বকশীগঞ্জে এক দরিদ্র পরিবারে তিন সদস্য শারীরিক প্রতিবন্ধী। তাদের কারোরই জোটেনি প্রতিবন্ধী ভাতা। নাতি-নাতনি ও প্রতিবন্ধী তিন সন্তানসহ ১১ সদস্যের পরিবার নিয়ে বিপাকে রয়েছেন দরিদ্র কৃষক ইউসুফ আলী। সংসারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ইউসুফ কৃষি কাজ করেন আর তার বড় ছেলে ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিকের কাজ করেন। তাদের আয় দিয়েই টানাপোড়েনে চলে ১১ জনের সংসার।

জানা যায়, বকশীগঞ্জ উপজেলার মেরুরচর ইউনিয়নের শেখেরচর পূর্বপাড়া গ্রামের দরিদ্র কৃষক ইউসুফ আলী দুই ছেলে ও তিন মেয়ের জনক। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে মোটামুটি ভালোই চলছিল তার সংসার। মেজো ছেলে রাশেদ মিয়া (৩০) স্থানীয় মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে কোরআনের হাফেজ হন। কিন্তু ১৪ বছর বয়সে হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে পড়েন রাশেদ। চিকিৎসা করানো হলেও সুস্থ হননি। কোনো কাজ করতে পারেন না। হুইলচেয়ারই তার ভরসা। ইউসুফ আলীর তিন মেয়ের মধ্যে দুই মেয়ে ইছমা (২৫) ও লিমা (২৩) শারীরিকভাবে অক্ষম। দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু স্বামীর সংসার করতে পারেননি তারা। বিয়ের পর শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে তাদের বিয়ে বিচ্ছেদ হয়। তারাও কোনো কাজ করতে পারেন না। চলাফেরার জন্য হুইলচেয়ারও নেই তাদের। প্রতিবন্ধী ছেলেমেয়েদের ভাতা কার্ডের জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন ইউসুফ আলী। তাদের কারও ভাগ্যেই জোটেনি সরকারি ভাতা।

ইউসুফ আলীর স্ত্রী জলেবান বেগম বলেন, ছেলেমেয়েরা প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পরই শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। অনেকের কাছে গিয়েছি প্রতিবন্ধী কার্ডের জন্য। প্রতিবন্ধী ছেলেমেয়েদের নিয়ে বিপাকে আছি।

বকশীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মাসুমা ইয়াছমিন স্মৃতি বলেন, বিষয়টি জানার পরই তাদের বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নিয়েছি। পরে ইউএনও ও সমাজসেবা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছি। আশা করি দুই-তিন মাসের মধ্যে তারা প্রতিবন্ধী ভাতা পাবেন।

বিষয় : প্রতিবন্ধী

মন্তব্য করুন