লোহাগাড়া উপজেলার উত্তর আমিরাবাদের তুলাতুলী বাজার এলাকায় টংকাবতী খালের ভাঙনে প্রায় পাঁচ শতাধিক পরিবারের বসতবাড়ি হুমকির মুখে।

ভাঙনের কবলে পড়েছে উত্তর আমিরাবাদ এমবি উচ্চ বিদ্যালয় ও উত্তর আমিরাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, তুলাতলী বাজার সংলগ্ন টংকাবতী খাল থেকে প্রভাবশালীরা অবৈভাবে বালু তোলায় ভাঙন তীব্র হচ্ছে।

ইতিমধ্যে খালের ভাঙনে গ্রামের কয়েকশ' একর ফসলি জমি, বাড়ি-ঘর, ক্ষেত ও শ্মশান বিলীন হয়ে গেছে। টংকাবতী খালের দুই পাশে অবস্থিত তুলাতুলী বাজার এলাকার মজুমদারপাড়া, বণিকপাড়া, ব্রাহ্মণপাড়া, শীলপাড়া, বৈরাগীপাড়া, মুদিপাড়া, কর্মকারপাড়া, চৌধুরীপাড়া, ঘোনাপাড়া, পালপাড়া, শান্তিপুরপাড়া, জলদাসপাড়া ও দাশপাড়া এলাকায় খালের ভয়াবহ ভাঙনে স্থানীয় বাসিন্দাদের চোখে ঘুম নেই। বর্তমানে বণিকপাড়ার ৪২ পরিবারের মধ্যে রয়েছে আট পরিবার এবং ব্রাহ্মণপাড়ার ২০ পরিবারের মধ্যে রয়েছে মাত্র পাঁচ পরিবার। বাকিরা অন্যত্র বাড়ি ভাড়া নিয়ে অথবা আত্মীয়-স্বজনের ঘরে থাকছে। এখানে প্রায় ৩৫ পরিবার ইতিমধ্যে ভিটেহারা হয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, খালের ভাঙন প্রতিরোধে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কাছ থেকে কোনো ধরনের সহযোগিতা পাচ্ছেন না। টংকাবতী খাল ঘেঁষে গুরুত্বপূর্ণ আকবর ডিসি সড়কটি খালের গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

সরজমিনে জানা যায়, একসময় উত্তর আমিরাবাদের তুলাতলী বাজার এ উপজেলার জমজমাট হাট ছিল। কিন্তু বর্তমানে রয়েছে মাত্র কয়েকটি দোকান। পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে উৎপত্তি হওয়া টংকাবতী খাল গত এক দশক ধরে তুলাতলী বাজার অংশে প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকা জুড়ে মারাত্মক ভাঙন সৃষ্টি করেছে। এ কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে পৈতৃক ভিটে-বাড়ি হারিয়ে অন্যত্র চলে যান।

স্থানীয় বাসিন্দা ননী গোপাল চক্রবর্তী (৮৫) জানান, তার নিজের বাড়িসহ দুলাল চক্রবর্তী, সঞ্জয় ধর, পরমেশ ধর, চিনু শীল, অজিত চক্রবর্তী, সুনীল ধর, কৃষ্ণ মহাজন, উত্তম চক্রবর্তীর বাড়ি খালের ভাঙনে বিলীন হয়েছে। স্থানীয় আশীষ বণিক বলেন, ইতিমধ্যে তিনবার স্থান পরিবর্তন করে বাড়ি তৈরি করেছেন তিনি। তার পাকা ঘর ও জমি এ বছর খালের ভাঙনে বিলীন হওয়ার পথে। পাশাপাশি তার বাগান ও মন্দির পানিতে তলিয়ে গেছে। উত্তর আমিরাবাদ এমবি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শফিকুল ইসলাম জানান, টংকাবতী খালের ভাঙন প্রতিরোধ করা না গেলে ভবিষ্যতে এ বিদ্যালয় হুমকির মুখে পড়বে। এ ব্যাপারে আমিরাবাদ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. ইউনুছ জানান, একসময় তুলাতলী বাজার এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন হলেও প্রশাসনের সহযোগিতায় তা বন্ধ করা হয়েছে। এখানে প্রায় পাঁচ শতাধিক পরিবার হুমকির মুখে। টংকাবতী খালের ভাঙনের ব্যাপারে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সংসদ সদস্যকেও অবহিত করা হয়েছে। লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তৌছিফ আহমেদ জানান, লোহাগাড়ার টংকাবতী খালের তুলাতলী বাজার এলাকায় প্রতিনিয়ত ভাঙন হচ্ছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছেন। বর্ষা শেষ হলে ভাঙন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন