পটুয়াখালী সরকারি কলেজের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ছাত্র নাজমুল আকনকে অপহরণ করে এক তরুণী বিয়ে করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নাজমুল আকন বাদী হয়ে গত ৩ অক্টোবর পটুয়াখালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এক নারীসহ আরও ছয়-সাতজনকে আসামি করে মামলা করেন।

বিচারক মো. আমিরুল ইসলাম মামলাটি গ্রহণ করে পটুয়াখালী সদর থানাকে এজাহার নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

নাজমুল আকন জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের মো. জালাল আকনের ছেলে। আর প্রধান আসামি ইশরাত জাহান একই উপজেলার গাজীপুর এলাকার আবদুল আউয়ালের মেয়ে।

নাজমুল আকনের ঘাড় চেপে ধরে জোর করে বিয়ে করার একটি ভিডিওচিত্র আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। মামলার পর ১৫ অক্টোবর দুপুর থেকে ইশরাত নিজেকে নাজমুলের স্ত্রী দাবি করে তাদের (নাজমুল) বাড়িতে অবস্থান করছেন।

ইশরাত জাহানের দাবি, নাজমুলের সঙ্গে তার দুই বছর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। নাজমুল নিজের ইচ্ছায় তাকে বিয়ে করেছেন। অপহরণ বা জোর করে বিয়ে করার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।

নাজমুল আকনের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল-নোমান জানান, নাজমুল কলেজের ছাত্রাবাসে থাকেন। ইশরাত জাহান দীর্ঘদিন ধরে নাজমুলকে মোবাইল ফোনে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রেমের প্রস্তাবসহ বিয়ের প্রস্তাব দেন। কিন্তু নাজমুল তাতে রাজি না হওয়ায় গত ২৭ সেপ্টেম্বর পটুয়াখালী লঞ্চঘাট এলাকা থেকে তাকে চোখ বেঁধে অপহরণ করা হয়। পরদিন অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে সাত-আট ব্যক্তি জোর করে তাকে একটি কাগজে সই করতে বাধ্য করে। ধারণা করা হচ্ছে, এ কাগজ দিয়ে ইশরাত কাবিননামা তৈরির পাঁয়তারা করছেন। এ ঘটনায় দণ্ডবিধির ১৪৩/৩৬৫/ ৩৭৯/৩৮৪/৫০৬ ধারা মোতাবেক আদালতে মামলা করা হয়।

সদর থানার ওসি মনিরুজ্জামান জানান, আদালতের নির্দেশে মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন