ভোটের মাঠে শেষের উত্তাপ

প্রকাশ: ২৪ জানুয়ারি ২০২১

সারোয়ার সুমন

২৩৭ প্রার্থীর বিরামহীন প্রচারণায় এখন সরগরম বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। আগামীকাল সোমবার শেষ হচ্ছে প্রচারণার সময়সীমা। আর ভোটগ্রহণ হবে আগামী বুধবার তাই রাজপথ থেকে অলিগলি- একাকার পোস্টারে পোস্টারে। ভোটারদের নজর কাড়তে শেষ মুহূর্তে এসে ৪১ ওয়ার্ডের প্রতিটিতে মাইকিং হচ্ছে নানা রঙে; নানা ঢংয়ে। তবে নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে ততই উত্তপ্ত হচ্ছে ভোটের মাঠ। শুরুতেই কাউন্সিলর পদের প্রার্থীরা সংঘর্ষে জড়ালেও এখন সেটির রেশ পড়ছে মেয়র পদেও। প্রচারণার শেষ দিকে এসে প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের প্রার্থী একে অপরের বিরুদ্ধে দিয়েছে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ। বিএনপি দলীয় প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেনের অভিযোগ, ভোট ডাকাতি করতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করছে আওয়ামী লীগ। পুলিশ দিয়ে নানাভাবে হয়রানি করছে নেতাকর্মীদের। তবে বিএনপির এমন দাবি 'পুরোনো রোগ' বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, 'ভোটের আগের অবশিষ্ট দিনগুলোতে সর্বোচ্চ সতর্কতায় থাকতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। প্রার্থীর যে কোনো অভিযোগ তাদের সমাধান করতে হবে নিরপেক্ষভাবে; কঠোর অবস্থানে থেকে।'

নির্বাচনের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চসিক নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান বলেন, 'এখন চলছে শেষ মুহূর্তের প্রচারণা। বাড়ছে উত্তাপও। প্রার্থীদের মৌখিক ও লিখিত যে অভিযোগ আমরা পাচ্ছি, তা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সমাধান করছি। আচরণবিধি পর্যবেক্ষণ করতে ১৪ জন ম্যাজিস্ট্রেটকেও আরও তৎপর হতে বলেছি আমরা। প্রশাসনকেও ঢেলে সাজানো হচ্ছে। এরই মধ্যে ৫টি থানার ওসি পরিবর্তন করা হয়েছে। ২০ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে নতুন করে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা ভোটের আগে ও পরে দুই দিন দায়িত্ব পালন করবেন।'

এদিকে নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে পরিস্থিতি ক্রমশ ঘোলাটে হলেও গত ১৬ দিনের বিরাহমীন প্রচারণায় প্রতিশ্রুতির প্রতিযোগিতায় নেমেছিলেন মেয়র ও কাউন্সিলর পদের সব প্রার্থী। অথচ স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন ২০০৯ অনুসারে সিটি করপোরেশনের মূল কাজ নগর পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, রাস্তাঘাট ঠিক রেখে আলোকায়নের ব্যবস্থা ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা করা। সিটি করপোরেশন থেকে জনগণ কী সেবা পাবে তাও নির্ধারণ করে দিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। করপোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলরদের এখতিয়ারভুক্ত কাজের মধ্যে আছে নতুন হোল্ডিং নম্বর প্রদান ও ট্যাক্স গ্রহণ, ট্রেড লাইসেন্স প্রদান ও নবায়ন, জন্ম-মৃত্যু-বিয়ে রেজিস্ট্রি, রাস্তা খননের অনুমতি, কবরস্থান ব্যবস্থাপনা, রাস্তা-নর্দমা-ফুটপাত তৈরি, বহুতল ভবনের জন্য অনাপত্তিপত্র প্রদান, সংক্রামক ব্যাধি প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা গ্রহণ, পর্যাপ্ত পাবলিক টয়লেট স্থাপন, পার্ক এবং খেলার মাঠ বিষষক সেবা প্রদান।

পরিকল্পিত চট্টগ্রাম ফোরামের সভাপতি ও ইস্ট ডেল্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ সিকান্দার খান এ প্রসঙ্গে ইতোপূর্বে সমকালকে বলেন, 'মেয়র ও কাউন্সিলর পদে যারা প্রার্থী হয়েছেন তাদের অধিকাংশের সিটি করপোরেশন আইন সম্পর্কে ধারণা নেই। কী কাজ তারা করতে পারবেন, কী কাজ করার এখতিয়ার তাদের নেই- এটি জানেন না তাদের অনেকেই। আবার জানলেও কেউ কেউ ভোটারদের খুশি করতে আশ্রয় নেন মিথ্যার। প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হলে জনপ্রতিনিধি সর্ম্পকে ভোটাররা ভুল ধারণা পোষণ করবেন।'