কুইন অব নর্থ

নতুন চ্যাম্পিয়ন বিয়াঙ্কা

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯

জহির উদ্দিন মিশু

কুইন অব নর্থ

স্বপ্নের ট্রফি হাতে এতটা খুশি হতেই পারেন বিয়াঙ্কা- এএফপি

উত্তর আমেরিকার উত্তরাংশের দেশ কানাডা। এখনও দেশটিতে টেনিস সেভাবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেনি। নব্বইয়ের দশকের শুরু ও শেষের দিকে র‌্যাকেট হাতে মাইক বেলকিন-গ্রেন্ট কর্নেলরা কিছুটা ঝলক দেখিয়ে নিভে যান দ্রুত। এরপর দীর্ঘ একটা সময় টেনিসের মন্দাভাবের মাঝে হকি, গলফ, বেসবল, রাগবিতে বুঁদ হয় তাদের সিংহভাগ ক্রীড়াপ্রেমীরা। অবশ্য সেই দলটা এখন ভাঙতে শুরু করেছে। মিলাস রাওনিক, বুশার্ড কিংবা আজকের বিয়াঙ্কাদের হাত ধরে কানাডার খেলাধুলার ইতিহাসে লেগেছে নয়া রঙ। টেনিসে এতদিন উল্লেখ করার মতো কোনো অর্জন ছিল না। কয়েকটা প্রজন্ম এলো-গেল কিন্তু স্বপ্নের গ্র্যান্ডস্লাম কারও হাতে দেখতে পায়নি কানাডিয়ানরা। রাওনিক-বুশার্ডরা খুব কাছে গিয়েও ফিরেছেন হতাশ হয়ে। এবার অতীতের সব আক্ষেপ মুছে প্রথম কানাডিয়ান হিসেবে টেনিসের প্রথম স্বর্গে পা দিলেন ১৯ বছরের বিয়াঙ্কা আন্দ্রিস্কু। তাও রেকর্ড ২৩ বারের গ্র্যান্ডস্লাম জয়ী সেরেনা উইলিয়ামসকে হারিয়ে।

যদিও রোমান বাবা-মায়ের ঘরে জন্ম বিয়াঙ্কার। পড়াশোনার পাঠ চুকিয়ে রুজি-রুটির সন্ধানে একটা সময় কানাডায় পাড়ি জমান তার বাবা। আর মা'ও চাকরি নেন কানাডার টরন্টোতে। এরপর সেখানে ঘর বাঁধেন। একমাত্র মেয়েকে নিয়ে দেখেন নতুন স্বপ্ন। বিয়াঙ্কার বয়স যখন সাত বছর তখনই তার হাতে র‌্যাকেট তুলে দেন তারা। ১১ বছর বয়সে বিয়াঙ্কা যোগ দেন টেনিস কানাডার জাতীয় দলে। সেখানে চলে তার প্রস্তুতি। শৈশবে এই সেরেনার খেলা দেখে বড় হয়েছেন। বিয়াঙ্কার বয়স যখন নয় বছর, তখন সেরেনা ইউএস ওপেন দিয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম গ্র্যান্ডস্লাম জেতেন। শনিবার রাতে সেই সেরেনাকে ৭-৫, ৬-৪ গেমে হারিয়ে শিরোপা উৎসব করলেন বিয়াঙ্কা।

দুঃখটা সেরেনার জন্য হতেই পারে। ২৩তম গ্র্যান্ডস্লাম জিতেছেন অনেক আগে। এরপর কয়েকবার ফাইনালে উঠেও জেতা হলো না ২৪তম ট্রফিটা। এই একটা শিরোপার জন্য কত-না অপেক্ষা সেরেনার। কেননা জিতলেই নাম উঠাবেন সর্বকালের সেরা তালিকায়। নারী টেনিসে তার চেয়ে একটি বেশি গ্র্যান্ডস্লাম মার্গারেট কোর্টের। কিন্তু চতুর্থবারেও হলো ইতিহাস। আগেরবার জাপানের নাওমি ওসাকার কাছে হেরেছেন। এবার বিয়াঙ্কার কাছে। কাকতালীয়ভাবে দু'জনই নতুন। তাছাড়া প্রথম ফ্ল্যাশিং মিডোর ফাইনালেও পা পড়ে। সে জন্য বোধহয় এই সেরেনার জন্য বিয়াঙ্কার মন কাঁদে, 'আমি জানি, আপনারা চেয়েছেন সেরেনা জিতুক। আসলে আমি দুঃখিত। তার ফেভরিট হওয়াটাও স্বাভাবিক। কেননা এর আগে বহুবার সে এখানে ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছে। সে সত্যিকারের চ্যাম্পিয়ন। তবে দিনটা আমার ছিল। আমি প্রথম থেকেই নিজের সেরাটা দিয়ে চেষ্টা করেছি।'

ক্যারিয়ারে এ নিয়ে তৃতীয় শিরোপা জিতলেন। যদিও আগের দুটির চেয়েও এই একটির ওজন অনেক বেশি। ২০১৭ সালে পেশাদার টেনিসে নাম লেখানোর পর খুব একটা ভালো সময় পাননি বিয়াঙ্কা। যাত্রাটা একেবারে বাজে ছিল তার। যে কারণে বছর খানেক আগেও এই বিয়াঙ্কা সেভাবে চিনত না টেনিসবিশ্ব। তালিকায় তার নামটা ছিল দুইশ'র নিচে। কিন্তু ২০১৯ সালে এসেই বাজিমাত। পরপর দুটি টুর্নামেন্ট কানাডিয়ান ওপেন ও ইন্ডিয়ান ওয়েলস ঘরে তোলেন। এবার হাতে পেলেন গ্র্যান্ডস্লামও। সেটা আবার অভিষেকে। এবারও প্রথম ইউএস ওপেনের টিকিট পান। তার আগে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন এবং ফ্রেঞ্চ ওপেন থেকে রাজ্যের হতাশা নিয়ে বাড়ি ফিরতে হয়েছে।

প্রতিপক্ষ সেরেনা। একসময়ের নাম্বার ওয়ান। যার ঝুলিতে আছে অসংখ্য প্রাপ্তি। সেই মহাতারকার সামনে দাঁড়িয়ে একটুও ঘাবড়ে যাননি বিয়াঙ্কা। উল্টো আত্মবিশ্বাস ছিল তুঙ্গে। এটাই কি তার শিরোপা জয়ের রহস্য। ম্যাচ শেষে তেমন আভাসই দিলেন, 'আমি কখনোই ভাবিনি আমি হারব। গত মার্চ থেকে আমার আত্মবিশ্বাস ছিল তুঙ্গে। যে কারণে পুরো সময় দারুণ একটা লড়াই করেছি। আসলে এই দিনটার অপেক্ষায় ছিলাম। সত্যিই আমি মহাখুশি।'