনজন স্থান পাওয়াকে সার্বিকভাবে উন্নতি হিসেবেই দেখছেন সাকিব। গতকাল মিরপুর একাডেমি মাঠে বিপিএল অনুশীলনের ফাঁকে এ বিষয়ে সাকিব বলেন, 'আইসিসি থেকে স্বীকৃতি পেলে তো ভালোই লাগে। বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য খুব ভালো লক্ষণ এটা। কয়েক বছর ধরেই আমার কাছে মনে হয়, ওয়ানডেতে আমরা বেশ ভালো দল, দেশ এবং দেশের বাইরেও। বাংলাদেশ যে ওয়ানডেতে ভালো ক্রিকেট খেলছে, এটা তারই একটা স্বীকৃতি।'

৫০ ওভারের ক্রিকেটে বছরজুড়েই আলো ছড়িয়েছেন সাকিব আল হাসান। ৯টি ওয়ানডে খেলে তিনি ব্যাট হাতে ৩৯.৫৭ গড়ে ২৭৭ রান ও বোলিংয়ে ১৭.৫২ গড়ে নেন ১৭ উইকেট। ওয়ানডে বর্ষসেরা হওয়ার লড়াইয়েও আছেন ৩৪ বছর বয়সী এই তারকা। সেখানে তার সঙ্গে লড়াইয়ে আছেন বাবর আজম, পল স্টার্লিং ও ইয়ানেমান মালান। মুশফিকুর রহিম বর্ষসেরা ওয়ানডে একাদশে জায়গা পেয়েছেন উইকেটকিপার ব্যাটার হিসেবে, যদিও কিপিংয়ে তিনি এখন অনিয়মিত। সাকিবের মতো মুশফিকও ৯টি ওয়ানডে খেলেছেন। ৫৮.১৪ গড়ে ৪০৭ রান করেছেন তিনি। মুস্তাফিজের জায়গা পাওয়াটা প্রত্যাশিতই ছিল। ১০ ওয়ানডেতে ২১.৫৫ গড়ে ১৮ উইকেট নিয়েছেন বাঁহাতি এ পেসার।

টি২০ একাদশের অধিনায়কের মর্যাদা পাওয়া বাবর আজম ওয়ানতেও এই দায়িত্ব পেয়েছেন। অবশ্য শুধু নেতৃত্বগুণে নয়, বছরজুড়ে ওয়ানডেতে দুর্দান্ত পারফর্ম করে দলে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। গত বছর ৬টি ওয়ানডে খেলে দুটি সেঞ্চুরিসহ ৬৭.৫০ গড়ে ৪০৫ রান করেছেন। পাকিস্তান থেকে জায়গা পাওয়া আরেকজন ফখর জামানও দারুণ ছন্দে ছিলেন। ৬টি ওয়ানডেতে দুটি সেঞ্চুরিসহ ৬০.৮৩ গড়ে ৩৬৫ রান করেন। আয়ারল্যান্ডের পল স্টার্লিংয়ের গত বছরটা কেটেছে স্বপ্নের মতো। ১৪ ওয়ানডেতে তিন সেঞ্চুরিতে ৭৯.৬৬ গড়ে বছরের সর্বোচ্চ ৭০৫ রান করেন তিনি।

বর্ষসেরা টেস্ট একাদশ :দিমুথ করুনারত্নে, রোহিত শর্মা, কেন উইলিয়ামসন (অধি.), জো রুট, মারনস ল্যাবুশান, ফাওয়াদ আলম, ঋষভ পান্থ, রবিচন্দ্র অশ্বিন, কাইল জেমিসন, হাসান আলী, শাহিন আফ্রিদি।

মন্তব্য করুন