লাসিথ মালিঙ্গা ও রশিদ খানের পর তৃতীয় বোলার হিসেবে টি২০ ক্রিকেটে টানা চার বলে চার উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়লেন আইরিশ পেসার কার্টিস ক্যাম্ম্ফার। আগের দু'জনই এ কীর্তি গড়েছিলেন ২০১৯ সালে। আর ক্যাম্ম্ফার টি২০ বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম বোলার হিসেবে বিরল এই 'ডাবল হ্যাটট্রিক' করলেন। এমন একটি ওভারের পর আসলে ম্যাচের ফলাফল নিয়ে কোনো সংশয় থাকার কথা নয়। নেদারল্যান্ডসের ১০৬ রান ২৯ বল হাতে রেখে ৩ উইকেট খুইয়ে টপকে যায় আয়ারল্যান্ড।\হইতিহাস গড়ার দিনে ক্যাম্ম্ফারের বোলিংয়ের শুরুটা কিন্তু ভালো ছিল না। প্রথম বলেই চার হজম করেন তিনি। তবে ওয়াইড দিয়ে শুরু করা দ্বিতীয় ওভারটিতে ইতিহাস গড়েন। কলিন অ্যাকারম্যানকে করা তার দ্বিতীয় ডেলিভারিটি ছিল লেগ স্টাম্পের বাইরে। কিন্তু এই বাজে বলটি ঠিকমতো খেলতে পারেননি অ্যাকারম্যান। আইরিশ ফিল্ডাররা কটবিহাইন্ডের জোরালো আবেদন করলেও তাতে সাড়া দেননি আম্পায়ার রড টাকার, উল্টো ওয়াইড ডেকেছিলেন তিনি। কিন্তু রিভিউতে ধরা পড়ে অ্যাকারম্যানের গ্লাভসে ছুঁয়ে উইকেটকিপারের কাছে গেছে বল। পরের বলে দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে অভিজ্ঞ রায়ান টেন ডোয়েশ্চেকে এলবির ফাঁদে ফেলেন ক্যাম্ম্ফার। স্কট এডওয়ার্ডকে করা হ্যাটট্রিক বলটিও ছিল একই রকম। এবারও প্যাডে লাগলে আউট দেননি আম্পায়ার। আইরিশ অধিনায়ক রিভিউ নিলে হ্যাটট্রিক পূরণ হয় ক্যাম্ম্ফারের। টি২০ বিশ্বকাপে এটি দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক। প্রথম আসরে বাংলাদেশের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেছিলেন অস্ট্রেলিয়ান পেসার ব্রেট লি। আর আইরিশদের হয়ে টি২০ ক্রিকেটে এটি প্রথম হ্যাটট্রিক। অবশ্য তখনও চমকের বাকি ছিল। ক্যাম্ম্ফারের পরের বলটি ফন ডার মারউই ব্যাট দিয়ে স্টাম্পে টেনে আনলে টি২০ বিশ্বকাপে প্রথম চার বলে চার উইকেটের কীর্তি গড়েন ক্যাম্ম্ফার।\হদলকে জিতিয়ে দেওয়া এমন একটি ওভারের পর আসলে ম্যাচসেরার পুরস্কার নিয়ে কারও কোনো দ্বিধা ছিল না। ঠিক তেমনি আম্পায়ার ওয়াইড ডাকলেও ব্যাটার যে আউট ছিলেন, সেটাও নাকি নিশ্চিত ছিলেন ২২ বছরের ক্যাম্ম্ফার, 'আমি নিশ্চিত ছিলাম যে সেটা গ্লাভসে লেগেছে। আমি শব্দ শুনেছি। আর হ্যাটট্রিক উইকেটের সময়ও আমি নিশ্চিত ছিলাম যে বল লেগ স্টাম্পে আঘাত হানবে।' তবে এমন একটি বিরল ইতিহাসের জন্ম দিলেও তিনি নাকি খুব একটা ভালো বোধ করছিলেন না, 'আসলে পিঠের চোট থেকে ফেরায় খুব একটা ভালো বোধ করছিলাম না। আমি কেবল সঠিক লেন্থে বল ফেলার চেষ্টা করেছি। প্রথম ওভারটি ভালো না হওয়ার পরও অধিনায়ক আলবিরেনে আমার ওপর আস্থা রাখায় তাকে ধন্যবাদ।'\হজোহানেসবার্গে জন্ম নেওয়া এই পেস বোলিং অলরাউন্ডার কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকা অনূর্ধ্ব-১৯ দলে খেলেছেন। তবে প্রোটিয়া জাতীয় দলে খেলতে পারবেন কিনা, সেটা নিয়ে সংশয়ে ছিলেন। ২০২০ সালের শুরুতে মাতৃভূমি ছেড়ে আইরিশ পাসপোর্ট নেন মূলত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার জন্যই। তাকে আয়ারল্যান্ডের পক্ষে খেলার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন সাবেক আইরিশ উইকেটকিপার নেইল ও'ব্রায়েন।

মন্তব্য করুন