তিনটা বাজার আগেই খেলাঘরের বিপক্ষে ১২৭ রানের জয় নিশ্চিত করে ফেলে আবাহনী। জয়টি দিয়ে তারা শিরোপার দ্বারপ্রান্তে চলে গেছে। কিন্তু তার পরও মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে আবাহনীর ক্রিকেটার-কর্মকর্তাদের মাঝে তেমন কোনো উচ্ছ্বাস ছিল না। জয় উদযাপনের বদলে ড্রেসিংরুমে বসে তারা বিকেএসপিতে চলতে থাকা শেখ জামাল-দোলেশ্বর ম্যাচের খোঁজ নেওয়ায় ব্যস্ত ছিলেন। এর একটি কারণও আছে। শেখ জামাল হারলেই যে শিরোপার আনন্দটা করে ফেলতে পারতেন তারা! তবে শঙ্কা জাগলেও শেষ পর্যন্ত হারেনি শেখ জামাল। ১০ রানে প্রাইম দোলেশ্বরকে হারিয়ে শিরোপা লড়াইয়ে টিকে আছে তারা। তাই শিরোপাটা হাতে তোলার জন্য শেষ রাউন্ড পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে আবাহনীকে। শেষ রাউন্ডে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জকে হারালেই শিরোপা আবাহনীর ঘরে। তবে যদি তারা রূপগঞ্জের কাছে হেরে যায় এবং খেলাঘরের বিপক্ষে শেখ জামাল জিতে যায় তাহলে একটা নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হবে। তখন আবাহনী, শেখ জামাল ও রূপগঞ্জ- এই তিন দলের পয়েন্ট সমান হয়ে যাবে। এমন পরিস্থিতি হলে হেড টু হেডে নির্ধারিত হবে শিরোপা। ওই হিসাবে এই তিন দলের মধ্যে শেখ জামাল এগিয়ে।

তবে আবাহনীর পথটা একেবারেই সরল। তাদের ভাগ্য তাদের নিজেদের হাতেই। অন্য কারও ওপর নির্ভরশীল নয় তারা। তবে এই সোজা হিসাবটা সম্ভবত গতকাল ভুলতে বসেছিলেন আবাহনীর মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানরা। ১ উইকেটে একশ' রান তুলে নিয়েছিলেন তারা। কিন্তু এর পরই তাদের ব্যাটিং লাইনে ধস নামে। ১৫৬ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে বসে তারা। তবে মিরাজ ও তাসকিনের ব্যাটিংয়ে শেষ পর্যন্ত লড়াই করার মতো সংগ্রহ পায় তারা। নবম উইকেটে মিরাজ ও তাসকিন ৪৯ রান যোগ করে দলের রান দুইশ' পার করেন। এরপর শেষ উইকেট জুটিতে সন্দ্বীপ রায়কে নিয়ে ৩৬ রান যোগ করেন মিরাজ। যেখানে সন্দ্বীপের অবদান মাত্র ৪! জবাব দিতে নেমে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে মাত্র ১১৪ রানে গুটিয়ে যায় খেলাঘর।

আবাহনীর রান ২৪১-এ পৌঁছার পেছনে খেলাঘরের বড় অবদান রয়েছে। মিরাজ ও তাসকিন যখন ব্যাটিং করছিলেন তখন তারা ভীষণ এলোমেলো বোলিং করেন। এই দুই ব্যাটসম্যান ক্রমাগত অফসাইড দিয়ে শট খেললেও সে অঞ্চলে খেলাঘরের অধিনায়ক কোনো ফিল্ডার রাখেননি। আর মার খেতে থাকা দুই স্পিনার আনজুম ও সাদিকুরকে দিয়ে টানা ১৮ ওভার বোলিং করিয়েছেন। দেখে মনে হচ্ছিল, ব্যাটসম্যানদের রান তোলার সুযোগ করে দিচ্ছেন খেলাঘরের অধিনায়ক। বেশ কয়েকবার হেঁটে হেঁটে ফিল্ডিংও করেছেন। এসব অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে খেলাঘরের কোচ রুহুল আমিন অবশ্য বোলারদের দোষ দিয়েছেন। তার মতে, অধিনায়ক সঠিক ফিল্ডিংই সাজিয়েছিলেন, কিন্তু বোলাররা সে অনুযায়ী বোলিং করতে পারেননি। বোলার না থাকাতেই নাকি বাধ্য হয়ে ওই দু'জনকে দিয়ে টানা ১৮ ওভার করাতে হয়েছে বলেও জানান তিনি। আরও একটি অবাক বিষয় ছিল, আবাহনীর ব্যাটিংয়ে ধস নামানো পেসার আবদুল হালিমকে বোলিং থেকে সরিয়ে দেওয়া। ৫ ওভারে ১০ রানে ৪ উইকেট তুলে নিয়েছিলেন এ তরুণ পেসার। কোচ জানিয়েছেন, হালিমের মাংসপেশিতে টান লাগাতেই সে আর বোলিং করতে পারেনি। সেরা একাদশও নামায়নি খেলাঘর। তাদের সুপার লীগে ওঠার মূল কারিগর ভারতীয় রিক্রুট অশোক মেনারিয়াও খেলেননি এ ম্যাচে। কোচ রুহুল আমিন জানান, মেনারিয়া গত ম্যাচে চোট পেয়েছেন। আর অল্প বাজেটের দল হওয়ায় তাদের রিজার্ভ বেঞ্চ শক্তিশালী নয়। তাই গতকাল একাদশ গড়তেই নাকি তার হিমশিম খেতে হয়েছে।

মন্তব্য করুন