রাঙ্গুনিয়ায় ভাইরাস রোগের প্রকোপ

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০১৯      

মাসুদ নাসির, রাঙ্গুনিয়া

আবহাওয়ার পরিবর্তন, তাপদাহের পর বৃষ্টি- এসব কারণে রাঙ্গুনিয়ায় ভাইরাস জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় শত শত মানুষ ভাইরাস জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য হাসপাতালে সম্প্রতি একাধিকবার গিয়ে আউটডোর, জরুরি বিভাগে রোগীর ভিড় দেখা গেছে। শিশু, পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ডে শয্যার দেড়গুণ রোগী ভর্তি রয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে শিশুর সংখ্যাই বেশি। স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার নিসর্গ মেহেরাজ জানান, তাপদাহ ও ভ্যাপসা গরমের পর বৃষ্টির কারণে গত এক সপ্তাহ ধরে হাসপাতালে ভাইরাস জ্বর ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। এ জ্বর ৫-৭ দিন থাকে। তবে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা ৫০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ভাইরাস রোগে আক্রান্ত শিশু ও নারীরা। হাসপাতালে শয্যা সংকটে মেঝেতেও অনেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। চন্দ্রঘোনা খ্রিষ্টিয়ান হাসপাতাল, দোভাষী বাজার জেনারেল হাসপাতাল, রাঙ্গুনিয়া হেলথ কেয়ার হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও দোভাষী বাজার মা মণি বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের চেম্বার ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার, চন্দ্রঘোনা দোভাষী বাজারের ডাক্তারদের চেম্বারেও ভাইরাসজনিত রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছেন।

অপরদিকে ফার্মেসিগুলোতে ভাইরাসজনিত রোগের ওষুধ সংকট চলছে। আক্রান্তরা ওষুধ না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়ছেন, অনেকে চট্টগ্রাম শহর বা পাশের রাউজানে যাচ্ছেন ওষুধ কিনতে।

উপজেলা স্বাস্থ্য হাসপাতালে শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ না থাকায় যথাযথ চিকিৎসাসেবা মিলছে না বলে অভিযোগ করেন অনেক রোগীর স্বজন। তারা বলেন, প্রচণ্ড তাপদাহ, এরপর বৃষ্টি ও ভ্যাপসা গরমে রাঙ্গুনিয়ার ঘরে ঘরে ভাইরাসজনিত রোগের প্রকোপ চলছে। খিঁচুনি দিয়ে অতিমাত্রায় জ্বর, সর্দি, কাশি, শরীর ব্যথা এবং ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন মানুষ। এর মধ্যে শিশুর সংখ্যাই বেশি।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন জানান, চিকিৎসা নিতে আসা এসব রোগীর শতকরা ৭০ ভাগই সর্দি, কাশি, কফ, শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত।

রাঙ্গুনিয়া হেলথ কেয়ার হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ম্যানেজার মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন বলেন, 'আমাদের হাসপাতালে ভাইরাসজনিত রোগীদের শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হচ্ছে।'

মা-মনি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক দ্বীন মোহাম্মদ বলেন, 'আমাদের বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের চেম্বারে দূর-দূরান্ত থেকে ভাইরাসজনিত রোগে আক্রান্তরা চিকিৎসা নিতে প্রতিদিন ভিড় করছেন। আমরা রোগীদের সাধ্যমতো চিকিৎসাসেবা প্রদান করছি।'

উপজেলা স্বাস্থ্য হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে চন্দ্রঘোনা কদমতলী ইউনিয়নের ছুফি পাড়া গ্রামের রাশেদা আক্তার বলেন, 'আমার ৭ বছর বয়সী মেয়ে ইয়াছমিন আক্তার ৬ দিন ধরে জ্বরে আক্রান্ত। তাকে এখানে ভর্তি করেছি। জ্বর কমছে না।' পোমরা ইউনিয়নের হাজীপাড়া গ্রামের হাসিনা বেগম বলেন, '৬ দিন ধরে আমার তিন বছর বয়সী ছেলে সিয়াম জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছে। এখন অবস্থা আগের ছেয়ে কিছুটা ভালো।'

শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার মোহাম্মদ মোরশেদ জানান, ভাইরাস রোগে এবার বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। যথাযথভাবে চিকিৎসা নিলে এ রোগ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায়। বিশেষ করে জ্বরের জন্য যথাযথ সিরাপ সেবন করলে ভাইরাসজনিত রোগীরা ভালো হয়ে যায়।

চন্দ্রঘোনা খ্রিষ্টিয়ান হাসপাতালের পরিচালক ডাক্তার প্রবীর খিয়াং জানান, আবহাওয়ার পরিবর্তন ও প্রচণ্ড তাপদাহে শিশুরা ভাইরাস জ্বর, সর্দি, কাশি, কফ, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। আক্রান্তদের মধ্যে শিশুর সংখ্যাই বেশি। প্রায় প্রত্যেকের ২-৩ দিন ধরে ১০৪ থেকে ১০৫ ডিগ্রি জ্বর। এর ফলে রোগী খাওয়ায় অরুচি, ক্লান্তি ও দুর্বলতা, শরীরে ব্যথা, নাক ও চোখ দিয়ে পানি পড়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। এ জ্বর ৩ থেকে ৭ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

রাঙ্গুনিয়া হেলথ কেয়ার হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক ডাক্তার মোহাম্মদ রেজাউল করিম জানান, ভাইরাস জনিত রোগীদের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। সন্তানের পিতা-মাতার উচিত বসতঘর ও শিশুকে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা। শিশুকে নিয়ম অনুযায়ী খাবার ও পর্যাপ্ত পরিমাণ বিশুদ্ধ পানি পান করাতে হবে। অতিরিক্ত গরমে শিশুকে নিয়ে বাইরে ঘোরাঘুরি করা যাবে না।

চিকিৎসকের পরামর্শ না নিয়ে ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনে খাওয়া যাবে না বলেও তিনি জানান।