৭ দল নিয়েই বিপিএল

প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০১৯     আপডেট: ২১ আগস্ট ২০১৯

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বিপিএল টি২০ টুর্নামেন্টে ছয় বছরের চক্র শেষ হয়ে যাওয়ায় নতুন করে চুক্তি হবে ফ্র্যাঞ্চাইজিদের সঙ্গে। এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতেই দু'দিন ধরে ফ্র্যাঞ্চাইজিদের সঙ্গে বৈঠক করছে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল। এরই মধ্যে চারটি ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে বৈঠক শেষ করেছে তারা। সোমবার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ঢাকা ডায়নামাইটস, খুলনা টাইটানস ও রাজশাহী কিংসের সঙ্গে বৈঠক হয়। গতকাল গভর্নিং কাউন্সিলের সঙ্গে বসেছিলেন রংপুর রাইডার্সের কর্মকর্তারা। এই চার ফ্র্যাঞ্চাইজিই টুর্নামেন্টে খেলার ব্যাপারে সম্মতি জানিয়েছে বলে জানান বিপিএল অকশন কমিশনার মাহাবুবুল আনাম। বাকি দুই ফ্র্যাঞ্চাইজি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ও সিলেট সিক্সাসের সঙ্গে সভা হতে পারে আজ। দ্বিপক্ষীয় এই বৈঠক শেষেই জানা যাবে এ ছয়টি ফ্র্যাঞ্চাইজিকেই দ্বিতীয় চক্রে রাখা হবে কি-না। তবে পুরনোদের থেকে সবাই না থাকলেও বিপিএল সপ্তম আসরের খেলাও হবে সাত দলের মধ্যে। গতকাল বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইসমাইল হায়দার মল্লিক এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

পুরনো ছয়টি ফ্র্যাঞ্চাইজি ঢাকা ডায়নামাইটস, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স, খুলনা টাইটানস, রাজশাহী কিংস, রংপুর রাইডার্স আর সিলেট সিক্সার্সের সঙ্গে চিটাগাংয়ের ফ্র্যাঞ্চাইজিও নতুন মালিকানায় যোগ হচ্ছে। তাতে করে দলটির নামও বদলে যাবে।

দুটি ফ্র্যাঞ্চাইজির জন্য নতুন মালিকানা খুঁজছিল বিসিবি। তাতে সাড়া দিয়ে এরই মধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আগ্রহ দেখিয়েছে।

বিপিএলের গত ছয় আসরেই সাতটি করে দল খেলেছে। যদিও টুর্নামেন্টের প্রথম আসরে খেলা কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজিই এ পর্যন্ত টানা খেলতে পারেনি। স্পট ফিক্সিংয়ের অপরাধে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসকে বাদ দেওয়া হয়েছে প্রথম দুই আসর শেষে। আর্থিক অনিয়মের কারণে বাদ পড়েছে বেশিরভাগ ফ্র্যাঞ্চাইজি। বর্তমানে টিকে থাকা ছয় ফ্র্যাঞ্চাইজিই তিন এডিশন ধরে টিকে আছে। মাহাবুবুল আনাম জানান, এই ছয়টি দলই থেকে যেতে পারে। তবে সেটা নির্ভর করবে সিলেট সিক্সার্সের বকেয়া পরিশোধ করলে। যদিও বিসিবি নতুন করে দুটি ফ্র্যাঞ্চাইজি চেয়ে বিজ্ঞাপন দিয়েছে। এরই মধ্যে দুটি আবেদনও জমা পড়েছে। এর একটি চট্টগ্রামের। টিআইটি কোম্পানি আবেদন করেছে। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও বিসিবির প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু ও পরিচালক আকরাম খান চট্টগ্রামের প্রতিনিধিত্ব করেন। সেক্ষেত্রে তারা আশা করবেন, নতুন চক্রে চট্টগ্রামের টিআইটি গ্রুপকে মালিকানা দেওয়া হবে। কারণ গত তিন বছর চট্টগ্রাম ভাইকিংসের ফ্র্যাঞ্চাইজি ছিল দুলাল অ্যান্ড বাদল ব্রাদার্স গ্রুপ। বিপিএল গত আসর শেষেই নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয় এই ব্যবসায়ী গ্রুপ। যে জন্য নতুন করে ফ্র্যাঞ্চাইজি চেয়ে বিজ্ঞাপন দিতে হয়েছে বিসিবিকে।

শেষ পর্যন্ত যে সাতটি দলই খেলুক নতুন চক্রে একই নিয়মে বিপিএল চালাতে চায় বিসিবি। এজন্য ফ্র্যাঞ্চাইজিদের মতামত নেওয়া হচ্ছে। যে চারটি ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে বৈঠক হয়েছে, তারা সবাই একই নীতিমালা রাখার দাবি জানিয়েছে। বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল বলেছে, প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজি তিনজন করে বিদেশি ক্রিকেটার ড্রাফটের বাইরে থেকে নিতে পারবে। তবে নতুন করে চুক্তি হওয়ায় এবার খেলোয়াড় রিটেন না রেখে সরাসরি প্লেয়ার ড্রাফটে যেতে চায় বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল। যদিও চারটি ফ্র্যাঞ্চাইজিই বলেছে, একজন করে স্থানীয় ক্রিকেটারকেও উন্মুক্ত করে দিতে। গতকাল রংপুর রাইডার্সের সিইও ইসতিয়াক সাদিক যেমন বললেন, 'খেলোয়াড়দের রিটেইনশনের কিছু বিষয় আছে, সেগুলো চেয়েছি আমরা। কিছু নতুন সাইনিং ছিল গত বছরের নিয়ম অনুসারে, সেগুলো বোর্ড দিতে চাচ্ছে। আর এখন থেকে আইকন ক্রিকেটারের কোনো নিয়ম থাকবে না। যেটা থাকছে সেটা একজন লোকাল ডাইরেক্ট সাইনিং, সেটা আমরা ম্যান্ডেটরি চেয়েছি বোর্ডের কাছে।' তাদের এই প্রস্তাব মেনে নিলে সাকিবকেই খেলাতে পারবে রংপুর।