বৃষ্টি না হয় অলৌকিক কিছু

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯

আলী সেকান্দার, চট্টগ্রাম থেকে

বৃষ্টি না হয় অলৌকিক কিছু

বৃষ্টি মাথায় মাঠ ছাড়ছেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান ও সৌম্য সরকার। চট্টগ্রাম টেস্টের চতুর্থ দিন শেষে। আজও বৃষ্টি হলে মন্দ কী!- মো. রাশেদ

পাহাড়সম টার্গেট থাকলে চাপও থাকে পর্বততুল্য। সাকিব আল হাসানের মতো বাস্তববাদী ক্রিকেটারকেও কিঞ্চিত চাপে ফেলে। গতকাল চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে চতুর্থ দিনের খেলা শেষে চরম সে সত্য অবলীলায় স্বীকার করলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক, 'যে ধরনের ম্যাচ আমরা আশা করছিলাম তার পুরো বিপরীত। স্বাভবিকভাবে চাপ তো থাকবেই।' এই চাপের মধ্যে থেকেও টেস্টকে বাঁচাতে চান সাকিব। অবাস্তব এই চিন্তাকে প্রশ্রয় দিচ্ছেন নানা কারণেই। চট্টগ্রামে আজও বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। প্রকৃতির দক্ষিণা পেলেই কেবল ম্যাচটা ফলহীন থাকতে পারে। আর খেলা হলে বাংলাদেশ বড়জোর হারের ব্যবধান কমিয়ে আনতে পারবে। বাস্তবতা মেনে টাইগার দলপতি বললেন, ম্যাচটা হারের খুব কাছাকাছি তারা। যার অর্থ হতে পারে, একপ্রকার হার মেনে নিয়েই শেষ চেষ্টাটা করে দেখতে চান।

গতকাল ৪৪.২ ওভার ব্যাট করে ৬ উইকেটে ১৩৬ রান করেছে বাংলাদেশ। টার্গেট থেকে আরও ২৬২ রান পিছিয়ে স্বাগতিকরা। এই টার্গেটে যেতে হলে আজ অতিমানবীয় ক্রিকেট খেলা ছাড়া কোনো পথ খোলা নেই বাংলাদেশের সামনে। অতীতে যা হয়নি তা-ই করে দেখাতে হবে ম্যাচের শেষ দিন। তাই সাকিব তাকিয়ে বৃষ্টি আর অলৌকিক কিছুর আশায়, 'একমাত্র বৃষ্টি আর আল্লাহ স্বয়ং আমাদের দু'জন খেলোয়াড়কে অলৌকিক ব্যাটিং করার ক্ষমতা না দিলে হারার সম্ভাবনাটাই খুব বেশি।'

তবে বাংলাদেশ অধিনায়ক তার সতীর্থদের কাছে একটা নিবেদনও রেখে দিলেন গতকাল, 'আমরা যে চারজন আছি, তারা যদি কিছু একটা করে দেখাতে পারি। বা কিছু করতে না পারলেও, লড়াই করার যে মানসিকতা, আমরা যে এতদিন ধরে টেস্ট ক্রিকেট খেলছি, এট লিস্ট ঘরের মাঠে ভালো কিছু করেছি, তার যে একটা প্রমাণ অন্তত রেখে যেতে পারি। হয়তো হারতে পারি, তবে লড়াই করার যে একটা ছাপ, সেটা যেন আমরা দেখাতে পারি।'

জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে চলমান টেস্টের উইকেট চতুর্থ দিনও ব্যাটসম্যানদের অনুকূলেই ছিল। স্বাগতিক ব্যাটসম্যানরা উইকেট বিলিয়ে না এলে রেকর্ড রান তাড়া করে জয়ের পথে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করতে পারতেন। ওপেনিং জুটির ব্যাটিং দেখে সেটা মনেও হয়েছিল সাকিবের, '৩০ রান পর্যন্ত মনে হয়েছিল সম্ভব। কারণ উইকেটটা এখনও যথেষ্ট ভালো আছে। রিস্ট স্পিনাররা ওদের বাড়তি সুবিধা পাবেই। যে কোনো ফ্ল্যাট উইকেটেই পায় চার নম্বর বা পাঁচ নম্বর দিনে। কিন্তু উইকেটটা ব্যাটিংয়ের অনুপযোগী না। আমরা ভালোভাবে প্রয়োগ করতে পারলে কিংবা সাহস নিয়ে খেলতে পারলে আরও ভালো কিছু করা সম্ভব হতো। আমি যেমন শুরুতে বলেছিলাম, ব্যাটসম্যানরা পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। উইকেট হয়তো আমরা যেমন চেয়েছিলাম তেমন পাইনি। তার মানে এই না যে, আমরা ভেঙে পড়ব। এখানে আমাদের কোয়ালিটি শো করার জায়গা ছিল, যেখানে আমরা ফেল করেছি।'

বাংলাদেশের ব্যাটিং স্তম্ভ বলা হয় মুশফিককে। সবাই ফেল করলেও বহু ম্যাচেই শিরদাঁড়া সোজা করে দাঁড়াতে দেখা গেছে উইকেটরক্ষক এ ব্যাটসম্যানকে। পরে সাকিব এসে জুটি গড়ে বিপর্যয় থেকে দলকে উদ্ধার করেছেন অনেক ম্যাচে। গতকাল পর পর দুই উইকেট পড়ে যাওয়ার পর মুশফিকও তেমন প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেননি। লেগ স্পিনার রশিদ খানের বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে বিদায় নেন ২৩ রানে। মুমিনুল, মাহমুদুল্লাহরাও উইকেট ছুড়ে আসেন। ১২৫ রানে ৬ উইকেট পড়ে গেলে পথ হারিয়ে খাদের কিনারে চলে যায় বাংলাদেশ। এই খাদের কিনারা থেকে উঠে আসতে হলে বাকি চার উইকেটে অতিমানবীয় ক্রিকেট খেলতে হবে বলে জানান সাকিব। সে কারণেই হয়তো সংবাদ সম্মেলনে কার্ডিফে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটিকেই মনে করিয়ে দেওয়া হলো। এর উত্তরে সাকিব বললেন দুটি সম্ভাবনার কথা, 'কার্ডিফের স্মৃতিতে ফিরতে হলে অন্য পাশেও কাউকে না কাউকে রান করতে হবে। দু'জনকেই রান করতে হবে। আমি যদি ১৭০ করি, ওর অন্তত ১২০ তো করা লাগবে। তারপর আমরা জিততে পারব। কিংবা আমার ১৫০ আর ওর ১২০ করা লাগবে। অসম্ভব না; কিন্তু অনেক কঠিন কাজ।' জানা নেই সৌম্যর কানে তার অধিনায়কের এই বার্তা গেছে কি-না। আর গেলে আজ কার্ডিফের মাহমুদুল্লাহ হতে পারবেন কি তিনি।