তুহিন হত্যা মামলার অভিযোগপত্র চলতি সপ্তাহেই

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০১৯      

মোহাম্মদ আলী, হাটহাজারী

হাটহাজারীর ৮ম শ্রেণির ছাত্রী তুহিনকে (১৩) ধর্ষণ করে খুন ও লাশ গুমের চেষ্টার ঘটনায় হত্যা মামলার তদন্তের কাজ শেষ পর্যায়ে। চলতি সপ্তাহের যে কোনো দিন আদালতে এ মামলার অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন হাটহাজারী মডেল থানা পুলিশ। ঘটনার প্রায় ১০ মাস পর পুলিশ চাঞ্চল্যকর এ মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দিতে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বেলাল উদ্দিন জাহাঙ্গীর সমকালকে বলেন, 'এটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি মামলা। তাই কিছুটা দেরি হলেও সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে মামলাটি সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযোগপত্র তৈরি করা হয়েছে। মামলার অভিযুক্ত তিনজন আসামির বিরুদ্ধেই আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হবে।'

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন সমকালকে বলেন, 'তুহিন হত্যা মামলার অভিযোগপত্র তৈরির কাজ প্রায় সম্পন্ন। চলতি সপ্তাহের যে কোনো দিন এ মামলায় প্রধান আসামি শাহনেওয়াজ সিরাজ ওরফে মুন্না (২২) ও অপর দুই আসামি তার বাবা শাহ জাহান সিরাজ (৫২) ও মা নিগার সুলতানার (৪৫) বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) জমা দেওয়া হবে। আদালতের কাছে অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের জন্য সুপারিশ করা হবে।'

২০১৮ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর মামলার প্রধান আসামি শাহনেওয়াজ সিরাজ মুন্না হাটহাজারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী তাছনিম সুলতানা তুহিনকে হাটহাজারী পৌর এলাকার ফটিকা শাহজালাল পাড়া সালাম ম্যানশনের চতুর্থ তলার ভাড়া বাসায় নিয়ে ধর্ষণ করে। আত্মরক্ষার্থে তুহিন চিৎকার দিলে মুন্না তার মুখ চেপে শ্বাসরোধ করে খুন করে। পরে তার বাবা-মার সহযোগিতায় তুহিনের লাশ ওই ঘরের সোফার নিচে প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে গুম করে। ১৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় পালাতে গিয়ে মুন্না পুলিশের হাতে ধরা পড়ে। পরে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তুহিনের লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মুন্নার বাবা-মা পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় মুন্না ও তার বাবা-মার সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হাজারো শিক্ষার্থী বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে।