অসম্ভব, মিরাজ বললেন সম্ভব

প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯

আলী সেকান্দার, চট্টগ্রাম থেকে

অসম্ভব, মিরাজ বললেন সম্ভব

ব্যাট হাতে ফিফটি, বল হাতে পাঁচ উইকেট। অধিনায়কত্বের অভিষেকে এই ডাবল এতদিন ছিল কেবল তিনজনের- স্ট্যানলি জ্যাকসন, ইমরান খান ও সাকিব আল হাসান। গতকাল বিরল এই কীর্তিতে নাম লিখিয়েছেন আফগানিস্তান অধিনায়ক রশিদ খান। শনিবার চট্রগ্রাম টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে- বিসিবি

টেস্ট ক্রিকেটের দেড়শ' বছরের ইতিহাসে চতুর্থ ইনিংসে সর্বোচ্চ ৪১৮ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড ওয়েস্ট ইন্ডিজের। ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঘটেছিল এই ঘটনা। বাংলাদেশের টেস্ট অভিষেক এর ঠিক তিন বছর আগে। এই ম্যাচের আগে ১১৫টি টেস্ট ম্যাচ খেলে এই ফরম্যাটে জিততেই শিখেছে বেশিদিন হয়নি। টাইগারদের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে ম্যাচ জয়ের অভিজ্ঞতা বলতে ২১৫, দশ বছর আগে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে। সে হিসেবে চট্টগ্রাম টেস্টে গতকাল পর্যন্ত ৩৭৪ রানের যে টার্গেট দাঁড়িয়েছে, তা বাংলাদেশের সামর্থ্যের চেয়ে অনেক বেশি। পরিসংখ্যান ও অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিলে আফগানিস্তানের কাছে একমাত্র টেস্ট ম্যাচটি হেরে যাওয়ার দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ। যদিও মেহেদী হাসান মিরাজ গতকালের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে দলের প্রতিনিধি হয়ে বলে গেলেন, ক্রিকেটে অসম্ভব বলে কিছু নেই। অনেক দলই হারের ম্যাচ জিতেছে, আবার জেতা ম্যাচও হেরেছে। টেস্ট ক্রিকেটে এই পরিসংখ্যান ভূরি ভূরি পাওয়া যাবে। চলমান অ্যাশেজ সিরিজেই জ্বলজ্যান্ত উদাহরণ আছে। বাস্তবতা হলো, যারা জিতেছে এবং জেতে টেস্ট ক্রিকেটে ওই দলগুলোর সামর্থ্য অন্য উচ্চতায়। যে উচ্চতায় বাংলাদেশ এখনও পৌঁছাতে পারেনি। বরং নবাগত আফগানিস্তানের টেস্ট খেলার মেজাজ দেখা যাচ্ছে বড় দলের মতোই। এরই মধ্যে যে লিড, তা থেকে নিজেদের জয়ী দল হিসেবে ভাবতেই পারে তারা।

এই টেস্টে বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত যেভাবে খেলেছে, তাতে করে বাস্তব ফল হতে পারে পরাজয়। জয়ের সম্ভাবনা আছে যদি অলৌকিক কিছু ঘটে। আর এক বাঁচাতে পারে বৃষ্টি। আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া আছে, নিম্নচাপের কারণে চট্টগ্রামে আজ থেকে টানা বৃষ্টি হবে। প্রকৃতির আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে কেবল হারের লজ্জা থেকে বাঁচার পথ খোলা আছে স্বাগতিকদের সামনে। যদিও মিরাজ বলছেন, প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও খারাপ খেলবেন তেমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই, 'ক্রিকেটে সবকিছুই হতে পারে। যেহেতু আমাদের হাতে দুটো দিন সময় আছে, আমরা চেষ্টা করব। প্রথম কাজ হলো দ্রুত ওদের বাকি দুটি উইকেট নেওয়া। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটসম্যানদের দায়িত্বটা ঠিকভাবে বুঝে সেটা পালন করা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অনেক ঘটনাই আছে, জেতা ম্যাচও হেরে যেতে পারে কিংবা হেরে যাওয়া ম্যাচ সহজেই জিততে পারে।'

গত পরশু (শুক্রবার) সংবাদ সম্মেলনে এসে সাকিব উইকেট নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে গেছেন। টাইগার অধিনায়ক বলেছেন, চট্টগ্রাম টেস্টে কাঙ্ক্ষিত উইকেট তারা পাননি। প্রতিপক্ষ স্পিনারদের কথা মাথায় রেখে স্পিন উইকেট চেয়েছিলেন সাকিবরা। কারণ বাংলাদেশেরও শক্তির জায়গা স্পিন। সবচেয়ে বড় কথা, উইকেটের সুবিধা পেলে বাংলাদেশের স্পিনাররা ভালো করে। সেখানে চলমান টেস্ট হচ্ছে ব্যাটিং ট্র্যাকে। যেখানে প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান পুরো সুবিধা কাজে লাগিয়ে ব্যাটিং ও বোলিং দুই বিভাগেই ভালো করছে। সাকিব চেয়েছিলেন, দ্বিতীয় ইনিংসে আফগানিস্তানকে দ্রুত অলআউট করে প্রথম ইনিংসের বোলিং ব্যর্থতা পুষিয়ে দেবেন। গতকাল সে স্বপ্ন পূরণ হয়নি। আফগানিস্তান এরই মধ্যে ৮ উইকেটে ২৩৭ রান তুলে ফেলেছে। ইব্রাহিম জাদরান (৮৭) ও আসগর আফগান (৫০) হাফ সেঞ্চুরি পেয়েছেন। নাঈম হাসানের এক ওভার থেকে পাঁচ চার মেরে ২০ রান তুলেছেন রশিদ খান। সাকিব ১৬ ওভার বল করে ৫৩ রানে নিয়েছেন তিন উইকেট। তাইজুল দুই উইকেট নিতে ২৪.৪ ওভারে খরচ করেন ৬৮ রান। ১৭ ওভারে ৬১ রানে দুই উইকেট নাঈম হাসানের। আর গতকাল দলের প্রতিনিধি হয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসা মিরাজ ১২ ওভারে ৩৫ রান দিয়ে পান এক উইকেট। সমন্বিত বোলিং পারফরম্যান্স খুব ভালো হয়েছে, এই পরিসংখ্যানগুলো থেকে তা স্পষ্ট হয় না। বরং সফরকারীরা যে সোয়া পাঁচ ঘণ্টা ব্যাটিং করে হাতে দুটি উইকেট রেখে দিয়েছে সেখানেই হেরে বসে আছে বাংলাদেশ। মিরাজ অবশ্য প্রতিপক্ষকে ভালো খেলার কৃতিত্বটা দিচ্ছেন, 'আমি আগেও একটা কথা বলেছিলাম, যারা ভালো ক্রিকেট খেলবে তারাই কিন্তু জিতবে। ওরা ভালো ক্রিকেট খেলেছে। ধৈর্যের পরীক্ষা দিয়েছে। তাই এগিয়ে আছে।' পাশাপাশি তিনি এও বলেছেন, 'এমন বড় স্কোর চেজ করতে গেলে অবশ্যই আমাদের ব্যাটসম্যানদের দায়িত্ব নিয়ে ব্যাটিং করতে হবে।' কথা হলো, তার এই দাবি মেনে স্বাগতিক ব্যাটসম্যানরা লড়াই জমাতে পারবেন তো?