বিদায়ী টেস্টে বিজয়ীর সম্মান পেলেন নবী

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯      

ক্রীড়া প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম থেকে

বিদায়ী টেস্টে বিজয়ীর সম্মান পেলেন নবী

নবীকে জয়ের মালা পরিয়েই বিদায় দিলেন সতীর্থরা- বিসিবি

'ঐতিহাসিক জয়'। এই দুই শব্দেই মোহাম্মদ নবী বুঝিয়ে দিতে চাইলেন বাংলাদেশের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্ট জিততে কতটা মুখিয়ে ছিল আফগানিস্তান। ইতিহাস গড়তে কতটা প্রস্তুত হয়ে এসেছিল তারা। এই সফরের আগে পরিকল্পিতভাবে 'এ' দল পাঠিয়ে কন্ডিশনে অভ্যস্ত করেছে খেলোয়াড়দের। বিশ্বকাপের বাজে সময় পেছনে ফেলে আবুধাবির তপ্ত মরুভূমিতে কন্ডিশনিং ক্যাম্প করেছে। পরিকল্পনামতো সফলও হয়েছে তারা। গতকাল এ সাফল্য নিয়ে নবী যেমন বললেন, 'আমরা ভারত, আয়ারল্যান্ড ও বাংলাদেশের বিপক্ষে তিনটি টেস্ট খেলে দুটিতে জিতেছি। এর অর্থ হলো, আমরা এই ফরম্যাটেও ভালো। আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেটের কাঠামো শক্তিশালী। তরুণরা যেভাবে খেলেছে, যেভাবে কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছে, তাতে করে এই দলটি সত্যিই অসাধারণ।'

বাংলাদেশের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে ম্যাচসেরা হয়েছেন রশিদ খান। দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন ১১ উইকেট ও ৭৫ রান করে। নবীর মতে যোগ্য খেলোয়াড়ের হাতে নেতৃত্ব তুলে দেওয়ায় টেস্টেও ভালো খেলেছে আফগানিস্তান, 'আমাদের দলটা অগোছালো ছিল। অধিনায়ককে নিয়ে সমস্যা ছিল। বিশ্বকাপের পর সব ঢেলে সাজানো হয়েছে। বোর্ডেও এসেছে পরিবর্তন। দলের পারফরম্যান্সেও যেটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।'

কন্ডিশনের সুবিধা পেয়ে প্রথম ইনিংসে ৩৪২ রান করে আফগানিস্তান। সেঞ্চুরি হাঁকান রহম শাহ। আসগর আফগানের ব্যাট থেকে আসে ৯২ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে ১৭ বছর বয়সী তরুণ ওপেনার ইব্রাহিম জাদরান খেলেন অনিন্দ্য ৮৭ রানের ইনিংস। হাফ সেঞ্চুরি পান আসগর। প্রথম ইনিংসে ১৩৭ রানের লিড নেওয়া দল দ্বিতীয় ইনিংসে করে ২৬০ রান। ব্যাটিংয়ের চেয়ে বোলিংটা ছিল আরও ভয়ঙ্কর। স্বাগতিকদের কোনো সময়ের জন্যই ঘুরে দাঁড়াতে দেয়নি তাদের চার স্পিনার। এই পারফরম্যান্স নিয়ে নবী বলেন, 'আমরা ব্যাটিংটা দারুণ করেছি। বিশেষ করে ইব্রাহিমকে নিয়ে আমরা অনেক কথা বলেছি। সম্প্রতি সে 'এ' দলের হয়ে এখানে খেলে গেছে। আর রশিদ খান তো বিশ্বমানের একজন বোলার। যে কোনো ফরম্যাটেই ভালো করার সামর্থ্য আছে তার। এই টেস্টে সেটাই দেখা গেছে।' নবীর শেষ টেস্ট ছিল এটি। তাই খেলা শেষে গার্ড অব অনার দেওয়ার পাশাপাশি জয়ী ম্যাচেও সংবাদ সম্মেলনে পাঠিয়ে সম্মান দেওয়া হয় তাকে।