পানতুমাই এর ঝর্ণাধারা

প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭      

বাংলাদেশের কোল ঘেঁষে প্রতিবেশী ভারতের মেঘালয়ের গহিন অরণ্যের কোলে বাংলাদেশ পানে নেমেছে অপরূপ এক ঝর্ণাধারা। ঝর্ণাটির স্থানীয় নাম ফাটাছড়ির ঝর্ণা। কেউ কেউ একে ডাকেন বড়হিল ঝর্ণা বলে
সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে প্রস্তুত নতুন গন্তব্যে যাওয়ার জন্য। কিন্তু আকাশ অঝোর ধারায় কেঁদে চলেছে। অনেক দিন আগে থেকেই প্রস্তুতি চলছিল ২৬ মার্চকে কেন্দ্র করে। এ বছর সরকারি ছুটি কম। তাই দুই একদিন ছুটি পেলেই ঘরে বসে থাকতে মন চায় না। তা ছাড়া রুটিন বাঁধা জীবনে মাঝে মাঝে বিরতি নেওয়া খুব প্রয়োজন। অনেক দিন ধরে পৃথু ফেসবুকে ঘ্যান-ঘ্যান করে যাচ্ছিল, পানতুমাই ঘুরতে যাবে। কিন্তু ভাগ্য বিধাতা সহায় ছিলেন না। তাই যাই যাই করেও যাওয়া হচ্ছিল না। বৃষ্টির অঝোর ধারার মাঝেই আমরা বেরিয়ে পড়লাম। গাড়ির সামনের গ্গ্নাসের হুইপার অবিরাম চেষ্টা করে যাচ্ছে সামনে এগিয়ে যাওয়ার। বৃষ্টিমুখর দিনে মহাসড়ক পেরিয়ে এগিয়ে চলেছি আমরা। আমাদের ভ্রমণসঙ্গী পৃথু গুগল থেকে পানতুমাইয়ের আদ্যোপান্ত ঝালাই করে নিচ্ছে। সিলেট জেলার পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের একটি গ্রাম পানতুমাই; ভারত সীমান্তে, মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে এর অবস্থান। পানতুমাইকে বলা হয় বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর গ্রাম। যদিও অনেকে একে 'পাংথুমাই' বলে, কিন্তু এর সঠিক উচ্চারণ 'পানতুমাই'। বাংলাদেশের কোল ঘেঁষে প্রতিবেশী ভারতের মেঘালয়ের গহিন অরণ্যের কোলে বাংলাদেশ পানে নেমেছে অপরূপ এক ঝর্ণাধারা। ঝর্ণাটির স্থানীয় নাম ফাটাছড়ির ঝর্ণা। কেউ কেউ একে ডাকেন বড়হিল ঝর্ণা বলে। ঝর্ণাটি ভারতের মধ্যে পড়লেও পিয়াইন নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে খুব কাছ থেকে দেখা যায়। পিকু বলল, থাক থাক; আর বলতে হবে না। এখন সবকিছু বললে গিয়ে কী দেখব? অন্য সবাই সায় দিল পিকুর কথায়। এদিকে বৃষ্টি কমে এসেছে। সূর্যদেবের আভা পড়েছে মহাসড়কে। এবার ধীরে ধীরে চোখের সীমানায় মেঘালয় পাহাড় নিজেকে মেলে ধরল। আর পথের দৃশ্য; সে তো কয়েক পৃষ্ঠা লিখলেও শেষ হওয়ার নয়।
আমাদের চার চাকার ঘূর্ণন গতির তালে আমরা এগিয়ে চলেছি। দৃষ্টিসীমায় রূপবতী মেঘালয় _ অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে সবাই। হঠাৎ পিকু বলে উঠল গাড়ি থামাতে, দূর আকাশে মেঘের ভেলা একদম কাছ দিয়ে ভেসে যাচ্ছে। আমরা গাড়ি থেকে নেমে একের পর এক ছবি তুলতে লাগলাম। পৃথু বলে উঠল, ওর খিদে লেগেছে। সবারই এক অবস্থা। বাজারের দোকান থেকে আমরা সাদা রুটি আর ডিম ভাজি খেয়ে আবার ছুটে চললাম। পেঁৗছলাম আমাদের কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে।
পাহাড়ঘেঁষা আঁকাবাঁকা রাস্তা পানতুমাই গ্রামের বৈশিষ্ট্য। গ্রামের শেষে পাহাড়ি গুহা থেকে হরিণীর মতোই লীলায়িত উচ্ছল ভঙ্গিমায় ছুটে চলেছে ঝর্ণার জলরাশি। ছিটকে পড়ে মেলে ধরছে রূপের মাধুরী। দূর থেকে দেখা মিলল শাঁ শাঁ শব্দে শুভ্র জলের এক নতুন অদ্ভুত অপ্সরীর। মেঘালয়ের গহিন অরণ্যের কোলে বাংলাদেশের পানে রূপের মাধুরী ফেলেছে অপরূপা এক জলপ্রপাত। সুউচ্চ পাহাড় থেকে নেমে আসছে জলরাশি। সফেদ জলধারা লেপ্টে আছে সবুজ পাহাড়ের গায়ে। দেখলে মনে হবে সবুজের বুকে কেউ হয়তো বিছিয়ে রেখেছে সাদা শাড়ি। পাহাড়ি স্বচ্ছ জলের ছড়া পাড়ি দিয়ে গাঁয়ের মেঠো পথ, বাঁশবাগান, হাঁটু জলের নদী পার হয়ে প্রতাপপুর গ্রাম।
এরপরের গ্রাম পানতুমাই। প্রতাপপুর গ্রাম পাড়ি দিয়ে সামনে উঁচু পাহাড় ঘেঁষে বিশালাকার এক ফুটবল মাঠ পেরিয়ে কিছুটা জঙ্গল। কিছুটা এগোলেই শোনা যায় জল গড়িয়ে পড়ার কল কল শব্দ। জঙ্গলের মাঝখানে উঁকি দিচ্ছে রূপবতী ঝর্ণা পানতুমাই। বড় বড় পাথরের গা বেয়ে অনেক উঁচু থেকে ইংরেজি এস (ঝ) অক্ষরের মতো। স্থানীয়রা ঝর্ণাটিকে ফাটাছড়ির ঝর্ণা বা বড়হিল ঝর্ণাও বলেন। আমরা সামনে এগিয়ে গেলাম কিন্তু কিছু দূরে গিয়ে থমকে দাঁড়াতে হয়। সতর্কবাণী লেখা সাইনবোর্ডে_ সাবধান, সামনে ভারত, জনসাধারণের প্রবেশ নিষেধ। দূরের ঝর্ণার মায়াবী আবেশে সাবধান বাণী উপেক্ষা করে আমরা এগিয়ে চললাম। বিএসএফের ক্যাম্পের দেখা মিলল। পৃথুর গুগল থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী বরইগাছের সারি দিয়ে এখানে দুই দেশের সীমানা ভাগ করা। এখানে বিজিবির কোনো চৌকি নেই। ঝর্ণা ভারতের হলেও পানি এসে পড়ছে আমাদের দেশে, রূপ নিয়েছে নদীর। শীতল আর কাচের মতো পরিষ্কার পানি সৃষ্টি করেছে একখণ্ড স্বর্গ টুকরো। খুব আফসোস লাগল পানতুমাইকে দূর থেকে দেখতে পারলাম কিন্তু কাছে যেতে পারলাম না। বিএসএফ পাহারা দিচ্ছে সতর্ক দৃষ্টিতে। দেখা পেলাম প্রবীণ রহিম মিয়ার। তিনি বললেন, বিশাল ঝর্ণা যার স্থানীয় নাম ফাটাছড়ির ঝর্ণা, যা আমাদের কাছে পান্থুমাই/ পাংথুমাই / পানতুমাই ঝর্ণা (চধহঃযঁসধর ডধঃবৎভধষষ) হিসেবে পরিচিত। অনেক আগে ঝর্ণার কাছে যাওয়া যেত। গোসল করা যেত, বিএসএফের ক্যাম্প ছিল না। কিন্তু বাঙালি আর খাসিয়া মারামারি হওয়ার কারণে এখন যাওয়া নিষেধ। তবে নিরাপদ দূরত্ব রেখে এর অপরূপ সৌন্দর্য অবলোকন করা যাবে।
ঝর্ণাটি ভারতের মধ্যে পড়লেও পিয়াইন নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে খুব কাছ থেকে দেখা যায়। দেখতে সুন্দর বলে সব ঝর্ণাই ভারত নিয়ে গেছে মনের দুঃখে বলছিল পিকু।

