দর্শকহীন প্রথম বিপিএল
 বিপিএল চালু হওয়ার পর থেকে মাঠে দর্শক উপস্থিতিতে খেলা হয়েছে। আগের সাত আসরে সব ম্যাচেই ছিল দর্শক। এই প্রথম দর্শকহীন স্টেডিয়ামে খেলা হবে বিপিএল। বিসিবিরও পরিকল্পনা ছিল দর্শক নিয়ে বিপিএল চালাবে। কিন্তু হঠাৎ করে দেশে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় সরকার জনসমাগম নিষিদ্ধ করেছে। সরকারের নির্দেশ বাস্তবায়ন করতেই আজ বিপিএল মাঠে গড়াবে দর্শকহীন। দেশে করোনা মহামারি শুরুর পর থেকেই দর্শক ছাড়া খেলা হয়েছে। ২০২০ সালে বায়োসিকিউর বাবলে সীমিত পরিসরে শুরু করা হয়েছিল ঘরোয়া ক্রিকেট। ১ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় সিরিজেও ছিল না দর্শক। গত বছরের শেষদিকে পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিপক্ষীয় সিরিজটি হয় স্টেডিয়ামের মোট আসনের ৫০ ভাগ দর্শক উপস্থিতিতে। ২০২১ সালের মতো ২০২২ সালটাও শুরু হলো দর্শকহীন ক্রিকেট অভিযান।


 শেষ পর্যন্ত ডিআরএস জোগাড় করা গেল না

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে আন্তর্জাতিক সিরিজ চলায় হকআই কোম্পানি বিসিবিকে ডিআরএস প্রযুক্তি সরবরাহ করতে পারছে না। যে কারণে বঙ্গবন্ধু বিপিএল টি২০ টুর্নামেন্টে থাকছে না ডিআরএস। বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ইসমাইল হায়দার মল্লিক বলেন, 'হকআই চেষ্টা করেও ডিআরএস চালানোর টেনকিশিয়ান পাচ্ছে না। বিশ্বের মোট টেকনিশিয়ানের ৫০ ভাগ বর্তমানে কাজ করছে। কভিড পরিস্থিতির কারণে বাকিরা ট্রাভেল করছে না। সে কারণেই বিপিএলে ডিআরএস রাখা সম্ভব হয়নি।' ডিআরএস প্রযুক্তি পেতে বিসিবি থেকে আইসিসির সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছিল। বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থাও অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছে হাত গুটিয়ে নিয়েছে। ডিআরএস না থাকায় মাঠে উত্তেজনা দেখা দিতে পারে আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত নিয়ে।



প্রতি দলে বিসিবি এসিইউ কর্মকর্তা
বিপিএলের প্রতি আসরে সন্দেহজনক নানা ঘটনা ঘটে। ক্রিকেটারদের অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়ার মতো ঘটনা রিপোর্ট হয়েছে ২০২০ সালের বিপিএলেও। একটি ফ্র্যাঞ্চাইজিকেও এক পর্যায়ে দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে দেওয়া হয়নি। এবার স্পট ফিক্সিংয়ের মতো বিতর্কিত ইস্যু থেকে মুক্ত রাখতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বিসিবি থেকে। প্রতিটি দলের সঙ্গে রাখা হয়েছে একজন করে বিসিবির অ্যান্টিকরাপশন ইউনিটের কর্মকর্তাকে। হোটেল ও মাঠে সবার ওপর নজর রাখছেন তারা। ক্রিকেটারদের জুয়াড়িদের হাত থেকে বাঁচাতেই এ উদ্যোগ। গতকাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে প্রতিটি দলের অনুশীলনে বিসিবি এসিইউ কর্মকর্তার উপস্থিতি দেখা গেছে।


টানাটানির সংসারে সীমিত বিদেশি
এবারের বিপিএলের প্লেয়ার্স ড্রাফটের তালিকায় বিদেশি ক্রিকেটার ছিল চারশ জনের বেশি। যেখানে ৪৯ জনই ছিলেন শ্রীলঙ্কান। ড্রাফটের বাইরে থেকেও বেশিরভাগ ফ্র্যাঞ্চাইজি বিদেশি কোটায় লঙ্কান ক্রিকেটার দলে নিয়েছিল। কিন্তু দেশটির ক্রিকেট বোর্ড ছাড়পত্র না দেওয়ায় বিকল্প বিদেশি ক্রিকেটার খুঁজে পেতে ঘাম ছুটে গেছে ফ্র্যাঞ্চাইজি ম্যানেজমেন্টের। বেশিরভাগ বিদেশি ক্রিকেটারকেই টুর্নামেন্টের শুরুতে পাওয়া যাচ্ছে না। বেশ কয়েকটি ফ্র্যাঞ্চাইজি তিনজন করে বিদেশি রাখতে পারছে ড্রেসিংরুমে। কোনো একজন চোটে পড়লে পরের ম্যাচে মাঠে দল নামানো কঠিন হয়ে পড়বে।


 বিপিএলে এই প্রথম ৮ জন দেশি
বিপিএলের প্রথম থেকে সপ্তম আসর পর্যন্ত সাতজন দেশি ও চারজন বিদেশি ক্রিকেটার খেলেছে। এই প্রথম দেশি ক্রিকেটার বাড়িয়ে কমানো হয়েছে বিদেশি। আটজন দেশি ক্রিকেটারের বিপরীতে বিদেশি খেলতে পারবে তিনজন। স্কোয়াডে রাখা যাবে আটজন বিদেশি। সেখান থেকেই একাদশে তিনজন নেওয়া যাবে। এবার দেশি ক্রিকেটার ১৪ জন নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে।

মন্তব্য করুন