বিপিএলের প্রতি আসরেই বিদেশি কোচের সঙ্গে থাকে দেশিও। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ছয় দলের মধ্যে যেমন বিদেশি কোচ আছে, ঠিক দেশিও। তবে অনুপাতটা এবার ৩ :৩। কাকতালীয়ভাবে মিলে গেল! অর্থাৎ ছয় দলের মধ্যে তিনজন দেশি কোচ, বাকি তিনজন বিদেশি। তাতে জম্পেশ একটা টক্কর আশা করাই যায়। যদিও ক্রিকেটে ফুটবলের মতো কোচের গুরুত্ব তেমন নেই। তবু দল সাজানো, মাঝেমধ্যে ম্যাচের পটপরিবর্তন কিংবা ব্যাটিং অর্ডার ঠিক করা। সেইসঙ্গে কম্বিনেশন মেলানো। আবার নানা প্রান্তের, নানা ধরনের খেলোয়াড়দের একটা ছাতার নিচে নিয়ে আসা, সমন্বয় করা। সর্বোপরি এক করা- এসব কাজে কোচের মুনশিয়ানা কম কীসে। আজ থেকে শুরু হওয়া বিপিএলে দেশি কোচ হিসেবে মিশন শুরু করবেন ফরচুন বরিশালের খালেদ মাহমুদ সুজন, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের মোহাম্মদ সালাউদ্দিন ও মিনিস্টার গ্রুপ ঢাকার মিজানুর রহমান। বিদেশি কোচ হিসেবে আছেন চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের পল নিক্সন, খুলনা টাইগার্সের ল্যান্স ক্লুজনার ও সিলেট সানরাইজার্সের মারভিন ডিলন।

ছয় কোচের মধ্যে বিপিএলে এরই মধ্যে সফল হয়েছেন মোহাম্মদ সালাউদ্দিন ও খালেদ মাহমুদ সুজন। সালাউদ্দিন তো একবার নয় দু-দু'বার চার-ছক্কার এই অঙ্গনে চ্যাম্পিয়ন ট্রফিটা ছুঁয়ে দেখেছেন। ২০১৫ বিপিএলে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। সেবার যাত্রাতেই বাজিমাত করে কুমিল্লা। ফাইনালে বরিশাল বুলসকে হারিয়ে নিজেদের প্রথম ট্রফিটা ঘরে তোলে। এরপর ২০১৯ সালেও সালাউদ্দিনের ওপর আস্থা রাখে কুমিল্লা। ওই বছরও তারা চ্যাম্পিয়ন হয়। ঢাকা ডায়নামাইটসকে হারিয়ে তারা দ্বিতীয় শিরোপা জেতে। সফলতার দেখা পান আরেক বাংলাদেশি খালেদ মাহমুদ সুজনও। ২০১৬ সালে তারকাসমৃদ্ধ দল গড়ে ঢাকা ডায়নামাইটস। আগের আসরে ফাইনাল অবধি গিয়েও শিরোপা হাতছাড়া হওয়ার তিক্ততা ভুলে নতুন উদ্যমে শুরু হয় তাদের যাত্রা। যে যাত্রার পেছনের কারিগর হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয় খালেদ মাহমুদকে। হতাশ হতে হয়নি ঢাকার দর্শকদের। তার সুনিপুণ কোচিং আর দলের ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্সে ভর করে সেবার শিরোপা জিতে নেয় ঢাকা ডায়নামাইটস।

এই তো গেল দেশিদের অর্জনের ঝুলি নিয়ে কথা। বিদেশি কোচদের প্রসঙ্গ টানলে সবার আগে ইয়ান পন্টের নামটা নিতে হবে। বিপিএলের প্রথম দুই আসরে চমক দেখিয়েছিল তার দল ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস। ২০১২ সালে প্রথম শুরু হওয়া বিপিএলে শক্তিশালী দলই গড়ে ঢাকা। আর তাদের আশা বিফলে যায়নি। ইংলিশ কোচ ইয়ান পন্টের নিখুঁত কোচিংয়ে ধরা দেয় আরাধ্যের ট্রফি। ফাইনালে বরিশাল বার্নার্সকে হারিয়ে প্রথম শিরোপা ঘরে তোলে ঢাকা। পরের বছরও ছিল ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের আধিপত্য। সেবারও কোচ ইয়ান পন্ট। দলটির মালিক আর সমর্থকদের স্বপ্নপূরণ হয় আরেকবার। টানা দ্বিতীয় ট্রফির দেখা পায় গ্ল্যাডিয়েটরস। ২০১৭ সালে আরেক ভিনদেশি টম মুডির রংপুর রাইডার্সও সবাইকে চমকে দিয়ে বিপিএলে চ্যাম্পিয়ন হয়। সর্বশেষ ২০২০ সালে ওয়াইজ শাহ পান রাজশাহী রয়্যালসের কোচের দায়িত্ব। সেবার তার কোচিংয়ে দেশি-বিদেশি ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাস যেন আকাশে চাপে। শেষ পর্যন্ত ট্রফিও জেতে রাজশাহী। এবারও দেশি বনাম বিদেশি কোচের ভিন্ন এক লড়াই দেখার অপেক্ষা। ছয় দলের মাঠের ক্রিকেটযুদ্ধের সমাপ্তি হবে ১৯ ফেব্রুয়ারি শিরোপা ফয়সালার মধ্য দিয়ে। সেদিনই মিলে যাবে উত্তর- এবার দেশি কোচের হাতে, নাকি বিদেশি কারও হাতে যায় বিপিএলের ট্রফিটা।

মন্তব্য করুন