খেলোয়াড়রা ভালো করলে কোচদেরও কৃতিত্ব বাড়ে। ক্রিকেটারদের নিয়ে বলার মতো কিছু উপাত্ত পান। গতকাল লিটন কুমার দাস ও মুশফিকুর রহিমে নিয়েও তেমন স্তুতি গাইলেন ব্যাটিং কোচ অ্যাশওয়েল প্রিন্স। লিটনের ব্যাটিংয়ের গুণমুগ্ধ প্রশংসা করলেন তিনি। ব্যাটিং কোচ জানালেন, অপরাজিত জুটি আজ ছন্দ ধরে রাখতে পারলে চারশ প্লাস রান জমা হতে পারে স্কোর বোর্ডে। যদিও বাস্তবতা কঠিন। মুশফিক-লিটনের পর সে রকম ব্যাটারই তো নেই টাইগার একাদশে।

২০৪ রানের হার না মানা জুটিতে কল্যাণে ৪ উইকেটে ২৫৩ রানে প্রথম দিন শেষ করে বাংলাদেশ। লিটন ১১৩ আর মুশফিক ৮২ রানে অপরাজিত। প্রায় সোয়া দুই সেশন ব্যাট করে প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরির দেখা পান লিটন। রান তোলায় অনেক কৌশলী ছিলেন উইকেটরক্ষক এ ব্যাটার। প্রিন্সের মতে, 'লিটন আজ যেমন ধীরস্থির ছিল তাতে আমি মুগ্ধ। তার যখন মাসল ক্রাম্প করল সবাই তখন দুশ্চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলাম। আশা করছিলাম সে ফিট হয়ে পুরোটা সময় খেলে দেবে। আজ (গতকাল) রাতে সেরে উঠলে কাল (আজ) যেখানে শেষ করেছে সেখান থেকে শুরু করতে পারবে।' ৪৯ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর ড্রেসিংরুমে চাপ বেড়ে যায়। মুশফিক-লিটনের জুটি হলে স্বস্তি ফেরে। তাই লিটনের সেঞ্চুরির পর উল্লাস হয় ড্রেসিংরুমে। অথচ টি২০ বিশ্বকাপে রান না পাওয়ায় পাকিস্তানের বিপক্ষে টি২০ দল থেকে বাদ দেওয়া হয় তাকে। ব্যাটিং কোচ বিশ্বকাপ প্রসঙ্গে না গিয়ে লিটনের সামর্থ্য সম্পর্কে বললেন, 'আমার মনে হয় যে কেউ দেখে বলবে, লিটন একজন নান্দনিক ব্যাটসম্যান। আপনি তা না দেখে থাকলে জানি না কী দেখেন। আজ সে দেখিয়েছে, সে ক্লাস ব্যাটসম্যান। শেষ টেস্টে ৯৫ রান করেছে। দুর্ভাগ্যজনক সেঞ্চুরিটা হয়নি। আজ সে এক ধাপ এগিয়ে গিয়ে ব্যক্তিগত মাইলস্টোনে পৌঁছেছে। আশা করি সে ও মুশফিক কাল (আজ) জুটি লম্বা করবে।'

বিশ্বকাপ থেকে ফিরে জাতীয় লিগে একটি ম্যাচ খেলেছেন লিটন। রান না পেলেও লাল বলে কিছুটা মানিয়ে নিতে পেরেছেন। টি২০ সিরিজ চলাকালে চট্টগ্রামে করেছেন কন্ডিশনিং ক্যাম্প। গত কয়েকদিন লিটন ব্যাটিং ফাইনটিউন করেছেন বলে জানান প্রিন্স, 'টেস্টের প্রস্তুতির জন্য সে এখানে আগে এসেছে। এক-দুটি ছোট টেকনিক্যাল বিষয় নিয়ে কাজ করেছি আমরা। স্ট্যান্স এবং ব্যাটিং অ্যালাইনমেন্ট ঠিক করে দেওয়া হয়েছে। সে যখন ভালো খেলে দেখে মনে হয় ব্যাটিং কতটা সহজ।'

মন্তব্য করুন