চবিতে আর চলে না সাইকেল

ছয় মাসেই বন্ধ হয়ে গেল জনপ্রিয় রাইড শেয়ারিং সেবা জোবাইক

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০১৯      

রাকীব উদ্দীন

চবিতে আর চলে না সাইকেল

ছাত্রীরাও ভাড়ায় সাইকেল চালিয়ে ক্যাম্পাসে আসা-যাওয়া করতেন- সমকাল

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) একসময় রিকশার রাজত্ব ছিল। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে ক্যাম্পাসে চালু হয় বাইসাইকেল রাইড শেয়ারিং সেবা জোবাইকের কার্যক্রম। শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় এই বাইক। কিন্তু নানা সমস্যার কারণে ছয় মাসের মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে জনপ্রিয় এই সেবা। গত ৩১ মে থেকে এই সেবা পাচ্ছেন না চবির শিক্ষার্থীরা।

২০১৮ সালের ৭ ডিসেম্বর পরীক্ষামূলকভাবে চবিতে যাত্রা শুরু করে মোবাইল অ্যাপভিত্তিক রাইড শেয়ারিং সেবা জোবাইক। প্রথমে ৫০টি সাইকেল ও পরে আরও ৩০টি সাইকেল যোগ করে তারা এই সেবা প্রদান করছিল। তবে মাত্র ৬ মাস সেবা দিয়েই জোবাইক তাদের সেবা বন্ধ করে দিয়েছে।

এ ব্যাপারে জোবাইকের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী রেজা সমকালকে বলেন, 'প্রথমদিকে আমাদের এই রাইড শেয়ারিং খুব ভালোভাবে চলছিল। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও ভালো সাড়া পেয়েছিলাম। তবে মাস চারেক যেতে না যেতেই আমাদের সাইকেলগুলোর বেহাল অবস্থা হয়ে যায়। প্রায় ৭০টি সাইকেলের ফিটনেস নষ্ট হয়ে যায়।' এই জন্য তিনি দায়ী করছেন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে চলাচল করা সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও রিকশাচালকদের। জোবাইকের কারণে তাদের দৌরাত্ম্য কমে যাওয়ায় তারা বিভিন্ন সময় জোবাইকগুলোকে ইট-লাঠি দিয়ে ভেঙে রাখেন। অনেক সময় বাইসাইকেলগুলো গাছের ওপর এবং পুকুরেও পাওয়া গেছে।

এদিকে জোবাইক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চবির অনেক শিক্ষার্থী ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী ইশরাত জাহান বলেন, 'সাইকেল চালানো আমার ছোটবেলার স্বপ্ন। এই স্বপ্নপূরণের প্রয়াস পাই জোবাইকের মাধ্যমে। কিন্তু সাইকেল চালানো শেখার ১৫ দিনের মধ্যেই জোবাইক তাদের সেবা বন্ধ করে দেয়। জোবাইক ফিরে এলে আমার মতো অনেক মেয়ে তাদের অনেকদিনের লালিত ইচ্ছা পূরণ করতে পারবে।'

রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মো. হোসাইন বলেন, 'ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে যাতায়াত ভাড়া অনেক বেশি। ফলে শিক্ষার্থীরা জোবাইক ব্যবহার করতেন। এটা পরিবেশবান্ধব বাহন। কম খরচ ও শারীরিক ব্যায়ামের জন্যও কাজ দিত। জোবাইক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও রিকশার দাপট শুরু হয়েছে।'

চবি ক্যাম্পাসে জোবাইক সমন্বয়কারী মাইনুল হাসান বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে লিখিত ও মৌখিকভাবে জানানোর পরও এর কোনো সুরাহা হয়নি।'

চবির প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) প্রণব মিত্র চৌধুরী সমকালকে বলেন, 'আমাদের কাছে এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই। তবে জোবাইক যদি আবার তাদের কার্যক্রম চালাতে চায় আমরা আন্তরিকভাবে তাদের সহায়তা প্রদান করব।'