আবাহনীর প্রথম 'ফাইনাল'

প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০১৯

ক্রীড়া প্রতিবেদক

আবাহনীর প্রথম 'ফাইনাল'

এপ্রিল টুয়েন্টি ফাইভের মিডফিল্ডার চো জং ইয়কের সঙ্গে আবাহনীর অধিনায়ক শহীদুল আলম সোহেল - বাফুফে

উত্তর কোরিয়ান ক্লাব এপ্রিল টুয়েন্টি ফাইভ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৪৯ সালে। তার ২৩ বছর পর ১৯৭২ সালে জন্ম আবাহনীর। প্রতিষ্ঠার সঙ্গে ফুটবলের শক্তিতেও আবাহনীর চেয়ে অনেক এগিয়ে এপ্রিল টুয়েন্টি ফাইভ। বাংলাদেশের চ্যাম্পিয়নরা যেখানে প্রথমবার এএফসি কাপের ইন্টার-জোন প্লে-অফ সেমিফাইনালে খেলছে, সেখানে এই মঞ্চে উত্তর কোরিয়ান ক্লাবটির এটা তৃতীয় আসর। একবার তো ইন্টার-জোন প্লে-অফের ফাইনালেও খেলেছিল তারা। এএফসি কাপে ইতিহাস গড়া আবাহনীর সামনে কঠিন পরীক্ষা। সেই পরীক্ষায় উতরানোর বিশ্বাস আছে কোচ মারিও লেমোসের। বিশ্বাস আছে ফুটবলারদের। প্রথম লেগে এপ্রিল টুয়েন্টি ফাইভকে হারিয়ে নতুন দিগন্তে পা রাখতে মরিয়া আকাশি-নীল জার্সিধারীরা। তাদের প্রেরণায় ঢাকা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। উত্তর কোরিয়ান এই ক্লাবটির বিপক্ষে জিতেছিল সাদা-কালো জার্সিধারীরা। আজ সেই মোহামেডান হতে পারবে আবাহনী? বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে সন্ধ্যা পৌনে ৭টায়। ২৮ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে ফিরতি লেগ।

ক্লাব নয় আবাহনী প্রতিনিধিত্ব করছে বাংলাদেশকে। গত কয়েক বছর ধরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলো ছড়াচ্ছে শুধুই আবাহনী। ঐতিহ্যের ঢাকঢোল পিটিয়ে চলা মোহামেডান ছিল না আলোচনায়। এএফসি কাপের নকআউট পর্বে এপ্রিল টুয়েন্টি ফাইভ আবাহনীর প্রতিপক্ষ হওয়ার পরই আলোচনায় চলে আসে মতিঝিলপাড়ার ক্লাবটি। অতীতে এএফসি কাপ বলতে কোনো আসর ছিল না। এশিয়ান ক্লাব চ্যাম্পিয়নশিপের চূড়ান্ত পর্বে দু'বারই উত্তর কোরিয়ার এই ক্লাবের বিপক্ষে খেলেছিল মোহামেডান। ১৯৮৮-৮৯ মৌসুমে এপ্রিল টুয়েন্টি ফাইভকে তাদেরই মাঠে ১-০ গোলে হারিয়েছিল বাংলাদেশের ক্লাবটি। ১৯৯০-৯১ মৌসুমে একই আসরে দু'দলের ম্যাচটি হয়েছিল গোলশূন্যে। এবার মোহামেডান হওয়ার পালা আবাহনীর। কিন্তু এই আবাহনী যে এখন অনেকটাই দুর্বল। এএফসি কাপে আবাহনীকে নকআউট পর্বে ওঠানোর নায়ক আফগান ডিফেন্ডার মাসিহ সাইঘানি চলে গেছেন চেন্নাইন এফসিতে। তার পরিবর্তে আসা মিসরের ঈসা নিষেধাজ্ঞার কারণে খেলতে পারবেন না। চোটের কারণে নেই মিডফিল্ডার মামুনুল ইসলাম। গুরুত্বপূর্ন তিন ফুটবলারকে ছাড়াই খেলতে হচ্ছে ফেডারেশন কাপের চ্যাম্পিয়নদের। যা হয়ে গেছে, তা নিয়ে পড়ে থাকতে চান না কোচ লেমোস। গতকাল বাফুফে ভবনে ম্যাচ-পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে খুবই আত্মবিশ্বাসী দেখাল আবাহনী কোচ লেমোসকে, 'ইনজুরি সমস্যা থাকতেই পারে। এটা নিয়ে কী করার আছে। আর আমি এটাকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করাতে চাই না। বাকিদের ওপর আমার বিশ্বাস আছে। রক্ষণভাগে যদি ভালো খেলতে পারি, তাহলে যে কোনো কিছুই সম্ভব। আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি, এপ্রিল টুয়েন্টি ফাইভকে হারানো সম্ভব।'

