এজবাস্টনে অস্ট্রেলিয়ার হাসি

প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০১৯      

স্পোর্টস ডেস্ক

বুক সমান উচ্চতায় ধেয়ে আসা কামিন্সের স্লোয়ার বাউন্সার থেকে শরীর বাঁচাতেই ব্যাট পেতে দিয়েছিলেন ক্রিস ওকস। বল তার ব্যাটে লেগে চলে যায় স্লিপে দাঁড়ানো স্টিভেন স্মিথের হাতে। সঙ্গে সঙ্গে তাকে ঘিরে উল্লাসে মাতে অস্ট্রেলিয়ানরা। একেবারে উপযুক্ত লোকের হাতেই টেস্টের পরিসমাপ্তি ঘটল। ১২২ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে বসা অস্ট্রেলিয়ানরা তো ঘুরে দাঁড়িয়েছে তার ব্যাটেই। দ্বিতীয় ইনিংসেও তার সেঞ্চুরিতেই বড় টার্গেট দেয় অসিরা। যার ফলে এসেছে ২৫১ রানের জয়। পাঁচ টেস্টের সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেল অসিরা।

৩৯৮ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে গতকাল নাথান লায়নের ঘূর্ণি ও প্যাট কামিন্সের পেসে মাত্র ১৪৬ রানে গুটিয়ে যায় ইংল্যান্ড। দু'জনে ভাগাভাগি করে ইংলিশদের দশ উইকেট তুলে নেন। ৬ উইকেট নিয়ে এগিয়ে ছিলেন অবশ্য অফস্পিনার নাথান লায়ন। এজবাস্টন সবসময় ছিল ইংলিশদের ঘাঁটি। গত ১৮ বছর এখানে জয়ের দেখা পায়নি অস্ট্রেলিয়া। ২০০১ সালে সর্বশেষ তারা যখন এই মাঠে জিতেছিল তখন কিন্তু অ্যাশেজ নিয়েও বাড়ি ফিরেছিলেন স্টিভ ওয়াহ-শেন ওয়ার্নরা। এবারও কি তেমন কিছুই ঘটতে যাচ্ছে! এজবাস্টনে জোড়া সেঞ্চুরি করে স্মিথ কিন্তু তেমন ইঙ্গিতই দিয়েছেন। জয়ের পর পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে দাঁড়িয়ে স্মিথের অকুণ্ঠ প্রশংসা করেছেন অসি অধিনায়ক টিম পাইন, 'আমি বলব না যে অবাক হয়েছি (ঘুরে দাঁড়ানোয়)। এক পর্যায়ে আমরা কিছুটা পিছিয়ে পড়েছিলাম। তবে তখন কিন্তু বিশ্বের সেরা ক্রিকেটারটি ক্রিজে ছিল। আমাদের দ্বিতীয় ইনিংসটি অসাধারণ ছিল। ব্যাট ও বল উভয় বিভাগেই। স্মিথকে নিয়ে বলার ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। সম্ভবত টেস্ট ক্রিকেটে সেরা পারফরম্যান্সটি আমরা চোখের সামনে দেখলাম।'

স্মিথ যে ম্যাচসেরা হচ্ছেন সেটা নিয়ে কারও কোনো সন্দেহই ছিল না। তারপরও পুরস্কারটি হাতে নিয়ে স্মিথ বলেন, 'খুবই স্পেশাল।' আর জয়ের কৃতিত্ব দিয়েছেন দলের সবাইকে। আলাদা করে বলেছেন স্পিনার নাথান লায়নের কথা। তার সবচেয়ে বড় স্বস্তি অস্ট্রেলিয়ার হয়ে আবার মাঠে নামতে পারা, 'আবার অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলতে পারছি বলে আমি সবার কাছে কৃতজ্ঞ। যে কাজটা করতে ভালোবাসি সেটা করতে পেরেছি এবং দলের জয়ে অবদান রাখতে পেরেছি বলে ভীষণ ভালো লাগছে। প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার জয়ে অবদান রাখতে পেরে আমি রীতিমতো আনন্দে ভাসছি।'

চতুর্থ দিনে উইকেটের অবস্থা দেখেই বোঝা গিয়েছিল, এখানে লায়নের স্পিন খেলা বেশ চ্যালেঞ্জিং হবে। হয়েছেও তাই। কামিন্স ওপেনিং জুটি ভাঙার পর লাঞ্চের আগে অধিনায়ক রুটসহ তিন উইকেট তুলে নিয়ে ইংলিশদের মেরুদণ্ডটা ভেঙে দেন লায়ন। জেসন রয় তার স্পিনে ডাউন দ্য উইকেটে খেলতে গিয়ে দৃষ্টিকটুভাবে বোল্ড হয়েছেন। লাঞ্চের ঠিক আগে আগে ডেনলি ও রুটের উইকেট তুলে নিয়ে ইংল্যান্ডের প্রতিরোধের সম্ভাবনা শেষ করে দেন লায়ন। বিরতি থেকে ফেরার পর বাটলার ও বেয়ারেস্টোকে আউট করেন কামিন্স। দলের রান একশ'তে যাওয়ার আগে স্টোকসকেও লায়ন আউট করে দিলে ইংলিশদের পরাজয় সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। আধঘণ্টার মধ্যে বাকি তিন উইকেট তুলে জয়ের কাজটা সম্পন্ন করেন লায়ন ও কামিন্স।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

অস্ট্রেলিয়া :২৮৪ ও ৪৮৭/৭ ডিক্লে. (স্মিথ ১৪২, ওয়েড ১১০, হেড ৫১, প্যাটিনসন ৪৭*; স্টোকস ৩/৮৫)।

ইংল্যান্ড :৩৭৪ ও ১৪৬ (রয় ২৮, রুট ২৮, ওকস ৩৭; লায়ন ৬/৪৯, কামিন্স ৪/৩২)

ফল :অস্ট্রেলিয়া ২৫১ রানে জয়ী

ম্যাচ সেরা :স্টিভেন স্মিথ