কোচের বাজার চড়া

প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০১৯      

ক্রীড়া প্রতিবেদক

কোচের বাজার চড়া

দীর্ঘ মেয়াদে বাংলাদেশ দলের কোচ হতে চান খালেদ মাহমুদ সুজন। কিন্তু তিনি আবেদন করেন না কখনই : ফাইল ছবি

কারও কোচই নেই, কারও থাকলেও মেয়াদ বাড়ানো হয়নি, কেউ অল্প ক'দিন মেয়াদ বাড়িয়ে কাজ চালাচ্ছে, কেউ মাসের পর মাস চলছে ভারপ্রাপ্ত দিয়ে; কেউবা আবার মেয়াদ থাকা কোচকে ছাঁটাই করতে উন্মুখ, আছে অচিরেই শূন্য হতে যাওয়া পদ পূরণের তোড়জোড়ও। সব মিলিয়ে টেস্টখেলুড়ে আটটি দেশের ক্রিকেট বোর্ডই এ মুহূর্তে প্রধান কোচ নিয়ে ব্যস্ততার মধ্যে আছে। এরই মধ্যে কোচ চেয়ে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞাপন দিয়েছে বেশ কিছু দেশ, কেউ দেওয়ার পথে। স্টিভ রোডসকে বিদায় করে দেওয়ার পর এরই মধ্যে কোচিং পদের জন্য আবেদন চেয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। তবে সাড়া খুব একটা মেলেনি। চারটি মাত্র আবেদন জমা পড়েছে বিসিবিতে। বাংলাদেশের কোচ হতে আগ্রহীর সংখ্যা কম হলেও পার্শ্ববর্তী ভারতে তা উল্টো। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক কোচ মিলিয়ে দুই হাজার আবেদন পড়েছে সেখানে। আপাতত বাংলাদেশসহ বেশিরভাগ ক্রিকেট বোর্ডই অপেক্ষা করছে বিসিসিআইর কোচ নিয়োগ পর্যন্ত। মোটের ওপর কোচের বাজার এখন বেশ গরমই বলা চলে।

প্রধান কোচ নিয়োগ দিতে বিশ্বের বেশ কিছু তারকা কোচের সঙ্গে যোগাযোগও করেছে বিসিবি। এই তালিকায় গ্যারি কারস্টেন, মিকি আর্থার, চান্ডিকা হাথুরুসিংহের নাম শোনা গেছে। তবে তাদের কেউ কেউ আইপিএল বা বিপিএলের মতো ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে কাজ করার স্বাধীনতা চেয়েছেন বলে জানা গেছে। বিসিবি এতে রাজি হয়নি। তারা চায়, মানে ও নামে ভারি কোচ পূর্ণ সময়ের কোচ। তবে প্রধান কোচ নিয়োগ দিতে এ মুহূর্তে তাড়াহুড়ো নেই বিসিবির। অপেক্ষা করছে একজন ভালো কোচের জন্য। বিসিবির পছন্দ দায়িত্বশীল, অভিভাবকসুলভ, স্কিল ও প্ল্যানিংয়ে দক্ষ, খেলোয়াড়দের শেখানো এবং পারফরম্যন্স আদায় করে নিতে পারেন এমন একজন কোচ। আবার তাকে নামি-দামি হতে হবে এজন্য যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রেসে থাকতে হয় বিসিবিকে।

ভারত জাতীয় দলের কোচ নিয়োগ হওয়ার পরই প্রধান কোচের জন্য আদাজল খেয়ে নামবে বিসিবি। তাই বলে এখন হাত গুটিয়ে বসে নেই কর্মকর্তারা। কোচদের এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন তারা। বিসিবির চাওয়ামতো কেউ জাতীয় দলের কোচ হতে রাজি হলেই নিয়োগ দেবে।

এরই মধ্যে পেস বোলিং কোচ হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকার চার্ল ল্যাঙ্গেভেল্ট আর স্পিন উপদেষ্টা কোচ হিসেবে নিউজিল্যান্ডের সাবেক অলরাউন্ডার ড্যানিয়েল ভেট্টোরিকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ল্যাঙ্গেভেল্টকে পুরো সময়ের জন্য আর ভেট্টোরির সঙ্গে বছরে ১০০ দিনের জন্য চুক্তি করেছে।

তবে ফ্র্যাঞ্চাইজি যুগে বড় সমস্যা দেখা দিয়েছে চাহিদা থাকায় মোটামুটি মানের কোচরাও চড়া বেতন হাঁকাচ্ছেন। সাধারণ কোচরাও এখন মাসে ২০-২৫ হাজার ডলার বেতন চান। আর টম মুডি, গ্যারি কারস্টেন, ট্রেভর বেলিস, মাহেলা জয়াবর্ধনেরা মাসে ৫০ হাজার ডলার বা তারও বেশি বেতন দাবি করছেন। ক্রিকেট বিশ্বের খুব কম দেশই রয়েছে যে, ওই পরিমাণ অর্থ দিয়ে ভালোমানের একজন কোচ সারা বছরের জন্য নিয়োগ দিতে পারবে। বিসিবি আর্থিকভাবে সচ্ছল, ভালো মানের কোচ পেলে টাকা বাধা হবে না। কিন্তু সমস্যা হয়ে গেছে পুরো সময়ের জন্য কোচ খুঁজে পাওয়া। তবে বেশ কিছু দেশ পুরনো কোচদের ছেড়ে দেওয়ায় বা চুক্তি নবায়ন না করায় বাজার উন্মুক্ত হচ্ছে। দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ ওটিস গিবসন, আফগানিস্তানের কোচ ফিল সিমন্স, পাকিস্তানের কোচ মিকি আর্থার, শ্রীলংকার কোচ চান্ডিকা হাথুরুসিংহে, ইংল্যান্ডের কোচ ট্রেভর বেলিসের যে কাউকেই দেখা যেতে পারে নতুন ঠিকানায়। তবে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের দাপটে জাতীয় দলের জন্য ভালোমানের কোচ খুঁজে পাওয়াই দায়।

১৩ আগস্ট হাথুরুর আলটিমেটাম

চন্ডিকা হাথুরুসিংহের সঙ্গে শ্রীলংকান ক্রিকেট বোর্ডের চুক্তির মেয়াদ আছে আরও ১৬ মাস। বিশ্বকাপের পর পূর্ণ মেয়াদ কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন হাথুরুসিংহে নিজেও। কিন্তু দেশটির সরকার, বিশেষত ক্রীড়া মন্ত্রণালয় তাকে আর দায়িত্বে রাখতে রাজি নয়। দুই সপ্তাহ আগে বিশ্বকাপের কোচিং স্টাফকে পদত্যাগের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে; কিন্তু বেঁকে বসেছেন হাথুরুসিংহে। সরতে তিনি রাজি নন। এ অবস্থায় ক্রীড়ামন্ত্রী হারিন ফার্নান্দো তাকে আলটিমেটাম দিয়েছেন। ১৪ আগস্ট নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ শুরুর আগেই সরে যেতে বলা হয়েছে তাকে, যাতে নতুন কোচ নিয়োগ করা যায়। বাংলাদেশে তিন বছর দায়িত্ব পালন করে যাওয়া হাথুরুকে সরিয়ে দেওয়ার দৃশ্যমান কারণ বেতনের পরিমাণ। ক্রীড়ামন্ত্রীই বলেছেন, হাথুরুসিংহেকে মাসে চল্লিশ হাজার ডলারে রাখার মানে হয় না, যেখানে সাড়ে ১৭ হাজার থেকে ২৫ হাজার ডলারের মধ্যে ভালোমানের বিদেশি কোচ পাওয়া যায়! দু'জন বিদেশি আর একজন সাবেক লংকান ক্রিকেটার নাকি প্রধান কোচ হওয়ার ব্যাপারে নিজেদের আগ্রহের কথাও জানিয়েছেন। কারও নামই অবশ্য তিনি প্রকাশ করেননি। তবে একটি নাম ডিন জোন্স বলে জানিয়েছে লংকান গণমাধ্যম। কিন্তু হাথুরুসিংহে না সরলে কারও সঙ্গেই আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ নেই শ্রীলংকান বোর্ডের। শেষ পর্যন্ত হাথুরুসিংহে যদি না সরেন, তাহলে কী করা হতে পারে- তিন দিন আগে এমন এক প্রশ্নের জবাবে লংকান ক্রীড়ামন্ত্রী বলেন, আইনি ব্যবস্থা অথবা বোর্ডে অন্য কোনো দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে তাকে।



ক্যারিবীয়দের কোচ হতে চান ওয়ালশ

ক'বছর ধরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হেড কোচ পদ ভীষণ নড়বড়ে। ফিল সিমন্স, স্টুয়ার্ট ল, রিচার্ড পাইবাসের পর চলছে এখন ফ্লয়েড রেইফার জমানা। এক দশক আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছাড়া রেইফার ভারপ্রাপ্ত কোচ হিসেবে পার করেছেন বিশ্বকাপ, চালিয়ে নিচ্ছেন চলমান ভারত সিরিজও। তবে আগামী মাসেই স্থায়ী হেড কোচ নিয়োগের কার্যক্রম শুরু করবে উইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ড (ডব্লিউসিবি)। দৌড়ে আপাতত রেইফার ছাড়া আর কারও নাম বোর্ডের মধ্যে এখনও উচ্চারিত হয়নি। তবে ব্যক্তিগতভাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রধান কোচ হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন কোর্টনি ওয়ালশ। তিন বছর বাংলাদেশ দলের পেস বোলিং কোচের দায়িত্ব পালন করা ওয়ালশ বিশ্বকাপের পর বিসিবির চাকরি ছেড়েছেন। তিন দিন আগে জ্যামাইকা-গ্লিনারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারিবীয়দের কোচ হওয়ার ইচ্ছা অনেক আগের উল্লেখ করে ওয়ালশ বলেন, 'বাংলাদেশ দলের সঙ্গে থেকে আন্তর্জাতিক ম্যাচ সম্পর্কে আমার বেশ ধারণা হয়েছে। আমাদের অঞ্চলে যোগাযোগের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয় কম। অথচ খেলোয়াড়দের সঙ্গে যোগাযোগ ভালো হলে মাঠের কার্যক্রমে তার ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। ক্যারিবীয় ক্রিকেটের উন্নতির জন্য এ দিকটিতে মনোযোগ দেওয়া দরকার।' খেলোয়াড়ি জীবনে ২২ টেস্ট ওয়েস্ট ইন্ডিজকে নেতৃত্ব দেওয়া ওয়ালশ একসময় দলটির নির্বাচকের ভূমিকায় কাজ করেছিলেন। সিপিএলের দল জ্যামাইকা তালওয়াহতে কাজ করেছেন মেন্টর হিসেবে। এবারও তাকে দায়িত্ব দিতে চেয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। তবে না করে দিয়েছেন। তার মনোযোগ এখন ক্যারিবীয়দের নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে।



রবি শাস্ত্রীই থাকছেন!

বয়স ৬০-এর নিচে, কমপক্ষে ৩০টি টেস্ট বা ৫০টি ওয়ানডে খেলেছেন এবং কোনো একটি টেস্ট খেলুড়ে দেশকে অন্তত দুই বছর কোচিং করিয়েছেন- এই হচ্ছে ভারতের কোচ পদে আবেদনের প্রধান তিন মানদণ্ড। গত সপ্তাহে শেষ হয়েছে আবেদনের সময়সীমা। ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বিরাট কোহলিদের কোচ হতে চেয়ে আবেদন করেছেন দুই হাজার ব্যক্তি। তারা সবাই ভারতের প্রধান কোচ হতে চান। চাইতেই পারেন। ক্রিকেট বিশ্বে অর্থে, প্রচারে, দাপটে কোচিং পদের সবচেয়ে লোভনীয় চাকরি তো এটাই। তবে শয়ে শয়ে আবেদন পড়লেও এর মধ্যে বড় নাম হাতেগোনা। শ্রীলংকা ও সানরাইজার্সের সাবেক কোচ টম মুডি, নিউজিল্যান্ডের সাবেক কোচ মাইক হেসন আর জিম্বাবুয়ে কোচ লালচাঁদ রাজপুতরাই যা বিশ্বজুড়ে চেনা নাম। তবে সবাইকে ছাপিয়ে রবি শাস্ত্রীই ভারতের কোচ পদে টিকে যেতে পারেন বলে জোর গুঞ্জন। ক্রিকেটার থেকে ধারাভাষ্যকার আর ধারাভাষ্যকার থেকে কোচ বনে যাওয়া শাস্ত্রী ভারতীয় দলের সঙ্গে আছেন দুই বছর ধরে। অধিনায়ক কোহলি নাকি তাকেই দলের সঙ্গে রেখে দেওয়ার পক্ষে। বিশ্বকাপের মধ্য দিয়ে চুক্তি শেষ হয়ে যাওয়ার পর আপাতত ৪৫ দিনের বর্ধিত চুক্তির অধীনে আছেন শাস্ত্রী। এখন সামনের আরও দুই বছরের জন্য নতুন করে দায়িত্ব পান কি-না, সেটি বোঝা যাবে ১৪ আগস্টের পর। কোচ চূড়ান্ত করার জন্য কপিল

দেবের নেতৃত্বে বিসিসিআই যে ক্রিকেট কমিটি গঠন করে দিয়েছে, সে কমিটি ১৩ বা ১৪ আগস্ট সম্ভাব্য কোচদের সাক্ষাৎকার

নেবে। শাস্ত্রীকে যদি দায়িত্ব আর না দেওয়া হয়, তাহলে মুডি হওয়ার কথা প্রথম পছন্দ। তবে ২০১৭ সালেও যেহেতু মুডিকে বাদ দিয়ে শাস্ত্রীকে বেছে নেওয়া হয়েছিল,

তাই এবারও তেমন কিছুর সম্ভাবনা বেশি।



যেখানে কোচের চেয়ে ম্যানেজার বড়

বিশ্বকাপ ব্যর্থতার পর ওটিস গিবসনকে সরিয়ে দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। কেবল প্রধান কোচ নয়, সহকারী কোচ মালিবঙ্গো মাকেতা, ফিল্ডিং কোচ জাস্টিন অংটং, স্পিন কোচ ক্লদি হেন্ডারসন, ব্যাটিং কোচ ডেল বেনকেনস্টেইন এবং নির্বাচক কমিটির আহ্বায়ক লিন্ডা জন্ডির সঙ্গেও চুক্তি নবায়ন করা হয়নি। গোটা কোচিং স্টাফকে বরখাস্ত করে দেওয়ার মূলে দল পরিচালনা পদ্ধতিতে পুনর্গঠন। ক্রিকেট সাউথ আফ্রিকা (সিএসএ) সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এখন থেকে জাতীয় দল চলবে একজন টিম ম্যানেজারের অধীনে। এই ম্যানেজারই প্রয়োজনবোধে সহকারী কোচ, এক বা একাধিক অধিনায়ক এবং ফিজিও নিয়োগ দেবেন। টিম ম্যানেজার নিয়ন্ত্রিত হবেন বোর্ডের ডিরেক্টর অব ক্রিকেটের অধীনে। ফুটবলীয় মডেলের এই ব্যবস্থা অবশ্য সহসাই বাস্তবায়িত হওয়ার সম্ভাবনা কম। সামনের মাসেই দক্ষিণ আফ্রিকার ভারত সফর। এ সফরে ভারপ্রাপ্ত টিম ডিরেক্টর আর ম্যানেজার দিয়ে কাজ চালানোর কথা জানিয়েছে সিএসএ। তবে শিগগিরই পদগুলো স্থায়ী নিয়োগের জন্য বিজ্ঞাপন দেওয়া হবে। এখন থেকেই আলোচনা শুরু হয়ে গেছে কাকে দেওয়া হবে টিম ম্যানেজারের দায়িত্ব। প্রথমেই নাম উঠে এসেছে পিটার মুরসের। ইংল্যান্ডকে দুই দফায় কোচিং করানো এই ইংলিশ এখন নটিংহামশায়ারের দায়িত্বে আছেন। মুরস প্রথমবার যার সঙ্গে ঝামেলা বাধিয়ে দায়িত্ব ছেড়েছিলেন, সেই কেভিন পিটারসেন সিএসএকে পরামর্শ দিয়েছেন, টিম ম্যানেজার হিসেবে সাবেক ক্রিকেটার মার্ক বাউচারকে নিয়োগ দেওয়া হয়।



