ব্রিটিশ শাসনামল। পরাধীনতার শৃঙ্খল চলছে। সেই রক্তাক্ত পটের ওপর দাঁড়িয়ে দু'জন মানুষের ভালোবাসা। তবে এ ভালোবাসা প্রকাশের পথ ছিল কঠিন। তাই এই প্রকাশ ঘটে স্বাভাবিক জীবনের অতিরিক্ত আবেগে। আবেগের তুফানে তছনছ হয়ে যাচ্ছে এ দুটো মানুষ যেন, খুঁজে ফেরে কে প্রকৃত দেশপ্রেমী? কোন সত্যের ওপর দাঁড়িয়ে মুক্তি অর্জন সম্ভব? উত্তর খুঁজতে খুঁজতে ব্রিটিশ উপনিবেশবাদবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়া গুপ্ত স্বদেশি সংগঠনের দুই নর-নারীর কুলপ্লাবী আবেগ একটি অসমাপ্ত পরিণতির দিকে এগিয়ে যায়।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে রচিত কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাস 'চার অধ্যায়' মঞ্চায়ন করেছে কথক নাট্য সম্প্রদায়। গত ১৯ এপ্রিল চট্টগ্রাম থিয়েটার ইনস্টিটিউটে এ নাটকটি মঞ্চস্থ হয়। নাটকটির নাট্যরূপ দিয়েছেন শম্ভু মিত্র। নির্দেশনায় ছিলেন বিক্রম চৌধুরী।

কবিগুরু রচিত এ উপন্যাসে বর্তমানে বিভিন্ন দেশে ঘটে চলা বিচ্ছিন্ন ঘটনার সঙ্গে সংযুক্তিকরণ ঘটে। দিশাহীন, মানবিক বোধহীন বৈপল্গবিক কার্যকলাপে দেশের আত্মা খুন করে আজও বহু মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়ে হিংসাত্মক আন্দোলনে। তবে এ নাটক আমাদের দেখিয়ে দেয় দেশের আত্মাকে শেষ করে দেশকে বাঁচিয়ে তোলা যায় না।

'চার অধ্যায়' সম্পর্কে কবিগুরু বলেছেন, যেটাকে এই কাহিনীর একমাত্র আখ্যানবস্তু বলা যায় তা হলো এলা এবং অতীন্দ্রের ভালোবাসা। নর-নারীর গতিপ্রকৃতি কেবল যে নায়ক-নায়িকার চরিত্রের বিশষত্বের ওপর নির্ভর করে তা নয় বরং তা নির্ভর করতে পারে চারদিকের ঘাত-প্রতিঘাতের ওপরও। কথক নাট্য সম্প্রদায়ের এ প্রযোজনায় মঞ্চ ও আলোক পরিকল্পনায় ছিলেন বিক্রম চৌধুরী, পোশাক পরিকল্পনায় শর্মিলা চৌধুরী, সঙ্গীত পরিকল্পনায় শাহীন চৌধুরী, আলোক প্রক্ষেপণে ছিলেন শফিকুর রহমান, আবহ সঙ্গীতে মো. নাসির উদ্দিন। অভিনয়ে ছিলেন শাহীন চৌধুরী, বেদারুল হোসেন খোকন, কেয়া রায়, বিক্রম চৌধুরী, কেশব রায় ও জানে আলম টিটু।

মন্তব্য করুন