মাঠকর্মীদের নিরলস চেষ্টায় প্রস্তুত মিরপুর

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২০     আপডেট: ০৭ জুন ২০২০

ক্রীড়া প্রতিবেদক

সবাই যখন ছুটি পেল তখন নিরলসভাবে কাজ চালিয়ে গেলেন মাঠকর্মীরা। আড়াই মাস ধরে পরিচর্যা করে তামিম ইকবালদের জন্য মাঠগুলোকে কত সুন্দর করেই না তুলেছেন তারা। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের সবুজ জমিন খেলোয়াড়দের মুগ্ধ করবে নিঃসন্দেহে। গতকালও মাঠকর্মীদের দেখা গেল সার বেঁধে মাঠের আগাছা পরিস্কার করতে। করোনাকালে দেশের ক্রিকেটের এই 'আনসাং হিরোদের' ত্যাগের কথা পৃথিবী মনে রাখুক বা না রাখুক তারা খেলাটির অগ্রসৈনিক। বিসিবি গ্রাউন্ডস বিভাগের ন্যাশনাল ম্যানেজার সৈয়দ আব্দুল বাতেন বলেন, দেশের সব ভেন্যু খেলার উপযোগী রাখতে নিরবচ্ছিন্ন কাজ করে গেছেন মাঠকর্মীরা। বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অনুমোদন দিলে ক্রিকেটাররা যে কোনো সময় প্রস্তুতি শুরু করতে পারবেন বলে জানান তিনি।

দেশে করোনাভাইরাসের বিস্তার না কমায় এখনও আনুষ্ঠানিক অফিস খোলেনি বিসিবি। প্রয়োজনে অ্যাকাউন্টস ও গ্রাউন্ডস বিভাগের কর্মকর্তাদের কেউ কেউ অফিস করেন। ১৬ বা ১৭ জুন থেকে সীমিত পরিসরে খোলা হতে পারে বোর্ডের অফিস। ক্রিকেটারদের প্রস্তুতি শুরু হতে পারে ২৫ জুন থেকে। এজন্য ৩৭ সদস্যের ক্রিকেটার্স পুলের তালিকা করেছেন জাতীয় দল নির্বাচকরা। মূলত জাতীয় দলের কথা মাথায় রেখেই এই পুল তৈরি করা। শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে প্র্যাকটিসের সুযোগ পাবেন পুলের ক্রিকেটাররা। ঢাকার বাইরে সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম, রাজশাহী শহীদ কামরুজ্জামান স্টেডিয়াম আর খুলনা শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে প্র্যাকটিস করার সুযোগ পাবেন বিসিবির নিবন্ধিত স্থানীয় ক্রিকেটাররা। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে শুরু করা হবে অনুশীলন। বাতেন জানান, ক্রিকেটারদের স্বাভাবিক অনুশীলনের ক্ষেত্রে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা করে দেবেন মাঠকর্মীরা, 'দেশের প্রতিটি ভেন্যু খেলার উপযোগী আছে। ইচ্ছে করলেই খেলা শুরু করা সম্ভব। গত তিন মাস বিশ্রাম পাওয়ায় মাঠ সবুজ হয়ে গেছে। পিচ বিশ্রাম পেয়েছে। একেবারে সতেজ পিচ। প্র্যাকটিস শুরু হবে সীমিত পরিসরে। আমাদের যে সাপোর্ট স্টাফ আছে তারা খেলোয়াড়দের সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। সীমিত পরিসরে স্টাফ নিয়োজিত থাকবে প্র্যাকটিসের জন্য নেট বা উইকেট ঠিক করে দেওয়ার জন্য। সব প্রস্তুত করে দিয়ে গ্রাউন্ডসম্যানরা দূরে সরে যাবে। খেলোয়াড়রা তাদের মতো প্র্যাকটিস করবেন।'

করোনাভাইরাসের কারণে আড়াই মাস ধরে খেলার বাইরে ক্রিকেটাররা। আউটডোর প্র্যাকটিস করতে পারেননি তারা। জাতীয় দলের অনেক ক্রিকেটারই মাঠে অনুশীলন করতে চেয়ে আবেদন করেছেন বিসিবির কাছে। খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার কথা ভেবে ব্যক্তিগতভাবে কাউকে অনুশীলনের অনুমতি দেয়নি বিসিবি। স্টেডিয়ামগুলোকে জীবাণুমুক্ত করে প্রস্তুতিতে ফেরার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। সে কারণে খেলোয়াড় ও স্টাফদের জন্য আইসিসির গাইডলাইন অনুসরণ করে প্র্যাকটিসের স্বাস্থ্যবিধিও তৈরি করেছে বিসিবির মেডিকেল বিভাগ। বিসিবি সিইও নিজামউদ্দিন চৌধুরী জানান, খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্র্যাকটিস শুরুর আগে মাঠকর্মীদের শরীরে কভিড-১৯ ভাইরাসের অস্তিত্ব নেই নিশ্চিত হতে পরীক্ষা করানো হবে। যদিও বর্তমান বাস্তবতায় কভিড-১৯ পরীক্ষা করানো সহজ হবে না। সে কারণে দূরত্ব বজায় রেখে ক্রিকেটারদের জন্য প্র্যাকটিসের সুযোগ-সুবিধা করে দিতে মাঠকর্মীদের নিয়োজিত করা হতে পারে।

বিসিবির মাঠকর্মী আছেন ২২০ জন। করোনাকালে দেশের সব ভেন্যুতে কাজ করছেন ১০০ জন। মহামারির সময়ে স্টেডিয়াম কমপ্লেক্সেই অবস্থান করছেন তারা। বাতেন বলেন, 'গ্রাউন্ডসের কাজটা অন্য বিভাগের মতো নয়। মাঠ খেলার উপযোগী রাখতে প্রতিনিয়ত পরিচর্যা করতে হয়। আগাছা পরিস্কার করতে হয়। ঘাস বড় হলে কাটতে হয়। উইকেট পরিচর্যা করতে হয়। এই কাজগুলো নিয়মিত না করলে মাঠ আগাছায় ভরে যাবে। ঘাস বড় হয়ে খেলার অনুপযোগী হয়ে পড়বে। নতুন করে শুরু করলে দুই মাস লেগে যাবে খেলার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে। তাই প্রথম থেকেই মাঠকর্মীদের রেখে দেওয়া হয়েছে। আর তারা স্বাস্থ্যবিধি মেনেই স্টেডিয়ামে থাকে।' এদিক থেকে মাঠকর্মীরা ধন্যবাদ পেতেই পারেন ক্রিকেটারদের কাছ থেকে।