কে না জানে, বাংলাদেশ ব্যাকফুটে থাকলে প্রবল প্রতিপক্ষকেও উড়িয়ে দিতে জানে। রেকর্ডবুকে এমন অনেক ম্যাচ জয়ের ইতিবৃত্ত লেখা রয়েছে। সেখানে ওমানের মতো একটি দলের বিপক্ষে জিততে পারবে না- তেমন ভাবনা না ভাবাই ভালো। কোচ রাসেল ডমিঙ্গো কোনো রকম নেতিবাচক ভাবনার মধ্যে নেই। অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিমরা জেতার মানসিকতা নিয়ে অপেক্ষা করছেন আজকের ম্যাচের জন্য। রোববারের দুঃস্মৃতি ভুলে জয়ের পথে ফেরার স্বপ্ন দেখছেন না, এমন একজন ক্রিকেটারও বাংলাদেশ দলে খুঁজে পাওয়া যাবে না। বরং কেউ কেউ তো বলছেন, বাংলাদেশের বিশ্বকাপ শুরুই হবে আজ থেকে এবং জয় দিয়ে, স্বাগতিক ওমানের বিপক্ষে।

মাহমুদউল্লাহরা যেভাবে চিন্তাভাবনা করেন তাতে করে নতুন শুরুর ভাবনা নিয়ে লেখাই ভালো। সেভাবে দেখার সুযোগও রয়েছে। অলআউট ক্রিকেটে খেলে ওমানকে হারাতে পারলে শেষ ম্যাচটি পাপুয়া নিউগিনির বিপক্ষে কঠিন হবে না। পরিসংখ্যানগত কোনো জটিলতা দেখা দিলে সেটাও মেরামত করা যাবে। টাইগারদের টানা দুই ম্যাচ জিতে নিলে তিন দলের সমান চার পয়েন্ট হতে পারে। সেক্ষেত্রে স্কটল্যান্ডকে ওমানের কাছে হারতে হবে। এই বিশ্বকাপে সেটা না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। সুতরাং সুপার টুয়েলভের পথ ভালোভাবেই খোলা রয়েছে টাইগারদের সামনে। গতকাল রাসেল ডমিঙ্গো যেমন বললেন, 'ওমান ভালো খেলছে। তারা পরের ধাপে যেতে চায়। আমাদের জন্য ম্যাচটি কঠিন হবে জানি। তবে ছেলেরা জানে সেরা ক্রিকেটটা খেলা গেলে আমাদের ভালো সুযোগ থাকবে। ওমানকে সম্মান দেখাতে হবে। তাদের আত্মবিশ্বাস আছে। তারা ঘরের মাঠে খেলছে। প্রথম ম্যাচটি ভালোভাবেই জিতেছে। তবে আমরা তাদের ওপর ফোকাস করছি না। আমরা নিজেদের পারফরম্যান্স এবং স্কিলে ফোকাস করব।'

স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে বেশ কিছু ভুল ছিল। ব্যাটিং লাইনআপে ত্রুটি রেখেছিলেন কোচ। বোলার নির্বাচনেও পরিকল্পিতভাবে করা হয়নি। সন্ধ্যায় ম্যাচ হওয়ায় শিশিরে ফোকাস ছিল বেশি। পেস বোলার বাড়াতে গিয়ে সৌম্য সরকারকে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। হঠাৎ করেই তাসকিন আহমেদকে নিয়ে আসা হয়েছে সামনে। অথচ বিশ্বকাপের আগে দ্বিপক্ষীয় সিরিজগুলোতে মুস্তাফিজুর রহমান ও সাইফউদ্দিনের পরই ছিলেন বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলাম। বিশ্বকাপের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সেট পরিকল্পনা থেকে কোচের সরে আসা বিস্ময়কর। এ ছাড়াও বড় সমস্যা হচ্ছে ব্যাটিং অর্ডার নিয়ে। রানের ছন্দে না থাকলেও সাকিব আল হাসানকে তিন নম্বরে খেলাতে হচ্ছে। গতকাল কোচ ডমিঙ্গোর কাছে এ নিয়ে জানতে চেয়েছিলেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। জুম মিটিং শেষ করে বিসিবিপ্রধান মিডিয়াকে বলেন, 'নাঈমকে সারা বছর ধরে খেলালেন, ওয়ার্ল্ডকাপের জন্য প্রস্তুত করলেন, তাহলে বিশ্বকাপ ম্যাচে তাকে নামালেন না কেন? একজন খেলোয়াড়ের সঙ্গে কোচের সমস্যা থাকতে পারে। একজন খেলোয়াড়ের সঙ্গে আরেকজন খেলোয়াড়ের সমস্যা থাকতে পারে। এটা ব্যক্তিগত ব্যাপার। কিন্তু যখন দেশের জন্য খেলবে, তখন সব ভুলে যেতে হবে।'

বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন স্কটল্যান্ডের কাছে হারের জবাব চাওয়ার পর টিম ম্যানেজমেন্টকে নড়েচড়ে বসতে হচ্ছে। তিনি ফিরে যেতে চান পুরোনো কম্বিনেশনে। নাঈম শেখ ওপেনিংয়ে ফিরছেন। স্পিন বিভাগেও শক্তি বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ডানহাতি-বাঁহাতি সমন্বয় করে ব্যাটিং অর্ডার করার চিন্তা কোচের, 'আমি সব সময় ডানহাতি-বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের জুটি রাখতে পছন্দ করি। একই ধরনের ব্যাটসম্যান একসঙ্গে না রাখার পক্ষে আমি। আমরা ব্যাটিং গভীরতা নিয়ে আলোচনা করেছি। খুব বেশি পরিবর্তন হবে না। এক বা দুটি জায়গায় পরিবর্তন হতে পারে।' সেদিক থেকে সাকিবকে চারে পাঠিয়ে মুশফিককে তিন নম্বর অর্ডার দেওয়া হতে পারে।

মন্তব্য করুন