আবদুল কাদিরের মৃত্যু

ক্রিকেটবিশ্বে শোক

প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯

স্পোর্টস ডেস্ক

ক্রিকেটবিশ্বে শোক

আব্দুল কাদির (১৯৫৫-২০১৯)

পাকিস্তানের কিংবদন্তি লেগস্পিনার আবদুল কাদিরের মৃত্যুতে ক্রিকেটবিশ্বে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান, ওয়াসিম আকরাম থেকে শুরু করে শচীন টেন্ডুলকার, শেন ওয়ার্ন, ডেভিড গাওয়ারসহ সাবেক কিংবদন্তিরা শোক প্রকাশ করেছেন তার মৃত্যুতে। শুক্রবার রাতে লাহোরে নিজ বাড়িতে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন আবদুল কাদির। তার বয়স হয়েছিল ৬৩ বছর। পাকিস্তানের হয়ে ৬৭টি টেস্ট ও ১০৪টি ওয়ানডে খেলেছিলেন তিনি।

ইমরানের হাতেই কাদিরের ক্যারিয়ারের পুনর্জন্ম হয়েছিল। সতীর্থকে হারানোয় ইমরানের বেদনাটাও যেন একটু বেশি, 'আমি খুব ভালো একজন বন্ধুকে হারালাম আর দুর্দান্ত এক ক্রিকেটারকে, যে দেশের জন্য নিজেকে নিংড়ে দিয়েছে। তার চলে যাওয়া আমার জন্য বড় আঘাত।' বোলার কাদিরের মূল্যায়ন করতে গিয়ে তিনি বলেন, 'শুধু পরিসংখ্যান দিয়ে কাদিরের মতো জিনিয়াসের মূল্যায়ন করা যাবে না। ডিআরএস যদি তখন থাকত তাহলে শেন ওয়ার্নের মতোই উইকেট থাকত তার। আবদুল কাদির ছিল এক বিরল প্রতিভা, সর্বকালের সেরা লেগস্পিনারের একজন।' কাদিরের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ওয়ার্ন বলেন, 'ভীষণ দুঃখের খবর। ১৯৯৪ সালে প্রথমবার পাকিস্তান সফরে আমি তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলাম। আমার মতোই যারা লেগস্পিন করে, তারা তাকে অনুসরণ করতাম। দুর্দান্ত একজন বোলার ছিলেন, যিনি কি-না অসংখ্য ব্যাটসম্যানকে বোকা বানিয়েছেন।'

শচীন টেন্ডুলকার টুইট করেন, 'আবদুল কাদিরের বিপক্ষে খেলার কথা মনে পড়ছে। তার সময়ের অন্যতম সেরা স্পিনার ছিলেন। তার পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা।' ওয়াসিম আকরাম যেন একটু বেশি মুষড়ে পড়েছেন কাদিরের মৃত্যুতে, 'নানা কারণে তাকে সবাই জাদুকর বলত। তিনি যখন আমার চোখের দিকে তাকিয়ে বলেছিলেন যে, আমি পাকিস্তানের জন্য ২০ বছর খেলব, তখন আমি বিশ্বাস করেছিলাম। একজন জাদুকর অবশ্যই। একজন লেগস্পিনার ও তার সময়ের পথপ্রদর্শক। আবদুল কাদির, আপনার অভাব সবাই টের পাবে, কিন্তু কখনও ভুলবে না।' কিংবদন্তি ইংলিশ ওপেনার গ্রাহাম গুচ এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, শেন ওয়ার্নের চেয়ে অনেক ভালো স্পিনার ছিলেন কাদির। রিচি বেনোর অলটাইম গ্রেটেস্ট ইলেভেনেও জায়গা পেয়েছিলেন কাদির।

বিশ্ব ক্রিকেট ফিঙ্গার স্পিনার অনেক পেলেও কাদিরই ছিলেন প্রথম রিস্ট স্পিনার। তার লেগ ব্রেক ও গুগলি ত্রাস সৃষ্টি করত ব্যাটসম্যানদের মনে। তবে টপ স্পিন ছিল তার প্রধান অস্ত্র। তার ছিল অদ্ভুত বোলিং অ্যাকশন। অনেকে নাচের সঙ্গেও তুলনা করতেন। তার সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব ছিল মৃতপ্রায় লেগস্পিনকে জাগিয়ে তুলেছিলেন তিনি। পাঁচটি টেস্টে পাকিস্তানের অধিনায়কত্ব করেছেন। এ ছাড়া পাকিস্তানের প্রধান নির্বাচকের দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি।