'স্পিনাররাই পার্থক্য গড়ে দিয়েছে'

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ক্রীড়া প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম থেকে

আফগানিস্তানের জন্য জয়টা এখন সময়ের ব্যাপার। জিততে আর চার উইকেট নিতে হবে সফরকারীদের। সেটা করতে পারলেই ইতিহাস লেখা হবে আফগানিস্তানের নামের পাশে। বাংলাদেশের মতো অভিজ্ঞ টেস্ট খেলুড়ে দেশকে হারিয়ে রেকর্ড গড়া হবে তাদের। আজ চট্টগ্রামে জয় উদযাপন করতে মুখিয়েও আছে তারা। মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান আফসার খান দলের প্রতিনিধি হয়ে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে সে বার্তাও দিলেন, 'আমরা কিছুটা উল্লসিত। কারণ ম্যাচের ভালো একটা জায়গায় আছি আমরা। আমার জানা মতে, বাংলাদেশ হোমে গত বছর কোনো টেস্ট ম্যাচ হারেনি। সেখানেই আমরা ভালো খেলছি। কাল (আজ) তাদের হারানো দারুণ একটা সুযোগ আমাদের সামনে।'

চট্টগ্রাম টেস্টে শুরু থেকেই দাপুটে ক্রিকেট খেলছে আফগানিস্তান। টেস্টের নবাগত দল হিসেবে ব্যাটিংটা ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রথম ইনিংসে ৩৪২ আর দ্বিতীয় ইনিংসে ২৬০ রান করে তারা। সেখানে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে অলআউট হয় ২০৫ রানে। ৩৯৮ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে দ্বিতীয় ইনিংসেও স্বাভাবিক ছন্দ দেখাতে পারেনি। স্বাগতিকদের এভাবে চাপে রাখার কৃতিত্ব আফগান বোলারদের। আফসারের কথাতেই সেটা পরিস্কার, 'সত্যিই আমরা খুব ভালো ব্যাটিং করেছি। প্রস্তুতিতে কঠোর পরিশ্রম করেছি আমরা। বিশেষ করে আমাদের ব্যাটিং কোচ নওরোজ মঙ্গল খেলোয়াড়দের খুব আত্মবিশ্বাস জুগিয়ে গেছেন। আর আমাদের স্পিনাররা খুবই ভালো। এটাই দুই দলের পার্থক্য গড়ে দিয়েছে।'

আফসারের বিশ্বাস, আজ কিছু ওভার খেলা হলেই স্বাগতিকদের বেঁধে ফেলতে পারবেন, 'বৃষ্টি আমাদের হাতে নেই। কাল (আজ) ওদের চারটি উইকেট নিতে হবে। আশা করি কাল বৃষ্টিও হবে না। শেষ পর্যায়েও আমরা ভালো ক্রিকেট খেলতে চাই।'

সফরকারী দলের মিডল অর্ডার এ ব্যাটসম্যান জানান, টস জেতার মধ্য দিয়েই ম্যাচের অর্ধেক নিয়ন্ত্রণ পেয়ে গেছেন তারা। 'আমাদের চিন্তাই ছিল, টস জিতলে ম্যাচের অর্ধেক নিয়ন্ত্রণ চলে আসবে। টসটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। প্রথম দিনের উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য দারুণ ছিল। এরপর থেকে স্পিন বলে খেলা কঠিন হয়ে পড়ে, বিশেষ করে আমাদের কোয়ালিটি স্পিনারদের।' শুধু পিচের সুবিধাই নয়, বোলিংয়েও ভালো করছে আফগানিস্তান দলটি। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের ক্রিজে সেট হওয়ারই সুযোগ দেননি তারা। দুই ইনিংসেই রশিদ খান কার্যকরী বোলিং করেন। প্রথম ইনিংসে পাঁচ উইকেট পাওয়া এ লেগ স্পিনার গতকাল পর্যন্ত দ্বিতীয় ইনিংসে ১৩ ওভার বল করে শিকার করেন তিন উইকেট। আর দুটি উইকেট নিলেই দেশের পক্ষে রেকর্ড গড়ে ফেলবেন তিনি। তাই তার প্রত্যাশা থাকবে, চট্টগ্রাম টেস্টের শেষ দিনটা বৃষ্টিমুক্ত কাটুক।