দেশিদের গণ্ডি ছোট

প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০১৯      

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বাংলাদেশের ক্রিকেট আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছালেও কোচদের উন্নতিটা সমানতালে হয়েছে বলা যাবে না। কতটা উন্নতি হয়েছে এর মান নির্ণয়েরও সুযোগ কম। কারণ বাংলাদেশের কোচদের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সেভাবে চাকরি করেন না। বিদেশে চাকরি খোঁজার প্রবণতাও কম দেশি কোচদের মধ্যে। এমনকি জাতীয় দলের সঙ্গেও দেশি কোচদের সেভাবে সম্পৃক্ত করা হয় না।

মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, খালেদ মাহমুদ সুজনের বেশ নামডাক কোচ হিসেবে। এই দু'জনই কোচিং পেশায় দারুণ সফল। সালাউদ্দিন একসময় জাতীয় দলের ফিল্ডিং কোচ আর সুজন সহকারী কোচ ছিলেন। আট বছর হলো সালাউদ্দিন বিসিবির চাকরিতে নেই। স্থানীয় লীগের সফল কোচ সুজন ২০০৯ সালে জাতীয় দলের সহকারী কোচ করা হয়েছিল। সে সময়ের প্রধান কোচ জেমি সিডন্সের সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় চাকরি ছেড়ে দেন তিনি। চান্ডিকা হাথুরুসিংহে বিসিবির চাকরি ছেড়ে দেওয়ার পর ২০১৮ সালে হোম সিরিজে ডিরেক্টর অব কোচ করা হয়েছিল তাকে। এবার শ্রীলংকা সফরেও ভারপ্রাপ্ত প্রধান কোচ ছিলেন তিনি। তার অধীনে দুটি সিরিজেই ভালো খেলেনি বাংলাদেশ।

জাতীয় দলের সাবেক প্রধান কোচ সারওয়ার ইমরানের চাহিদা রয়েছে দেশের বাজারে। নতুন নতুন কোচও উঠে এসেছে সাম্প্রতিক সময়ে। জাতীয় দলের সাবেক অলরাউন্ডার আফতাব আহমেদ, ডলার মাহমুদ, নাজমুল হোসেনরা ঢাকা প্রিমিয়ার লীগে কাজ করছেন। এ ছাড়াও বিসিবি এইচপি এবং একাডেমির কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জাতীয় দলের সাবেকদের অনেকে। সাবেক ওপেনার মেহরাব হোসেন অপি, ফয়সাল হোসেন ডিকেন্স, সাবেক পেস বোলার তালহা জুবায়ের বিসিবির কোচ। কোচিং পেশায় যুক্ত হয়েছেন এমন আরও অনেকেই আছেন। তবে তাদের কেউই জাতীয় দলের কোচ হতে আবেদন করেননি। খালেদ মাহমুদ সুজন টাইগারদের প্রধান কোচ হতে চাইলেও বিসিবিতে আবেদন করেননি। মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বা আফতাব আহমেদও না। এর কারণ জানতে চাওয়া হলে সালাউদ্দিন বলেন, 'দেশের কোচরা জানেন জাতীয় দলের জন্য আবেদন করলেও বিসিবি নিয়োগ দেবে না। এজন্যই কেউই বিসিবির বিজ্ঞপ্তি দেখার পরও আবেদন করেনি।' তবে দেশি কোচদের কেউ কেউ অবশ্য বিদেশে কোচিং করানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে। সালাউদ্দিন মালয়েশিয়ায়, মঞ্জুরুল ইসলাম চীনে, আমিনুল ইসলাম বুলবুল এসিসি ও আইসিসিরতে আর মিয়ানমারে আশফাকুল ইসলাম কাজ করেছেন। আফগানিস্তান প্রিমিয়ার লীগের কোচ হওয়ার প্রস্তাব পেয়েছেন সালাউদ্দিন। আজ ভিসা পেলে সাক্ষাৎকার দিতে যাবেন তিনি।