লেখা ও ছবি : সুমন্ত গুপ্ত

যাবেন
যেভাবে
সিলেট শহর থেকে মাইক্রোবাস ভাড়া করে যাওয়া যাবে পানতুমাই পর্যন্ত। গোয়াইনঘাট উপজেলার পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এ জলপ্রপাত এলাকায় মাইক্রোবাসের ভাড়া (যাওয়া ও আসা) পড়বে ২০০০ টাকা। পানতুমাইয়ে যাওয়া যায় দুটি রাস্তায়। একটি হচ্ছে গোয়াইনঘাটের সালুটিকর হয়ে আর অন্যটি জৈন্তাপুরের সারিঘাট হয়ে। উভয় রাস্তায় দূরত্ব ও ভাড়া সমান।

পরবর্তী খবর পড়ুন : আমড়ার পুষ্টিগুণ

নোমান-নওফেলের কোলাকুলি

নোমান-নওফেলের কোলাকুলি

চট্টগ্রামে হযরত শাহ সুফি আমানত খান (রহ.) মাজার জিয়ারতের মধ্য ...

৭ জেলায় বিএনপি জামায়াতের ২০ জন গ্রেফতার

৭ জেলায় বিএনপি জামায়াতের ২০ জন গ্রেফতার

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে এবং পুলিশের বিশেষ ...

মা-বাবাকে খুঁজছে পথ হারানো রবিউল

মা-বাবাকে খুঁজছে পথ হারানো রবিউল

পাবনার চাটমোহর রেল স্টেশনে কুড়িয়ে পাওয়া পথ হারানো শিশু রবিউল ...

ধুনটে বিএনপি প্রার্থীর গাড়ি বহরে হামলা

ধুনটে বিএনপি প্রার্থীর গাড়ি বহরে হামলা

বগুড়ার ধুনটে বিএনপি প্রার্থী গোলাম মো. সিরাজের গাড়ি বহরে হামলার ...

যুক্তরাষ্ট্র কোনও দল বা প্রার্থীকে সমর্থন করে না: মার্কিন রাষ্ট্রদূত

যুক্তরাষ্ট্র কোনও দল বা প্রার্থীকে সমর্থন করে না: মার্কিন রাষ্ট্রদূত

বাংলাদেশের নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্র কোনও রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীকে সমর্থন করে ...

জঙ্গিবিরোধী চলচ্চিত্রের নায়ককে হত্যার পরিকল্পনায় দুইজন গ্রেফতার

জঙ্গিবিরোধী চলচ্চিত্রের নায়ককে হত্যার পরিকল্পনায় দুইজন গ্রেফতার

জঙ্গিবিরোধী চলচ্চিত্র নির্মাণ ও প্রচার করায় পরিচালক ও অভিনেতা খিজির ...

নোয়াখালীতে নির্বাচনী সংঘাতে যুবলীগ নেতা খুন

নোয়াখালীতে নির্বাচনী সংঘাতে যুবলীগ নেতা খুন

নোয়াখালীতে আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে সংঘাতে এক যুবলীগ ...

স্মিথের বিপিএল খেলা নিয়ে প্রশ্ন

স্মিথের বিপিএল খেলা নিয়ে প্রশ্ন

বিপিএলের আগামী আসরে বড় বড় কিছু নাম যোগ হয়েছে। গেইল-নারইনরা ...