শেষ ৭ দিনে কে কী বললেন

প্রকাশ: ২৪ জানুয়ারি ২০২১

আ'লীগের মেয়র প্রার্থী রেজাউল

২২ জানুয়ারি : বাকলিয়া এলাকায় রেজাউল করিম জোর দেন তথ্যপ্রযুক্তির বিষয়ে। নতুন প্রজন্মের ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশের আগামীর কাণ্ডারি নতুনরা। সঠিক নেতৃত্ব ঠিক করতে হলে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হবে তাদেরই। উন্নয়নের যে স্রোত বইছে সেটি অব্যাহত রাখতে হলে নতুন ভোটারদের আস্থা রাখতে হবে নৌকার ওপর।'

২১ জানুয়ারি :পূর্ব মাদারবাড়ি ওয়ার্ডে গণসংযোগের সময় তিনি নগরের স্বাস্থ্য খাতে কী পরিবর্তন আনবেন, সেটি তুলে ধরেন ভোটারদের কাছে। রেজাউল করিম বলেন, 'নগরের ৪১ ওয়ার্ডের প্রতিটিতেই মাতৃসদন হাসপাতাল গড়ে তুলব। আমাকে একটিবার সেবা করার সুযোগ দিন। আমি নগরবাসীর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করব। এ নগরীতে পর্যাপ্ত আলোকায়নের ব্যবস্থা করব। নারী ও যুব সম্প্রদায়কে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করব।'

২০ জানুয়ারি : নগরের পাথরঘাটা, বক্সিরহাট ও দেওয়ান বাজার এলাকায় গণসংযোগে গিয়ে রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, 'আর নয় ধোঁকাবাজি, এবার শুধু নৌকাবাজি। আমি নির্বাচিত হলে যানজট, জলজট, মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত, স্বাচ্ছন্দ্যময়, বাণিজ্যবান্ধব, নান্দনিক স্মার্ট সিটি গড়তে ব্যবসায়ী সংগঠনসহ সব শ্রেণি-পেশার লোকের পরামর্শ নিয়ে কাজ করব।'

১৯ জানুয়ারি :নগরের উত্তর ও দক্ষিণ আগ্রাবাদে গণসংযোগে রেজাউল বলেন, চট্টগ্রামের নতুন সমস্যা কিশোর গ্যাং। কিশোরদের খেলাধুলা ও বিনোদনের সুযোগ অতিমাত্রায় সংকুচিত হয়ে পড়ায় এ সমস্যার উদ্ভব হয়েছে। নির্বাচিত হলে প্রতি ওয়ার্ডে না হোক, অন্তত যেসব ওয়ার্ডে খালি জায়গা পাওয়া যাবে সেসব ওয়ার্ডে ছোট-বড় যথাসম্ভব খেলার মাঠ ও বিনোদনকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করতে উদ্যোগ নেব। এছাড়া নারী ও তরুণরা যাতে আউটসোর্সিংয়ে আরও দক্ষতা অর্জন করতে পারে, সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হবে।'

১৮ জানুয়ারি : চট্টগ্রাম নগরের ১৮নং পশ্চিম বাকলিয়া, উত্তর ও দক্ষিণ পাঠানটুলী এবং পূর্ব মাদারবাড়ী ওয়ার্ডে গণসংযোগে রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, 'নৌকার পালে বিজয়ের হাওয়া লেগেছে দেখে একটি অশান্তি দল মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অজুহাত তুলছে একের পর এক। গণবিচ্ছিন্ন দলটি জনরায়ে বিশ্বাসী নয়, তারা নির্বাচন চায় না।'

১৭ জানুয়ারি : আওয়ামী লীগের মনোনীত মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী নগরের রেয়াজউদ্দিন বাজার এলাকায় বলেন, 'নির্বাচিত হলে ক্ষুদ্র ব্যবসাযীদের কল্যাণে বিশেষ প্রকল্প চালুর উদ্যোগ নেব। ফুটপাতে যারা ব্যবসা করে জীবিকা চালায়, তাদের ব্যাপারে সুস্পষ্ট একটি নীতিমালা সবার সমম্বয়ে প্রণয়ন করবে সিটি করপোরেশন। একটি আধুনিক, মানবিক, ব্যবসাবান্ধব ও গতিময় নগর গড়তে ২৭ জানুয়ারি নৌকা মার্কায় ভোট দিন। আমি একজন কাজ পাগল মানুষ, আমি কাজ করতে চাই। সবাইকে নিয়ে এই শহরকে গড়তে চাই।'

১৬ জানুয়ারি :গতকাল শনিবার নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির যৌথ উদ্যোগে নগরের দারুল ফজল মার্কেটের মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় রেজাউল করিম চৌধুরী বলেছেন, 'নৌকায় ভোট দিয়ে বিজয় অর্জনের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া সম্মানকে সমুন্নত রাখতে হবে। স্বাধীনতার সপক্ষের শক্তিকে সঙ্গে নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের নৌকার বিজয়ে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পালন করতে হবে।'


বিএনপির মেয়র প্রার্থী শাহাদাত

২২ জানুয়ারি : চান্দগাঁও বহাদ্দারহাট এলাকায় গণসংযোগকালে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, 'বিএনপি মনোনীত কাউন্সিলর প্রার্থীদের এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সিটি করপোরেশন নির্বাচন বানচাল করার জন্য আওয়ামী লীগ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করছে। গত দুই-তিনদিন ধরে পতেঙ্গা থেকে শুরু করে কালুরঘাট পর্যন্ত বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িতে হানা দিচ্ছে পুলিশ। ২০-৩০ জনের দল নিয়ে বাড়ি ঘেরাও করছে, আর বিএনপি নেতাকর্মীদের এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বলছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে না চট্টগ্রামে।'

২১ জানুয়ারি :নির্বাচন কমিশনে গিয়ে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, 'একের পর এক অভিযোগ দেওয়ার পরও কোনোটির ব্যাপারেই কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এ জন্য বারবার হামলার ঘটনা ঘটছে বিএনপির প্রচারণায়। এটির ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার রাতে হামলা হয়েছে নাছিমন ভবনের দলীয় কার্যালয়ে। আমাদের ওপর হামলা করে উল্টো মামলা করে হয়রানি করছে পুলিশ।'

২০ জানুয়ারি :৯ নম্বর উত্তর পাহাড়তলী ওয়ার্ড, ১০ নম্বর উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ডে গণসংযোগে গিয়ে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, 'একটিবার সুযোগ দিন। পরিকল্পিত নগরী উপহার দেব আপনাদের। জনগণের মতামত নিয়েই পরিচালনা করব সিটি করপোরেশন। অপরিকল্পিত কোনো প্রকল্প গ্রহণ করব না। কোনো টাকা অপব্যয় করব না।'

১৯ জানুয়ারি :নগরের পূর্ব ও পশ্চিম মাদারবাড়ি এলাকায় শাহাদাত বলেন, 'নগরীর গুরুত্বপূর্ণ শতাধিক পয়েন্টে শক্তিশালী রাউটার স্থাপন করে এটি বাস্তবায়ন সম্ভব। দরকার হলে এই জন্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া হবে। কোনো প্রকার বাফারিং ছাড়াই ইন্টারনেটের গতি স্পিডে এনে পুরো নগর ওয়াইফাই শহর হিসেবে গড়ে তুলব। একেকটি এক্সেস পয়েন্টের প্রতিটিতে একসঙ্গে ৫০০ জন যুক্ত থাকার মতো ব্যবস্থা করা হবে। এতে শিক্ষার্থীরা বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তাদের পড়াশোনা চালিয়ে নিতে পারবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গবেষণা বৃদ্ধি পাবে। নিত্যনতুন প্রযুক্তির সঙ্গে চট্টগ্রামবাসী পরিচিত হবে।'

১৮ জানুয়ারি :নগরের ৮ নম্বর শুলকবহর ও ৪২ নং নাসিরাবাদ সাংগঠনিক ওয়ার্ডে গণসংযোগ করেন ডা. শাহাদাত হোসেন। ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, 'মেয়র নির্বাচিত হলে সচেতন নাগরিকদের পরামর্শকে প্রাধান্য দিয়ে চট্টগ্রামকে পর্যটন ও শিক্ষাবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তুলব।'

১৭ জানুয়ারি :চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও থানার মোহরা এলাকায় জনসংযোগে তিনি বলেন, 'মোহরা এখনও অবহেলিত। এখানে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। মেয়র নির্বাচিত হলে মোহরা এলাকাকে উপশহরে পরিণত করব। এ ছাড়া এখানে একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল গড়ে তুলব। যাতে এলাকার মানুষজন চিকিৎসাসেবা পান। শিক্ষার মান উন্নয়নে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কারিগরি শিক্ষা, কম্পিউিটার ইনস্টিটিউশন গড়ে তোলাসহ বৃহত্তর চান্দগাঁওয়ে সরকারি স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেব।'

১৬ জানুয়ারি :নাসিমন ভবনস্থ দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, 'ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সর্বোচ্চ ত্যাগ শিকারে প্রস্তুত থাকতে হবে। চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে নির্বাচনী মাঠে ছাত্রদলকে আরও বেশি কৌশলী ও সক্রিয় হয়ে কাজ করার বিকল্প নেই। মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় ছাত্রদলকে ভ্যানগার্ডের ভূমিকা পালন করতে হবে।'