মুস্তাফিজের হলোটা কী

প্রকাশ: ০৯ নভেম্বর ২০১৯      

আলী সেকান্দার, নাগপুর থেকে

টি২০ বোলিং ইকোনমি ছয় হলে ভালো। সাত হলেও মন্দ নয়। তবে আট বা নয় হলে খরুচে ধরা হয়। সে হিসেবে মুস্তাফিজুর রহমান, শফিউল ইসলাম ও আল-আমিন হোসেন বৃহস্পতিবার কার্যকর স্পেল করতে পারেননি। ভালো বা মোটামুটির রেঞ্জ থেকেও খরুচে ছিলেন তিনজনই। কারও নামের পাশেই নেই উইকেট। পেসারদের ওপর অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহর আস্থার জায়গাটাও তাই নড়ে গিয়েছিল ম্যাচে। তারা ইউনিট হিসেবে পারফর্ম করতে পারছেন না দেখে দুশ্চিন্তা বেড়ে গেছে মাহমুদুল্লাহর। কারণ পাওয়ার প্লে ও স্লগ ওভারে পেসারদের হাতেই বল তুলে দিতে হয় নেতাকে। তিন পেসারের মধ্যে প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির প্রেক্ষাপটে দুশ্চিন্তা বেশি মুস্তাফিজকে নিয়ে। কিছুদিন আগেও মুস্তাফিজ ছিলেন টি২০-তে দেশের সেরা পেসার। কাটার ও স্লোয়ার দিয়ে স্লগ ওভারে রান চেক দেওয়ার পাশাপাশি উইকেট নিতে দেখা গেছে তাকে। সেই কাটার মাস্টারই কি-না ছন্দে নেই। দুই ম্যাচ খেলে ফেললেও উইকেট নেই নামের পাশে। আসলে কী হয়েছে মুস্তাফিজের?

দিল্লির প্রথম টি২০তে বোলিং পেয়েছেন দুই ওভার, রান দিয়েছেন ১৫টি। রাজকোটে দ্বিতীয় ম্যাচে ৩ দশমিক ৪ ওভারে খরচ ৩৫ রান। এখন পর্যন্ত স্বাগতিক ব্যাটসম্যানদের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারেননি তিনি। শুধু ভারত সিরিজেই নয়, আন্তর্জাতিক টি২০-তে বেশ কয়েক দিন যাবৎই মুস্তাফিজের বোলিং ধারহীন। সেপ্টেম্বরে দেশের মাটিতে জিম্বাবুয়ে, আফগানিস্তানকে নিয়ে হওয়া ত্রিদেশীয় সিরিজেও ছিলেন নিজের ছায়া হয়ে। চার ম্যাচ খেলে চারটি উইকেট শিকার করেছিলেন বটে, রান দিয়েছিলেন ১২৫! প্রত্যাশা ছিল ভারতের মাটিতে পুরোনো রূপে ফিরে আসার। আইপিএলে খেলার সুবাদে এখানকার প্রায় সব ভেন্যুই তার চেনা। কিন্তু কন্ডিশন কাজে লাগানো দূরে, নিজেকেই হারিয়ে ফেলেছেন মুস্তাফিজ। যিনি পেস আক্রমণের মূল অস্ত্র, সেই মুস্তাফিজের পাশাপাশি ব্যর্থ অভিষেক বিবেচনায় সিনিয়র শফিউল ইসলামও। দিল্লিতে জয়ের ম্যাচে চার ওভারে ৩৬ রান দিয়ে দুই উইকেট শিকার তার। ইকোনমি ৯। তিন পেসারের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করা হলে আল-আমিন হোসেন কিছুটা ভালো বল করেছেন। উইকেট না পেলেও ইকোনমি নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই রাখতে পেরেছেন। প্রথম ম্যাচে চার ওভারে ২৭ আর দ্বিতীয় ম্যাচে ৩২ রান খরচ তার। অথচ ম্যাচ জিততে হলে পাওয়ার প্লেতে উইকেট নেওয়া জরুরি। ডানহাতি এ পেসারের কাছ থেকে শুরুতেই উইকেট আশা করে টিম ম্যানেজমেন্ট। শফিউল বলছেন, নাগপুরে দায়িত্ব নিয়ে খেলবেন, 'আমি আল-আমিন আর মুস্তাফিজ সমস্যাগুলো নিয়ে কথা বলেছি। পরের ম্যাচে আমাদের দৃঢ়ভাবে ঘুরে দাঁড়াতে হবে। কীভাবে ব্যাটসম্যানদের বেঁধে রাখা যায়, ম্যাচ কতটা ক্লোজ করা যায়, সে বিষয়ে আলাপ করেছি আমরা। আশা করি, পরের ম্যাচে সেটা করতে পারব।'

টানা দুই ম্যাচ জিতে সিরিজ নিশ্চিত করতে চেয়েছিল বাংলাদেশ। প্রত্যাশার সে আগুনে জল ঢেলে দেন রোহিতরা। ২৬ বল হাতে রেখে ম্যাচ জিতে সিরিজ ১-১ করে স্বাগতিক শিবির। বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের চেয়েও এখন মানসিকভাবে উজ্জীবিত ভারতের খেলোয়াড়রা। স্বাগতিকরা সুবিধা কাজে লাগিয়ে নাগপুরের টি২০-এর সিরিজ নিজেদের করে নিতে চায় ভারত। টাইগাররাও মরিয়া সিরিজ জিততে, 'আমরা সব বিভাগে ব্যাটিং-বোলিংয়ে ছোট ছোট কিছু ভুল করেছি। সেগুলা নিয়ে আমরা কাজ করব। ওই ত্রুটি-বিচ্যুতিগুলো ঠিক করতে পারলে ভালো কিছু হবে।' আর ভালো করতে চাইলে পেস বোলারদের বেশি কার্যকর হতে হবে। শফিউল, আল-আমিনকে করতে হবে নিয়ন্ত্রিত বোলিং। আর সবচেয়ে বেশি জেগে ওঠা প্রয়োজন মুস্তাফিজের। তার বাঁহাতি বোলিংয়েই চার বছর আগে মহেন্দ্র সিং ধোনির দলকে টানা নাস্তানাবুদ করেছিল বাংলাদেশ। এবার রোহিতদের বিপক্ষেও তেমন কিছুর প্রত্যাশা। নইলে যে বড্ড অচেনা লেগেছে গত দুই ম্যাচের দ্য ফিজকে!