বেলিসের বিকল্প কে

বিশ্বকাপ জেতানো ট্রেভর বেলিস অ্যাশেজের পরই চলে যাচ্ছেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ব্যস্ত সূচি থেকে এবার কিছুটা রেহাই চান এ অস্ট্রেলিয়ান। এরই মধ্যে আইপিএলের দল সানরাইজার্সের সঙ্গে চুক্তিও হয়ে গেছে তার। বেলিসের চলে যাওয়া নিশ্চিত হওয়ার পর এখন তার বিকল্প খুঁজছে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। এক্ষেত্রে তিনজন সম্ভাব্য কোচের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিরেক্টর অব ক্রিকেট অ্যাশলে জাইলস। এ তিনজনের একজন মিকি আর্থার- যিনি আবার পাকিস্তানের কোচ পদে থেকে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন পিসিবিকে। অন্য দু'জন দক্ষিণ আফ্রিকার সদ্য সাবেক কোচ ওটিস গিবসন আর ভারতের বিশ্বকাপজয়ী কোচ গ্যারি কারস্টেন। গিবসন প্রোটিয়াদের দায়িত্ব নেওয়ার আগে দুই দফায় ইংল্যান্ডের বোলিং কোচ ছিলেন। আর ২০১১ বিশ্বকাপজয়ী কারস্টেন দুই বছর পর দক্ষিণ আফ্রিকার দায়িত্ব নিয়ে ইংল্যান্ডে এসে সিরিজ জিতেছিলেন। জাইলস অবশ্য একসময় একজন ইংলিশকে কোচ করা হতে পারে বলে মন্তব্য করেছিলেন। সেক্ষেত্রে বিদেশিদের মধ্যে কারস্টেন, গিবসন বা আর্থারদের কারও সঙ্গেই যদি চূড়ান্ত বনিবনা না হয়, তাহলে সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়ে উঠবে বর্তমান সহকারী কোচ ক্রিস সিলভারউড, পল কলিংউড ও গ্রাহাম থর্পদের। সম্প্রতি বিবিসির খবরে এমন আভাসও দেওয়া হয়েছে।



দুই নৌকায় পা আর্থারের

চলতি মাসের প্রথম দিন বিগত তিন বছর পাকিস্তান দলের সঙ্গে থাকা কোচ, অধিনায়ক ও নির্বাচক প্রধানকে নিয়ে বসেছিল পাকিস্তানের ক্রিকেট কমিটি। সেখানে নিজের কাজে সন্তুষ্টি জানিয়ে আরও দুই বছরের জন্য চুক্তি নবায়নের দাবি জানিয়েছিলেন মিকি আর্থার। মজার বিষয় হচ্ছে, এর একদিন পরই ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের ক্রিকেট ডিরেক্টর অ্যাশলে জাইলস জানান, ইংল্যান্ডের পরবর্তী কোচ হতে নিজের আগ্রহের কথা জানিয়ে রেখেছেন আর্থার; আর সেটি মাত্রই গত মাসে। অর্থাৎ, দুই নৌকাতেই পা দিয়ে রেখেছেন আর্থার।

দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়াকে কোচিং করানো আর্থার পাকিস্তান দলের সঙ্গে আছেন তিন বছর ধরে। তার অধীনে ২০১৭-এর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জিতেছিল পাকিস্তান। তবে সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপে সরফরাজদের সেমিফাইনালে না উঠতে পারা এবং চাপের সময় দলকে সঠিকভাবে পরিচালিত করতে না পারার অভিযোগকে ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন পিসিবির কেউ কেউ। দ্য ডন জানিয়েছে, ২০২০ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্যন্ত আর্থারকে রেখে দেওয়া হতে পারে। তবে পিসিবির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ পাকিস্তানের সাবেক এক ক্রিকেটার ভিন্ন একটি প্রস্তাবও দিয়ে রেখেছেন। শ্রীলংকার সাবেক অধিনায়ক মাহেলা জয়াবর্ধনেকে কোচ করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তবে আইপিএলের মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের কোচের দায়িত্ব পালন করা মাহেলা প্রস্তাব পেলেও রাজি হবেন কি-না- এ নিয়ে সংশয় আছে। মনোযোগের কেন্দ্রে আপাতত আর্থারই।