করোনা পরীক্ষার নামে প্রতারণা ক্লিনিক মালিক গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২০

সেলিম সরদার, ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের শ্রমিক-কর্মচারী হিসেবে চাকরি করতে হলে করোনা পরীক্ষায় নেগেটিভ সার্টিফিকেট জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। এই বিষয়টিকে সুযোগ হিসেবে নিয়ে ঈশ্বরদীর পাকশী রূপপুরে 'মেডিকেয়ার' নামের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিক রূপপুর প্রকল্পের শ্রমিক-কর্মচারীদের করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট দিয়ে প্রায় সাড়ে আট লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তথ্য প্রমাণ নিশ্চিত হয়ে অভিযান চালিয়ে করোনা পরীক্ষার নামে প্রতারণার অভিযোগে 'মেডিকেয়ার' ডায়াগনস্টিক সেন্টারের স্বত্বাধিকারী আবদুল ওহাব রানাকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রানা ঈশ্বরদীর পাকশী ইউনিয়নের চর রূপপুর নলগাড়ী গ্রামের জামাত আলীর ছেলে। গত বৃহস্পতিবার রাতে তার বিরুদ্ধে মামলা রেকর্ড করে তাকে গ্রেপ্তার ও আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার রানা জানান, নমুনাগুলো পরীক্ষা করা হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। পুলিশ জানায়, প্রকৃতপক্ষে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করার বিষয়টি সম্পূর্ণ সাজানো ছিল। মূলত রূপপুর প্রকল্পে শ্রমিক কর্মচারী হিসেবে চাকরি করতে হলে করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক থাকায় মেডিকেয়ার ভুয়া সার্টিফিকেট দিয়ে বিশাল বাণিজ্যের পরিকল্পনা করেছিল। অভিযোগ পেয়ে ঈশ্বরদী থানা পুলিশ মেডিকেয়ারে অভিযান চালায়।

ঈশ্বরদী থানার ওসি শেখ মো. নাসীর উদ্দীন জানান, এই চক্রের অপর দুই সদস্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা. আবু সাঈদ (৪৫) ও নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার নাটাবাড়ীয়ার আরশেদ আলী সরকারের ছেলে সুজন আহমেদের (৩৩) সঙ্গে যোগসাজশ করে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের ১৭০ শ্রমিকের করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করে মেডিকেয়ারের মালিক রানা। পরীক্ষা বাবদ প্রত্যেকের কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা করে ফি নেওয়া হয়।

ওসি আরও জানান, ওই ক্লিনিক মালিককে আটকের পর বৃহস্পতিবার তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আবদুল ওহাব রানা এবং নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম উপজেলার নটাবাড়িয়া গ্রামের আরশেদ আলী সরকারের ছেলে সুজন আহমেদ বিভিন্ন কোম্পানির শ্রমিকদের করোনা পরীক্ষার জন্য রূপপুর ফটু মার্কেট এলাকায় একটি পরিত্যক্ত ইটভাটার মাঠে তাঁবু টাঙিয়ে নমুনা সংগ্রহ করেন। এই নমুনা তারা ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। এরপর অনলাইনে রূপপুর মেডিকেয়ার ক্লিনিকের ঠিকানায় রিপোর্ট আসে। অনুসন্ধানে ৫০টি রিপোর্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মাধ্যমে পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা. আবু সাইদ মুঠোফোনে জানান, ওই নামের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে আসা ৫০ জনের নমুনা টেস্টের সঠিক রিপোর্ট আমরা ৬ জুলাই পাঠিয়েছি। আমাদের জানা ছিল না প্রতিষ্ঠানটির সরকারি অনুমোদন নেই।

মেডিকেয়ারের পরিচালক আরিফুল বারী কিরণ জানান, রাশিয়ান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টেস্ট রোশেম, নিকিমথ ও রুইনওয়াল্ডের অনুরোধে আমরা করোনার নমুনা সংগ্রহ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় টেস্টের ব্যবস্থা করি।