বুয়েটে হুয়াওয়ের আইসিটি একাডেমি

প্রকাশ: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২১

প্রযুক্তি প্রতিদিন প্রতিবেদক

বুয়েটে হুয়াওয়ের আইসিটি একাডেমি

চুক্তিস্বাক্ষর অনুষ্ঠানে হুয়াওয়ে ও বুয়েটের শীর্ষ কর্মকর্তারা

তরুণ আইসিটি শিক্ষার্থীরা যাতে বিশ্ব-পেশাবাজারে নিজেদের জায়গা করে নিতে পারে, সে লক্ষ্যে বাংলাদেশের প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে এক হয়ে বিশেষ আইসিটি একাডেমি পরিচালনা করতে চায় হুয়াওয়ে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) প্রথম আইসিটি একাডেমি স্থাপন করতে যাচ্ছে হুয়াওয়ে ও বুয়েট। এ উদ্দেশ্যে গত বৃহস্পতিবার দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। বুয়েট কাউন্সিল ভবনে অনুষ্ঠিত এ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে হুয়াওয়ে টেকনোলজিসের (বাংলাদেশ) এন্টারপ্রাইজ বিজনেস গ্রুপের ভাইস প্রেসিডেন্ট লিনঝিজুন এবং বুয়েট উপাচার্য ড. সত্য প্রসাদ মজুমদার এমওইউতে স্বাক্ষর করেন। অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী এমপি, হুয়াওয়ে টেকনোলজিসের (বাংলাদেশ) প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা তাও গুয়াংইয়াও।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, চলতি বছর এপ্রিলের মধ্যে বুয়েট একাডেমিক ভবনে তৈরি হবে এই বিশেষ ট্রেনিং সেন্টার, যেখানে কারিগরি প্রযুক্তি ও যন্ত্রাংশ নিশ্চিত করা হবে। সঙ্গে থাকবে কানেক্টিভিটি, যার মাধ্যমে সারাবিশ্বের ১২ শতাধিক প্রশিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ পাবেন বুয়েটের শিক্ষার্থীরা। ভিন্ন ভিন্ন ১৯টি বিষয়ের ওপর ৮৩টি সার্টিফিকেশন প্রোগ্রাম থাকবে এখানে। আর এ কোর্স ও সার্টিফিকেশন সমন্বয় করবে হুয়াওয়ে অথরাইজড ইনফরমেশন অ্যান্ড নেটওয়ার্ক একাডেমি (এইচএআইএনএ), যা মূলত এই হুয়াওয়ে-বুয়েট আইসিটি একাডেমি। এ আইসিটি একাডেমি থেকে শিক্ষার্থীরা তাদের কৃতিত্বের ওপর ভিত্তি করে তিন ধরনের গ্রেড যেমন অ্যাসোসিয়েট, প্রফেশনাল ও এক্সপার্ট সার্টিফিকেট পাবেন। এ প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীরা চাকরির বাজারের জন্য নিজেদের উপযুক্ত করে তৈরি করতে পারবেন এবং সবশেষে তাদের জন্য জব ফেয়ারের আয়োজন করা হবে।

অনুষ্ঠানে তাও গুয়াংইয়াও বলেন, অলাভজনক শিক্ষা প্রোগ্রাম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত এ একাডেমি দুটি বিষয় সামনে রেখে কাজ করবে। এর মধ্যে একটি হলো আইসিটি খাতের চাহিদা পূরণে ট্রেনিং ও লার্নিং সলুশন প্রদান; অন্যটি হলো আইসিটি খাতের জন্য একটি ট্যালেন্ট ইকোসিস্টেম তৈরি। বুয়েটের উপাচার্য ড. সত্য প্রসাদ মজুমদার বলেন, আমরা জিএসএম ল্যাব প্রতিষ্ঠাকালে হুয়াওয়ের কাছ থেকে সহযোগিতা পেয়েছিলাম। আসন্ন ৪র্থ শিল্প বিপ্লবের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণে হুয়াওয়ে আইসিটি একাডেমির মতো একটি প্রতিষ্ঠান নিঃসন্দেহে আমাদের বিপুল চালিকাশক্তি জোগাবে। বিগত দশকগুলোতে পাঠদানের ক্ষেত্রে বুয়েট যে গুণগত মান ধরে রেখেছে, তার সঙ্গে এ উদ্যোগটি নিঃসন্দেহে নতুন মাত্রা যোগ করবে। অনুষ্ঠানে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী এমপি বলেন, 'যে কোনো দেশের অগ্রগতির জন্য শিক্ষা, বিশেষত আইসিটি শিক্ষার গুরুত্ব অনেক বেশি। এ জন্য হুয়াওয়ে এবং বুয়েট যে পদক্ষেপ নিতে চলেছে তা অনেক আশাব্যঞ্জক।

সারাবিশ্বে এ রকম ৯ শতাধিক আইসিটি একাডেমি স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে হুয়াওয়ের এবং প্রতি বছর এসব একাডেমি থেকে ৪৫ সহস্রাধিক শিক্ষার্থী বের হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী বুয়েট থেকে ২৫০ জন শিক্ষার্থী এই ট্রেনিংয়ে অংশগ্রহণ করবেন। এ পর্যন্ত পাকিস্তান, জাম্বিয়া, চীনসহ বেশ কিছু দেশে একাডেমি কার্যক্রম শুরু করেছে।