সানডের ভিসা নিয়ে দুশ্চিন্তা দূর আবাহনীর

প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০১৯

ক্রীড়া প্রতিবেদক

স্বপ্নের দরজা আগেই খুলে গিয়েছিল। প্রথমবারের মতো এএফসি কাপের নকআউট পর্বে নাম লেখায় আবাহনী লিমিটেড। বুধবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ইন্টার জোন প্লে-অফ সেমিফাইনালের প্রথম লেগে উত্তর কোরিয়ান ক্লাব এপ্রিল টোয়েন্টি ফাইভকে ৪-৩ গোলে হারানোর পর স্বপ্নের সীমা ছাড়িয়ে গেছে। এখন আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন আকাশি-নীল জার্সিধারীদের। ইন্টার জোন প্লে-অফের ফাইনালে উঠে ইতিহাস গড়তে চায় তারা। ২৮ আগস্ট পিয়ংইয়ংয়ে ফিরতি লেগ ড্র করলেই নতুন আলোয় আলোকিত হবেন নবীন নেওয়াজ জীবন-সোহেল রানারা। ২৫ আগস্ট উত্তর কোরিয়ার উদ্দেশে দেশ ছাড়বে প্রিমিয়ার লীগের সাবেক চ্যাম্পিয়নরা। যাকে নিয়ে দুশ্চিন্তা ছিল আবাহনীর সেই সানডে সিজোবা যাচ্ছেন উত্তর কোরিয়ায়। তবে টিমের সঙ্গে নয়, একদিন পর যাবেন নাইজেরিয়ান এ ফরোয়ার্ড। গতকাল সমকালকে নিশ্চিত করেছেন আবাহনী ম্যানেজার সত্যজিৎ দাস রুপু, 'সানডেকে আমরা দ্বিতীয় লেগে পাচ্ছি, এটা মোটামুটি নিশ্চিত। ব্যাংকক থেকে চায়না হয়ে ট্রানজিট নিয়ে উত্তর কোরিয়ায় যাবেন তিনি।'

এপ্রিল টোয়েন্টি ফাইভের সব খেলোয়াড়ই সেনাবাহিনীর সদস্য। ম্যাচের আগে এগিয়ে ছিল তারাই। ফুটবলপাড়ায় এমনও আলোচনা হয়েছিল যে, পাত্তাই পাবে না আবাহনী। হারের ব্যবধানটা কত হবে, সেটার হিসাবও অনেকে কষেছিলেন। কিন্তু হারার আগে হেরে যাওয়ার মানসিকতা ছিল না সানডে সিজোবাদের। কোচ মারিও লেমোস ছিলেন সাহসী। সিদ্ধান্তগুলোও নিয়েছেন সাহসী। চোট ও নিষেধাজ্ঞার কারণে গুরুত্বপূর্ণ চার ফুটবলারকে ছাড়া খেলতে নামা আবাহনী শুরু থেকেই ছিল আক্রমণাত্মক। বিশ্বকাপ খেলা একটি দেশের ক্লাবের বিপক্ষে সবাই উজাড় করে দিয়েছেন। চার গোল দিয়ে তিন গোল হজম করায় একটু অস্বস্তি আবাহনী শিবিরে। কারণ দ্বিতীয় লেগে হারলেই যে নকআউট হবে তারা। হার নয়, উত্তর কোরিয়ায় গিয়েও জিততে মরিয়া ফেডারেশন কাপের চ্যাম্পিয়নরা। কোচ লেমোস তো খুবই আত্মবিশ্বাসী, 'আমার কাছে মনে হয়েছে উত্তর কোরিয়ায় গিয়েও তাদের হারাতে পারব। ফুটবলাররা সবাই আত্মবিশ্বাসী। সবার মাঝে আছে জয়ের তাড়না। আপনি দেখেছেন আমরা কীভাবে এপ্রিল টোয়েন্টি ফাইভকে থামিয়েছি।' গোলের ব্যবধান নিয়ে একটু আফসোস আবাহনী কোচের, 'স্কোর লাইন ৪-২ গোলে বেশি খুশি হতাম। ৪-৩-ও হতাশ নই। কারণ আমরা তো জিতেছি। সেখানে গিয়ে ড্র করলেই তো আরেকটি ইতিহাস গড়ব আমরা।'

সোহেল রানার করা আবাহনীর প্রথম গোলটি বিশ্বমানের। জীবনের ব্যাকহিল থেকে তার নেওয়া বাঁ পায়ের দ্রুতগতির শট দেখা যায় ইউরোপিয়ান ফুটবলে। সেই সোহেল রানাও পরের লেগ নিয়ে খুব আশাবাদী, 'ঘরের মাঠে এই জয় পরের লেগে ভালো খেলতে আমাদের অনুপ্রেরণা জোগাবে।'