শিবালয়ের পাটুরিয়ায় যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। গত দু-তিন মাস ধরে অবাধে বালু উত্তোলন করায় স্থানীয়রা তাদের নদীতীরের ফসলি জমি, ঘরবাড়ি ও প্রায় ৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বেড়িবাঁধ নদীতে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এলাকাবাসী জানায়, স্থানীয় প্রভাবশালী ও দলীয় নেতাকর্মীরা যমুনা নদী থেকে গত দু-তিন মাস ধরে বালু উত্তোলন করে আসছে। এ বালুদস্যু চক্রটি বর্ষা মৌসুম শেষে প্রতি বছর অবৈধভাবে নদীতে ড্রেজার বসিয়ে বালু বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। নদী থেকে দিনরাত বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। আবার অনেকে প্রশাসনের ভয়ে দিনে ড্রেজারের পাইপ খুলে রেখে রাতে বালু উত্তোলন করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

উপজেলার দাশকান্দি গ্রামের আমজাদসহ কয়েকজন জানান, কয়েকবার উপজেলা প্রশাসনের লোকজন এসে কয়েকটি ড্রেজারের পাইপ ভেঙে দিয়েছিল। কিন্তু কয়েকদিন যেতে না যেতেই আবার বালুদস্যুরা বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে। নদী থেকে বালু উত্তোলন করায় এলাকার লোকজনের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অবৈধভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলনকারীরা প্রভাবশালী ও দলীয় লোকজন হওয়ায় কেউ তাদের কিছু বলার সাহস পায় না। বালু উত্তোলনের কারণে কৃষি জমি, বসতবাড়ি ও বেড়িবাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। বর্ষা মৌসুম এলে নদীর পাড়ে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়। ওই সময় বিপাকে পড়তে হয় বসতবাড়ি ও কৃষি জমির মালিকদের। ভাঙনের কারণে গত কয়েক বছরে নদীতে বাড়িঘর হারিয়ে অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে আরিচা-জাফরগঞ্জ সড়কের পাশে ঘর তুলে কোনোরকমে বসবাস করছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিন ঘুরে ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকা থেকে শুরু করে জাফরগঞ্জ পর্যন্ত ১০ থেকে ১২ কিলোমিটারব্যাপী নদীতে ২০ থেকে ২২টি ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করা হচ্ছে। এ ছাড়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানে কৃষি জমি থেকে সাত-আটটি ভেকু দিয়ে বালু উত্তোলন করে প্রতিদিন শত শত ট্রাক মাটি বিক্রি করা হচ্ছে। যারা নদী থেকে বালু উত্তোলন করে বিক্রি ও কৃষি জমি থেকে মাটি বিক্রি করছে প্রশাসন তাদের অনুমোদন দেয়নি।

ড্রেজার দিয়ে নদী থেকে বালু উত্তোলনকারী কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এ ব্যবসা করা হচ্ছে। এ ছাড়া প্রশাসন অভিযানে আসার আগেই তারা অভিযানের সংবাদ পেয়ে যায় বলে জানান তারা। অন্যদিকে জেলার ঘিওর উপজেলার কিছু বখাটে যুবক প্রতি সপ্তাহে প্রতিটি ড্রেজার থেকে ৫০ টাকা থেকে শুরু করে ৩০০ টাকা পর্যন্ত নিচ্ছে।

পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় নদী থেকে বালু উত্তোলনকারী হাসান, শহীদ, জসিম খান ও লুৎফর রহমান জানান, কিছু লোককে ম্যানেজ করে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করা হচ্ছে। তাদের ড্রেজারের পাইপ কেউ ভাঙেনি।

ইউএনও জেসমিন সুলতানা জানান, যমুনা নদীতে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করলে এবং কৃষি জমি থেকে মাটি কাটা হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন