বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী দ্বিতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া যাবে না ঘোষণা এলেও নাসিরনগরের ১৩ ইউনিয়নের একটি বাদে প্রতিটিতে দলটির নেতারা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এ নিয়ে ভোটের মাঠে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

বিএনপির প্রার্থীরা ছাড়াও সাতটি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের ২০ জন বিদ্রোহী প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এ ছাড়া রয়েছেন জাতীয় পার্টি সাতজন, ইসলামী আন্দোলনের পাঁচ ও জাকের পার্টির একজন প্রার্থী। ফলে নির্বাচনে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে প্রত্যাশা সাধারণ ভোটারদের।

বিএনপি নেতাদের অংশগ্রহণের বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম এ হান্নান বলেন, প্রায় দেড় বছর ধরে উপজেলা বিএনপির কমিটি নেই। তাই নির্বাচন করতে বাধা থাকার কথা নয়।

আর বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার বলেন, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের শেষ তারিখ ২৬ অক্টোবর। এরপর আওয়ামী লীগের যারা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করবেন, তাদের দল থেকে বহিস্কার করা হবে।

আরও একটি বিষয় আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তা হলো আওয়ামী লীগের দু'জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে মাদক ও হত্যার মামলা রয়েছে। তারা হলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. বাহার উদ্দিন চৌধুরী ও আক্তার মিয়া। বাহার উদ্দিন ধরমণ্ডল ইউনিয়নে এবং আক্তার মিয়া পূর্বভাগ ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন পেয়েছেন।

ধরমণ্ডলে নৌকার প্রার্থী বাহার উদ্দিনের বিরুদ্ধে রয়েছে মাদক মামলা। তার নির্দেশে গত ৩ জুলাই রাতে মাদকবিরোধী অভিযানের সময় দু'জন র‌্যাব সদস্য টেঁটাবিদ্ধ হন বলে অভিযোগ। এ ঘটনায় সিলেট র‌্যাব-৯ ক্যাম্পের এক সদস্য বাদী হয়ে বাহার উদ্দিনসহ ২১ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা করেন। এ বিষয়ে বাহার উদ্দিন চৌধুরী দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে যে মামলা করা হয়েছে, তা মিথ্যা। ঘটনার সময় তার ফোন বন্ধ ছিল।

২০১২ সালের ৬ মে পূর্বভাগ ইউনিয়নের ভুবন গ্রামে জমির ধান কাটা নিয়ে একই গ্রামের নাছির মিয়াকে কুপিয়ে আহত করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৫ মে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় তার বড় ভাই হেবজু মিয়া বাদী হয়ে আক্তার মিয়াসহ ২৯ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করেন। আক্তার মিয়ার দাবি, তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলাটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক।

বিএনপির যেসব নেতা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, তারা হলেন- উপজেলা জাসাসের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাসানুর রহমান, বুড়িশ্বর ইউনিয়নে উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. ইকবাল চৌধুরী, কুণ্ডা ইউনিয়নে উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ওমরাহ খান, ধরমণ্ডল ইউনিয়নে ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সফিকুল ইসলাম, ফান্দাউক ইউনিয়নে ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. সফিকুল ইসলাম, গোকর্ণ ইউনিয়নে উপজেলা বিএনপির যুবদল কর্মী সামসুল আরিফিন, পূর্বভাগ ইউনিয়নে উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি মোহাম্মদ হোসেন, হরিপুর ইউনিয়নে উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি মো. জামাল মিয়া, গুনিয়াউক ইউনিয়নে উপজেলা বিএনপির সদস্য মো. সামছুল হক, চাপরতলা ইউনিয়নে উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ফয়েজ উদ্দিন ভূঁইয়া ও ভলাকুট ইউনিয়নে উপজেলা বিএনপির কর্মী মোজাম্মেল হক।

উপজেলা আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা হলেন- সদর ইউনিয়নে উপজেলা কৃষক লীগের আহ্বায়ক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল আহাদ, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রফিজ মিয়া ও আওয়ামী লীগ নেতা মুখলেছুর রহমান। এ ছাড়া দলটির বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতারা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। তারা হলেন- কুণ্ডা ইউনিয়নে নাদিম হোসেন মামুন, গোকর্ণ ইউনিয়নে মো. রহমত আলী, পূর্বভাগ ইউনিয়নে মো. আলম উদ্দিন, মো. জাহের মিয়া ও মো. নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া; হরিপুর ইউনিয়নে মো. হেলাল মিয়া, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ফারুক মিয়া ও তার স্ত্রী ইউনিয়ন মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শিরিন আক্তার; গুনিয়াউক ইউনিয়নে সৈয়দ মোস্তাক আহমদ, চাপরতলা ইউনিয়নের মো. আব্দুল আহাদ ও কামরুজ্জামান; গোয়ালনগর ইউনিয়নে মো. আজহারুল হক ও মো. কাপ্তান মিয়া; ভলাকুট ইউনিয়নের মো. শাহ আলম ও মো. আরাফাত আলী এবং চাতলপাড় ইউনিয়নের মীর হোসেন ও মো. রফিকুল ইসলাম।

সদর ইউনিয়ন থেকে চেয়ারম্যান পদে সাতজন, বুড়িশ্বরে তিন, কুণ্ডায় পাঁচ, পূর্বভাগে সাত, হরিপুরে পাঁচ, গোয়ালনগরে দিন, ভলাকুটে চার, ধরমণ্ডলে চার, ফান্‌দাউকে চার, চাপরতলায় ছয়, গুনিয়াউকে চার, গোকর্ণে সাত ও চাতলপাড় থেকে ছয়জন মনোনয়নপত্র জমা দেন।

জেলা আওয়ামী লীগ তথ্য গোপন করে দলীয় মনোনয়ন পেতে বিএনপি সমর্থক আজহারুল হককে গোয়ালনগর আওয়ামী লীগের সভাপতি দেখিয়ে কেন্দ্রে কাগজ পাঠিয়েছেন কিনা প্রশ্নে আল মামুন সরকার বলেন, আহজারুল হকের বিষয়টি প্রিন্টিং সমস্যার কারণে এমন হয়েছে।

মন্তব্য করুন