এপ্রিল টুয়েন্টি ফাইভ ক্লাবের সব খেলোয়াড়ই সেনাবাহিনীর সদস্য। এই ক্লাবে খেলেন জাতীয় দলের আট ফুটবলার। ঢাকায় এসেছেন চারজন- কুন চাং ইয়ক, ও হুয়ক চুল, কিম ইউ সং এবং আন তায়ে সং। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, এপ্রিল টুয়েন্টি ফাইভে কোনো বিদেশি ফুটবলার নেই। আবাহনীর আছে চার বিদেশি খেলোয়াড়। এসব নিয়ে অবশ্য মাথা ঘামাচ্ছেন না দলটির কোচ ও ইয়ন সন, 'আবাহনীর যে চারজন বিদেশি আছে তাদের সম্পর্কে আমি জানি। আমাদের বিদেশি নেই বলে কোনো সমস্যা নেই।'

এএফসি কাপের গ্রুপ 'আই'য়ে খেলেছিল এপ্রিল টুয়েন্টি ফাইভ। ছয় ম্যাচে ৫ জয় এবং ১টিতে হেরেছিল তারা। প্রতিপক্ষের জালে ১৭ গোল দেওয়া উত্তর কোরিয়ান ক্লাবটি গোল হজম করেছে মাত্র ২টি। আর ৬ ম্যাচে ৪ জয় ১ ড্র ১ হারে গ্রুপ 'ই'র সেরা হওয়া আবাহনী মোট গোল দিয়েছে ১২টি, হজম করেছে পাঁচটি। এই পরিসংখ্যানই বলছে রক্ষণভাগে এপ্রিল টুয়েন্টি ফাইভ কতটা গোছানো। আর আক্রমণেও যে অনেক এগিয়ে তারা। ঘরের ম্যাঠে ম্যাচ বলে আবাহনী যেমন আত্মবিশ্বাসী, প্রতিপক্ষ এপ্রিল টুয়েন্টি ফাইভ ক্লাবও জিততে মরিয়া। আবাহনী কোচ লেমোসের কাছে এই ম্যচটি ফাইনাল, 'এই ম্যাচটির জন্য তিন সপ্তাহের প্রস্তুতি নিয়েছি আমরা। কঠিন একটা ম্যাচ হবে। আমরা জয়ের জন্যই খেলব। আগামীকালের (আজ) ম্যাচটি আমাদের জন্য এককথায় ফাইনাল।'

উত্তর কোরিয়ান ক্লাবটি সম্পর্কে আবাহনী যেমন খুব একটা জানে না, তেমনি করে বাংলাদেশের ক্লাবটির শক্তি-দুর্বলতা সম্পর্কে অনেকটা অজ্ঞ অতিথি ক্লাবটি। বলা যেতেই পারে, দুই অচেনা প্রতিপক্ষের লড়াই। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের চেনা মঞ্চে অচেনা উত্তর কোরিয়ান ক্লাবকে হারিয়ে দেশবাসীকে আনন্দ দিতে চায় আবাহনী।