সাকিবময় বাংলাদেশ

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০১৯

জহির উদ্দিন মিশু

নটিংহামে অসি পেসার স্টয়নিসের স্লোয়ারের ফাঁদে না পড়লে হয়তো পঞ্চাশের নিচে থামতে হতো না সাকিব আল হাসানকে। তাতে রেকর্ডবুকেও যোগ হতো আরেকটি বিরল কীর্তি। বিশ্বকাপের এক আসরে টানা আট ম্যাচেই পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস। যার দেখা শচীন টেন্ডুলকার, ব্রায়ান লারা কিংবা রিকি পন্টিংয়ের মতো কিংবদন্তি ক্রিকেটারও পাননি। তবু কম কিসে, বাংলাদেশের পুরো বিশ্বকাপ তো সাকিবময়ই কেটেছে।

শুরুটা দক্ষিণ আফ্রিকা দিয়ে। সবাইকে অবাক করে প্রথম জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। আগে ব্যাট করতে নেমে প্রোটিয়াদের সামনে ৩৩০ রানের বড়সড় লক্ষ্য দাঁড় করিয়ে দেন স্টিভ রোডসের শিষ্যরা। সে দিন রাবাদা-এনগিডিদের গতিময় বোলিং মোকাবেলা করে এই রানের পাহাড় গড়ার অন্যতম কারিগর ছিলেন সাকিব। পরের ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের মতো শক্ত প্রতিপক্ষকে আটকাতেও ব্যাটে-বলে পারফর্ম করেন সাকিব। সতীর্থদের আসা-যাওয়ার মাঝে তার ৬৮ বলে ৬৪ রান বাংলাদেশকে এনে দেয় সম্মানজনক সংগ্রহ। এরপর বল হাতেও আলো ছড়ান তিনি। ১০ ওভার হাত ঘুরিয়ে দুই উইকেট নিতে খরচ করেন মোটে ৪৭ রান। যদিও চমৎকার লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে নোঙর করতে পারেনি বাংলাদেশ।

বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে জিততে হলে দলগত পারফরম্যান্সের কোনো বিকল্প নেই। ক্রিকেটবোদ্ধারা যখন এমন যুক্তিতে বিশ্বাসী, সাকিব বোধ হয় তখন তাদের ধারণাকে বদলাতে কোমর বেঁধে নামেন। দ্য ওভালে হারজিতের অঙ্ক কষে নতুন স্বপ্ন নিয়ে কার্ডিফে উড়াল দেয় টিম বাংলাদেশ। নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে টাইগারদের প্রতিপক্ষ তখন ইংল্যান্ড। স্বাগতিক দল, তার ওপর ৫০ ওভারের ক্রিকেটে তুমুল ফর্ম- দুয়ে মিলে বাংলাদেশকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেওয়ার শঙ্কা। কিন্তু যে দলে সাকিবের মতো বিশ্বসেরা ক্রিকেটার থাকে তাদের হয়তো উড়িয়ে দেওয়া অতটা সহজ হয় না। বাস্তবেও ধরা দিল তেমন দৃশ্য। চেনা পরিবেশ আর নিজেদের দর্শকের সামনে বাংলাদেশকে ৩৮৬ রানের বিশাল সংগ্রহ তাড়া করার চ্যালেঞ্জ দেয় ইংল্যান্ড। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এত রান মাড়িয়ে জেতার রেকর্ড কারোই নেই। সেখানে বাংলাদেশের এমন চিন্তা করা দিবাস্বপ্ন ছাড়া কিছুই নয়! তাই বলে দুমড়েমুচড়ে যাওয়ার মতো অবস্থা হলে চলবে কি। যদিও বিধ্বস্ত হওয়ার একটা ইঙ্গিত মিলেছিল শুরুতে। তবে তিন নম্বরে ব্যাট হাতে নামা সাকিব বাংলাদেশকে সহজে হারতে দেননি। নিয়মিত উইকেট পড়ার মাঝে একপাশ আগলে রেখে খেলেন ১২১ রানের ইনিংস। যার সুবাদে শেষমেশ বাংলাদেশ পায় ২৮০ রান। জয় না পেলেও সাকিবে মন ভরেছে নিশ্চয়ই।

টানা দুই হারের পর এবার ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয়। সেইসঙ্গে সেমিফাইনালের আশা জিইয়ে রাখারও একটা প্রচেষ্টা। সামনে পড়ল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এই বুঝি হাঁফ ছেড়ে বাঁচার সাহস দেখানোর ইচ্ছা জাগল লাল সবুজের পতাকাবাহীদের। বাছাই পরীক্ষা দিয়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চের টিকিট পাওয়া ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে দ্বিতীয় জয়ের স্বপ্নবোনা শুরু। তাছাড়া বিশ্বকাপের আগে তিন জাতির টুর্নামেন্টে এই উইন্ডিজকে ভালোই নেড়েচেড়ে দেখা ছিল বাংলাদেশের। সে ক্ষেত্রে বিশ্বকাপেও জয় পাওয়াটা কঠিন হয়নি। বাংলাদেশের সামনে ৩২১ রান দাঁড় করিয়ে দেওয়ার পরও ৭ উইকেটে জয় তুলে নেন মাশরাফিরা। দাপুটে এই জয়েও মূল ত্রাতা সাকিব। ব্যাট হাতে ৯৯ বলে ১২৪ রানের অপরাজিত ইনিংসের পাশাপাশি শিকার করেন দুই উইকেট। তবে শেষ দিকে বাংলাদেশকে দেখা যায় উল্টোরথে হাঁটতে। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে জয়ে দেখা দেয় ভাটার টান। কিন্তু একমাত্র সাকিবের পারফরম্যান্সে পড়েনি কোনো ভাটা।


যেভাবে ৬০৬
ইনিংস প্রতিপক্ষ ভেন্যু
৭৫ দ. আফ্রিকা দ্য ওভাল
৬৪ নিউজিল্যান্ড দ্য ওভাল
১২১ ইংল্যান্ড কার্ডিফ
১২৪* উইন্ডিজ টনটন
৪১ অস্ট্রেলিয়া নটিংহাম
৫১ আফগানিস্তান সাউদাম্পটন
৬৬ ভারত বার্মিংহাম
৬৪ পাকিস্তান লর্ডস