'আরও ভালো হতে পারত'

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০১৯

ক্রীড়া প্রতিবেদক

'আরও ভালো হতে পারত'

৮ ম্যাচে ২০ উইকেট পেলেও বিশ্বকাপজুড়েই নতুন বলে খুব একটা ধার দেখা যায়নি মুস্তাফিজের বলে - ফাইল ফটো

২০ উইকেট নিয়ে তিনি এখন বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী। কিন্তু উইকেট সাফল্যের ক্রমধারায় যতটা এগিয়ে আছেন, কার্যকারিতায় ততটা দেখা যায়নি। মুস্তাফিজুর রহমানের নেওয়া ২০ উইকেটের সবগুলোই ইনিংসের ৩৫ ওভারের পরে পাওয়া। অর্থাৎ, নতুন বলে বা ইনিংসের মাঝে দরকারের সময়ে কোনো সাফল্য তিনি পাননি। আবার, এবারের বিশ্বকাপে নূ্যনতম ৬ উইকেট পেয়েছেন, এমন বোলারদের মধ্যে তার রান খরচই সবচেয়ে বেশি- ৪৮৪। তবে উল্টো করে ভাবলে একটি ইতিবাচক দিক আছে; শেষ ১৫ ওভারে বিশ উইকেট পাওয়ার অর্থ ডেথ ওভারের বোলিং ভালো হচ্ছে। ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা দুই ম্যাচে পাঁচটি করে ১০ উইকেট নেওয়া এই বাঁহাতি এবার নিজের বোলিংকে আরও ধারালো করতে চাইছেন। বিশেষ করে ডেলিভারিতে বৈচিত্র্য আনা এবং ইয়র্কার নিখুঁত করায় মনোযোগ তার।

পাকিস্তানের বিপক্ষে ৭৫ রানে ৫ উইকেট নেওয়া বোলিংয়ের পর মুস্তাফিজ তার নিজের বোলিংয়ের সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে বলেন, 'আমার বোলিং আরও ভালো হতে পারত। আমার মনে হয় ডেলিভারিতে আরও বৈচিত্র্য আনা দরকার। আমি কাটার পারি, তবে ইয়র্কারটা ৫০/৫০। ইয়র্কার আরও নিখুঁত করতে হবে, বিশেষ করে ডেথ ওভারের বোলিংয়ে। ওয়ানডের শেষ দশ ওভারে নিখুঁত ইয়র্কার করার জন্য বেশি বেশি টি২০ খেলতে হবে।' ভারতের বিপক্ষে ৫৯ রানে ৫-এর পর পাকিস্তানের বিপক্ষে ৭৫ রানে ৫ উইকেট। দ্বিতীয় ৫ উইকেট তাকে ওয়ানডের পঞ্চম দ্রুততম বোলার হিসেবে একশ' উইকেটের মাইলফলকে পৌঁছে দিয়েছে, আর অর্জনটাও হয়েছে লর্ডসের মতো ঐতিহ্যবাহী মাঠে। কোনটিকে এগিয়ে রাখছেন মুস্তাফিজ? '৫ উইকেট সবসময়ই মনে রাখার মতো অর্জন, আর বিশেষ করে যদি বিশ্বকাপে হয়। ভারতের বিপক্ষে পাওয়া ৫ উইকেটও স্পেশাল। সবাই বলছে, বিশ্বমঞ্চে নিজেকে আমি প্রমাণ করতে পেরেছি। তবে এরচেয়েও ভালো হতে পারত।' এবারের আসরে মুস্তাফিজ শেষ দশ ওভারে পেয়েছেন ১৫ উইকেট, এ জন্য উইকেটপ্রতি খরচ মাত্র ১২.৭৩ রান। তবে শুরুতে যে তিনি কোনো উইকেট পাননি, এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে দলের বোলিং আক্রমণে। প্রায় প্রতি ম্যাচেই শুরুর বোলিংয়ে প্রতিপক্ষকে আটকাতে পারেনি বাংলাদেশ, দলগুলো ভালো রানের ভিত্তি পেয়ে গেছে ওই সময়টায়। অথচ ম্যাচের প্রথম বিশ ওভারে নিজ নিজ দলকে দারুণভাবে ব্রেক থ্রু এনে দিয়েছেন অন্য সব দলের স্ট্রাইক বোলাররা। নিউজিল্যান্ডের লকি ফার্গুসন, পাকিস্তানের মোহাম্মদ আমির, শ্রীলংকার লাসিথ মালিঙ্গারা এক্ষেত্রে সবার চেয়ে এগিয়ে। সর্বোচ্চ উইকেট শিকার করা মিচেল স্টার্ক তো ম্যাচের সব পর্যায়েই দলকে উইকেট এনে দিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে মুস্তাফিজের ২০ উইকেট প্রাপ্তি আনন্দের সঙ্গে হাহাকারও ছড়াচ্ছে চারপাশে। অভিষেকের পর থেকে প্রায় অর্ধেক উইকেট (৪৮) শেষ দশ ওভারে নেওয়া মুস্তাফিজ অবশ্য এ আক্ষেপও ঘোচাতে চান। যে কারণে নিজের সীমাবদ্ধতার প্রসঙ্গ টানলেও উন্নতিতে মনোযোগ দিচ্ছেন বেশি, 'দলের প্রয়োজনে যে কোনো পরিস্থিতিতে আমি বোলিং করতে প্রস্তুত। আমি

আসলে একটু ভিন্ন ধরনের পেসার। গড় গতি ঘণ্টায় ১৩৫ কিলোমিটারের মতো, খুব বেশি দ্রুত নয়। তবে এই গতি নিয়ে আমি সন্তুষ্ট। এখন আমাকে বোলিংয়ে কিছু বৈচিত্র্য যোগ করতে হবে।'