বিকেএসপিতে ফুটবলারদের আইসোলেশন ক্যাম্প!

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২০     আপডেট: ১১ জুলাই ২০২০

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের শেষ তিন ম্যাচের জন্য বেশ কিছুদিন ধরেই পরিকল্পনা করছে বাফুফে। আগস্টের শেষ দিকে শুরু হবে ক্যাম্প। তার আগে আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহ ৪০ জন ফুটবালকে ডাকা হবে। সবার করোনাভাইরাস পরীক্ষা করা হবে। তারপর সেখান থেকে ৩৫ সদস্যের প্রাথমিক দল নিয়ে শুরু হবে আসল প্রস্তুতি। করোনাভাইরাসের কারণে সেই প্রস্তুতি কোথায় হবে, তা নিয়ে এখনও দ্বিধাহীন ঘরোয়া ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। বহির্বিশ্বের মতো বাংলাদেশের ফুটবলে নেই উন্নত মানের ট্রেনিং ব্যবস্থা। আর করোনাকালে সব ফুটবলারকে একসঙ্গে নিয়ে অনুশীলন করাটা আরও ঝুঁকিপূর্ণ। তাই বাফুফে চাচ্ছে ধাপে ধাপে খেলোয়াড়দের ডেকে অনুশীলনের ব্যবস্থা করা। কিন্তু মূল সমস্যা হচ্ছে, জামাল ভূঁইয়াদের জন্য আইসোলেশন সেন্টার খুঁজে বের করা। অতীতে ফারস হোটেলেই ছিল ফুটবলারদের আবাসিক ক্যাম্প। সেখান থেকে বাসে করে ফুটবলাররা চলে যেতেন অনুশীলন ভেন্যুতে। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলে গেছে। করোনার থাবায় এলোমেলো দেশীয় ক্রীড়াঙ্গন। বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ঘরের মাঠে তিনটি ম্যাচের জন্য ফুটবলারদের আইসোলেশন সেন্টারের জন্য বাফুফে ভবন, ফারস হোটেল, বিকেএসপি এবং গাজীপুরের সারাহ রিসোর্টকে মাথায় রেখেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। এখন পর্যন্ত অনুশীলন ভেন্যু চূড়ান্ত করতে না পারলেও বিশ্বস্ত কয়েকটি সূত্রের খবর অনুযায়ী বিকেএসপিই হচ্ছে ফুটবলারদের আইসোলেশন সেন্টার। ৮ অক্টোবর সিলেটে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে পুনরায় শুরু হবে জামালদের বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব। ফুটবলারদের অনুশীলন করাতে আগস্টের মাঝমাঝিতে ঢাকায় আসবেন কোচ জেমি ডে।

অতীতেও বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আবাসিক ক্যাম্প করেছিলেন তপু বর্মণ-মোহাম্মদ ইব্রাহিমরা। ঢাকা থেকে দূরের এ জায়গাটি নীরব। আর এখানে থাকা-খাওয়ার সুব্যবস্থা আছে। তবে নতুন হিসেবে গাজীপুরের সারাহ রিসোর্টে ক্যাম্প করতে চাচ্ছেন অনেক ফুটবলারই। তবে রিসোর্ট বড় হওয়ায় ফুটবলারদের জন্য একটু ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। আর গাজীপুরের সারাহ রিসোর্টে হলে খরচটা একটু বেশিই হয়ে যাবে। ফারস হোটেলে আইসোলেশন সেন্টার করলে সেখান থেকে বাসে করে যেতে হবে অনুশীলন ভেন্যুতে। গাড়িতে করে গেলেও আশপাশের পরিস্থিতির কারণে করোনা আক্রান্তের শঙ্কা আছে। বাফুফে ভবনে আইসোলেশন সেন্টার হলে পাশেই অবস্থতি আর্টিফিশিয়াল টার্ফে অনুশীলন করতে পারবেন ফুটবলাররা। বিকেএসপিতে ভালোমানের ট্রেনিং ব্যবস্থা আছে। অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে এবং বর্তমান করোনাভাইরাসের কথা মাথায় রেখে বিকেএসপিতেই আইসোলেশন সেন্টার হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে বাফুফের একটি সূত্র। কোথায় আইসোলেশন সেন্টার হবে আজ ন্যাশনাল টিমস কমিটির মিটিংয়ে আসতে পারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। বিকেল ৩টায় বাফুফে ভবনে ফুটবলারদের সঙ্গে এ নিয়ে বৈঠক করবে জাতীয় দল ব্যবস্থাপনা কমিটি।

ইউরোপিয়ান ফুটবলে শুরুর আগে অনেক পরিকল্পনা হাতে নিয়েছিল স্পেন, জার্মানি, ইতালি ও ইংল্যান্ডের ফুটবল ফেডারেশন। লিগ শুরুর আগে প্রতিটি ক্লাবের খেলোয়াড়দের নেওয়া হয়েছে আইসোলেশনে। অনুশীলনে নামার আগে করা হয়েছে কভিড-১৯ টেস্ট। আর ম্যাচের আগেরও দিনও ফুটবলারদের করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে। ফুটবলারদের জন্যও বাফুফের মেডিকেল গাইডলাইন প্রস্তুত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ফুটবলারদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে একটি গাইডলাইন বাফুফেতে জমা দিয়েছে মেডিকেল কমিটি। গাইডলাইনগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো- খেলোয়াড় ও অফিসিয়ালদের মাস্ক পরা, সাবান দিয়ে হাত ধোয়া,

সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা ও ভিড়ের মধ্যে না যাওয়া। সকল ফুটবলার, কোচিং স্টাফ, কর্মকর্তার করোনাভাইরাস পরীক্ষা করানো। পাশাপাশি ক্যাটারিং সার্ভিস, স্টেডিয়াম ও ডরমেটরির স্টাফ, ফুটবলারদের বহনকারী যানবাহনের চালক ও সহযোগীদের করোনাভাইরাস পরীক্ষা করানোর সুপারিশ করেছে মেডিকেল কমিটি।

সেন্টারে যা থাকছে

ফুটবলারদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে বাফুফের মেডিকেল গাইডলাইন

প্রাথমিকভাবে ৪০ জন ফুটবলারকে নির্বাচন করে করোনা পরীক্ষা করা হবে। সেখান থেকে ৩৫ জনকে নিয়ে শুরু হবে চূড়ান্ত অনুশীলন।

খেলোয়াড় ও অফিসিয়ালদের মাস্ক পরা, সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা ও ভিড়ের মধ্যে না যাওয়া

সব ফুটবলার, কোচিং স্টাফ, কর্মকর্তা, ক্যাটারিং সার্ভিস, স্টেডিয়াম ও ডরমেটরির স্টাফ, যানবাহনের চালক ও সহযোগীদের করোনাভাইরাস পরীক্ষা করাতে হবে।

বাফুফে ভবন, ফারস হোটেল, বিকেএসপি ও গাজীপুরের সারাহ রিসোর্টও আছে তালিকায়