ঢাকার বাইরের ক্রিকেটাররা অনুশীলনে

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২০     আপডেট: ১১ জুলাই ২০২০

ক্রীড়া প্রতিবেদক

করোনাভাইরাসের কারণে দেশে খেলাধুলা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ১৬ মার্চ থেকে। এর এক দিন পর স্থগিত করা হয়েছে ক্রিকেট। ভাইরাসের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় সেই থেকে সব ধরনের অনুশীলনও বন্ধ রেখেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ঢাকায় বসবাসরত ক্রিকেটাররা 'হোম ফিটনেস ট্রেনিং' করলেও মাঠের সুবিধা নিতে পারছেন না। জেলা ও বিভাগীয় শহরের ক্রিকেটাররা ঠিকই মাঠে নেমে পড়েছেন। নিয়ম করে ফিটনেস ট্রেনিংয়ের পাশাপাশি ব্যাটে-বলের স্কিল ট্রেনিংও করছেন অনেকে।

রাজশাহীর ক্রিকেটাররা মাঠে নিয়মিত

দেশের ক্রিকেটারদের একটা বড় অংশ আসেন রাজশাহী থেকে। ফরহাদ রেজা, জহুরুল ইসলাম অমি, ফরহাদ হোসেন, মুক্তার আলী, নাজমুল হোসেন শান্ত, সাকলাইন সজীব, সাব্বির রহমান, সানজামুল নয়নরা রাজশাহীর ক্রিকেটার। সাকলাইন জানান, সামাজিক দূরত্ব মেনে নিয়মিত অনুশীলন করেন তারা। করোনাভাইরাসের কারণে ঢাকা লিগ বন্ধ হওয়ার পরই তারা ফিরে গেছেন রাজশাহী। খোলা মাঠে নিয়ম করে ফিটনেস ট্রেনিং করতে কোনো অসুবিধা হচ্ছে না। জহুরুল ইসলাম জানান, প্রথম দিকে দূরত্ব রেখে চার-পাঁচজনের গ্রুপ হয়ে প্র্যাকটিস করলেও বর্তমানে আলাদা আলাদা অনুশীলন করছেন। বর্ষা মৌসুম হলেও শহীদ কামরুজ্জামান স্টেডিয়াম অনুশীলনের জন্য উপযুক্ত। নিজেদের এই চেনা মাঠেই ঘাম ঝরান রাজশাহীর ক্রিকেটাররা।

রংপুরে নাসিরদের ফিটনেস চর্চা

রংপুরের ক্রিকেটার সোহরাওয়ার্দী শুভ, আরিফ, শুভাশীষ রায়, নাসির হোসেন। ফিটনেস ও ক্রিকেটচর্চা নিয়মিতই করছেন তারা। সোহরাওয়ার্দী জানান, 'পেশাদার ক্রিকেটারদের প্রায় সবাই ফিটনেস নিয়ে কাজ করছে। ঢাকায় থাকলে হয়তো ফিটনেস নিয়ে কাজ করা সম্ভব হতো না। অথচ জেলা শহরে সেটা খুব সহজেই করা যায়। কারণ জেলা শহরে অনেক মাঠ আছে। নদীর পাড় আছে।'

মৌলভীবাজারের ইবাদত পুরোদস্তুর প্রস্তুত

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম প্রস্তুত করা হলেও অনুশীলনের জন্য উন্মুক্ত করা হয়নি। আবু জায়েদ রাহিকে তাই বাড়িতে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় অনুশীলন করতে হচ্ছে। তবে মৌলভীবাজারের ক্রিকেটার ইবাদত হোসেনের জন্য ফিটনেস চর্চা করা সহজ। গতকাল ফোনে এ টেস্ট বোলার সে গল্পই শোনালেন, 'আমার বাড়ি থেকে নয় কিলোমিটার দূরে মাধবকু ু জলপ্রাপাতের ওখানে চলে যাই এক বন্ধুকে নিয়ে। ওখানে খুব নিরিবিলি প্র্যাকটিস করতে পারি। আমার বন্ধু টাইমিং ধরে আর আমি রানিং করি। প্রথম দিকে রানিং করে মাধবকু ু যেতাম, এখন সাইকেল চালিয়ে যাই। জিম ইকুইপমেন্ট কিনেছি, বাড়িতেই জিম করি। আর বাড়ির পাশের রাস্তায় উইকেট বানিয়েছি, সেখানে নেট লাগিয়ে বোলিং করি। এখন বৃষ্টি হওয়ায় বোলিং করতে পারছি না। আমাদের বোলিং কোচ একটা টার্গেট দিয়ে রেখেছেন, ফিটনেস ধরে রাখতে হবে। প্র্যাকটিস শুরু হলে যাতে কোনো সমস্যা না হয়। সেভাবেই কাজ করছি।'

ঢাকায় একলা মুশফিক

মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়াম এখনও ক্রিকেটারদের জন্য উন্মুক্ত করেনি বিসিবি। কবে খোলা হতে পারে, জানা নেই। তাই বাধ্য হয়েই অনুশীলনের জন্য বিকল্প মাঠ খুঁজে নিয়েছেন মুশফিকুর রহিম। বাড্ডায় ফর্টিস স্পোর্টস ক্লাব মাঠে রানিং করে সে ছবিও দিয়েছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। তামিম ইকবাল, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, মোহাম্মদ আশরাফুলরাও ওই মাঠে অনুশীলন করতে চান।

ফেনীতে নিজের পিচ সাইফউদ্দিনের

ফেনী জেলা শহরে ক্রিকেট অবকাঠামো নেই। ক্রিকেটারের সংখ্যাও খুব বেশি নয়। জেলার তারকা ক্রিকেটার বলতে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন একা। তাকে অনুসরণ করে উদীয়মান অনেক ক্রিকেটার তৈরি হয়েছে জেলাটিতে। তাদের নিয়েই সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে অনুশীলন করছেন সাইফউদ্দিন। তিনি বলেন, 'আমি এখানে ভালো আছি। ফিটনেস ট্রেনিং করতে পারছি। বাসার পাশেই জিম আছে, সেখানে নিয়মিত জিম করি। ফেনী কলেজ মাঠে রানিং করি। ব্যাটিংও করেছি কিছুটা। বোলিং করার জন্য মোটামুটি একটা পিচ তৈরি করেছি। রানআপ ও ল্যান্ডিংয়ের জায়গায় ইট বিছিয়ে তার ওপর ঘাস লাগিয়েছি গতকাল। বৃষ্টিতে ভিজেই কাজগুলো করছি। ফেনীর জুনিয়র খেলোয়াড়রা কাজগুলো করতে সহযোগিতা করছে। জাহিদ রেজা বাবু ভাইকে ফোন দিয়ে জেনে নিয়েছি, কীভাবে পিচের কাজগুলো করতে হয়। আরও এক মাস এখানে থাকতে হতে পারে। বোলিং করা খুব প্রয়োজন। এজন্য পিচটা স্থায়ীভাবে করছি। আমার মূল হলো বোলিং। সে কারণে বোলিংয়ের চর্চা রাখতে হচ্ছে। ঢাকা লিগ বা ক্যাম্প শুরু না হওয়া পর্যন্ত এখানেই তো থাকতে হবে।' নিয়মিত শরীরচর্চা করে চার কেজি ওজন কমিয়েছেন সাইফউদ্দিন।