এ তো '১৯'র নাদাল

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

স্পোর্টস ডেস্ক

গোটা আর্থার অ্যাশজুড়ে নাদালের জয়গান। রেকর্ড দর্শক এসেছেন নতুন ইতিহাসের সাক্ষ্য হতে। চারপাশ থেকে মুহুর্মুহু করতালি। যার জন্য এত আয়োজন তিনি কি-না অঝোরে কাঁদছেন। ক্যামেরার চোখগুলো তাক করে নায়কের সেই কান্নাভেজা মুখখানা একটু পরপর তুলে ধরছে। কয়েক সেকেন্ড বাদে ফ্ল্যাশিং মিডোর জায়ান্ট স্ট্ক্রিনে ভেসে উঠল নাদালের পুরনো ছবির অ্যালবাম। নাদালও চোখ দিলেন সেদিকে। এরপর এক এক করে দেখে নিলেন ক্যারিয়ারের ১৯টি মুকুট জয়ের চিত্রনাট্য। এবার আর আবেগটা ধরে রাখা গেল না। এক পলকে জায়ান্ট স্ট্ক্রিনে তাকিয়ে আছেন নাদাল, চোখের জল গড়িয়ে পড়ছে তার গায়ে। হাত দিয়ে সেই জল মোছার চেষ্টাও করলেন না। আসলে কেন-ই বা মুছবেন। এ তো সুখের কান্না। স্বপ্নপূরণের কান্না। চার ঘণ্টা ৪৯ মিনিট লড়াই করে দানিল মেদভেদেভের কাছ থেকে শিরোপা ছিনিয়ে আনার কান্না।

ক'দিন বাদে ৩৪-এ পা দেবেন। কিন্তু এখনও যেভাবে লড়ছেন, মনে হবে উনিশ বছরের কোনো তরুণ। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে যেমন দাপট দেখিয়ে ট্রফি জিতেছেন। এখনও নাদালের সেই রূপটাই দেখছে টেনিসবিশ্ব। ৭-৫, ৬-৩, ৫-৭, ৪-৬, ৬-৪ গেমের মহাকাব্যিক ম্যাচটি তারই প্রমাণ বহন করছে। খোদ মেদভেদেভও হাঁপিয়ে উঠেছেন। মাঝে ঘুরে দাঁড়িয়েও শেষ পর্যন্ত পারেননি নাদালকে হার মানাতে।

গ্র্যান্ডস্লামের রাজা রজার ফেদেরার। কুড়ির ঘরে নাম উঠাতে অনেকটা যুদ্ধ করতে হয়েছে সুইস কিংবদন্তিকে। যেখানে নাদাল ছুটছেন দুর্দান্ত গতিতে। রজারের চেয়ে কম সময়ে ক্যারিয়ারের ১৯ নম্বর গ্র্যান্ডস্লাম শোকেসে পুরলেন। তাও এ বছরই এসেছে ১৮ আর ১৯তম গ্র্যান্ডস্লাম। তা ছাড়া ৩০ বছর বয়সের পরে পুরুষ এককে এত শিরোপা জেতার রেকর্ডও বিরল। এতদিন যে ঘরের প্রথম ছিলেন ফেদেরার, নোভাক জকোভিচ ও রড লেভার। তাদের টপকে এখন একে নাদাল। ৩০-এর পর সর্বোচ্চ পাঁচটি গ্র্যান্ডস্লাম জিতেছেন স্প্যানিশ সুপারস্টার। ফাইনাল মঞ্চে এমন একটা রোমাঞ্চকর জয় পেয়ে উচ্ছ্বসিত রাফা, 'সবাইকে ধন্যবাদ। চমৎকার একটা পরিবেশ ছিল। বিশেষ করে শেষ দিকে। মুহূর্তগুলো মনে রাখার মতো। দানিল দারুণ খেলেছে। আমার বিশ্বাস, সে ভবিষ্যতে অনেক ভালো করবে। তার জন্য শুভকামনা।'