এমন একটা মা দে না...

পাঠক ভাবনা

প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯      

জেলী আক্তার

আমরা আধুনিক যুগে বাস করছি। বর্তমান সমাজের মানুষ অনেকটা সচেতন; তারপরও বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে বাল্যবিয়ের প্রকোপ বেশি।

অল্প বয়সে বিয়ের পর সন্তান জন্মদান, লালনপালন একটা দুঃসাধ্য ব্যাপার।

যেখানে শিশু অবস্থায় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হয়, শিশুর সংজ্ঞানুযায়ী বয়সের হিসাব থেকে ঝরে পড়ার আগেই সন্তান জন্ম দিয়ে মা হতে হয়, সেখানে একটি শিশু আরেকটি শিশুর যত্ন কীভাবে করবে?

আজকাল অনার্স পাস করার পর একটা মেয়ের জন্য পাত্র খুঁজে পাওয়া ঝামেলার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আর মাস্টার্স পাসের পর তো পাত্র সোনার হরিণ হয়ে যায়, উদ্ভিদবিজ্ঞানের ভাষায় বলতে গেলে রীতিমতো জীবন্ত জীবাশ্ম হয়ে যায়। অথচ আমরা শিক্ষিত হচ্ছি, অনেকেই উচ্চশিক্ষা লাভ করছি; তারপরও আমরা একটা সহজ হিসাব মিলাতে পারছি না, বুঝতে পারছি না অনার্স কিংবা মাস্টার্স পাসের পর একটা মেয়ের বয়স কত দাঁড়ায়? এই ২৩-২৪ বছর। কিন্তু ছেলেপক্ষের কাছে এটা পাহাড়সমান। মনে করে তারা সুশিক্ষায় সুশিক্ষিত, ভীষণ মেধাবী মনে করে নিজেদের; পৃথিবীতে বোধ হয় তারাই একমাত্র বিবেকবান কিন্তু তারা কল্পনাও করতে পারে না তাদের বিবেক কতটা নিচুতে- যখন শিক্ষার আলোয় পথ চলতে শুরু করা একটা নাবালক মেয়েকে ঘরে তোলে, তখন তাদের বিবেক-বুদ্ধি কোথায় থাকে? মনের মধ্যে প্রশ্ন থেকে যায়। জর্জ হারবার্ট বলেছিলেন, একজন শিক্ষিত মা ১০০ জন শিক্ষকের সমান। যখন একটা নাবালক মেয়ে মা হয়, যখন শিখতে শুরু করা সদ্য পথে বিয়ের কাঁটায় পা কেটে যায় তখন শিশু থেকে মা হয়ে যাওয়া মেয়েটি তার সন্তানকে কতটা শিক্ষা দিতে পারে? একজন শিশু যখন একজন মা তখন সেই মা কী করে ১০০ জন শিক্ষকের সমান হতে পারে?

প্রশ্ন রেখে গেলাম সেইসব বিবেক-বুদ্ধিসম্পন্ন অভিভাবক কিংবা পাত্রপক্ষের কাছে, যারা বার্থ সার্টিফিকেট দেখে অনার্সপড়ুয়া মেয়ের বয়স খোঁজে।

আসুন, বয়সের হিসাব ভুলে যাই, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা চিন্তা করে উপলব্ধি করি প্রাপ্তবয়স্ক সুশিক্ষিত মেয়েই মা হওয়ার উপযুক্ত। তবেই একজন শিক্ষিত মা হবেন ১০০ জন শিক্ষকের সমান। আসুন, আমরা একজন শিক্ষিত মাকে ১০০ জন শিক্ষকের সমান হওয়ার সুযোগ করে দিই।

কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ
উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ, রসুলপুর, কুড়িগ্রাম