করোনাকালে মোবাইল হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবা

সাভার

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২০

গোবিন্দ আচার্য্য, সাভার

মহামারি করোনা পরিস্থিতিতে অনেকেই সংক্রমণের ভয়ে হাসপাতালে যাচ্ছেন না। এমনকি চিকিৎসকদের চেম্বারেও চিকিৎসা নিতে যাচ্ছেন না। আবার সব সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালেই রোগী ভর্তির ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা আরোপ করেছে। হাসপাতালগুলোতে নানা কারণে চিকিৎসক, নার্স ও স্টাফ সংকট দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে করোনা রোগী ছাড়াও অন্য রোগে আক্রান্তরাও সীমাহীন কষ্ট পাচ্ছেন। এ অবস্থা থেকে উত্তরণ এবং স্বাস্থ্যসেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য স্যাভলনের আর্থিক সহায়তায় বেসরকারি সংস্থা 'আগ্রহ'র উদ্যোগে গত ২৮ জুন থেকে চালু হয়েছে মোবাইল (ভ্রাম্যমাণ) হাসপাতাল। একটি ট্রাকে স্থাপন করা হয়েছে এই হাসপাতাল। ট্রাকেই জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে। করোনা পরিস্থিতি অনুধাবন করে স্যাভলন এবং আগ্রহের পক্ষ থেকে এমন হাসপাতাল চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মোবাইল হাসপাতালটি ঢাকার সাভার এবং ধামরাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে চিকিৎসাসেবা প্রদান করছে। হাসপাতালটিতে জরুরি রোগীদের সিটের ব্যবস্থা রয়েছে। গাড়িতেই চিকিৎসাসামগ্রী এবং জরুরি ওষুধ রাখা রয়েছে। গাড়িতে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, একজন নার্স এবং একজন সাহায্য কর্মীর বসার ব্যবস্থাও রয়েছে।

গত ২৮ জুন উদ্বোধনের পর থেকে এ পর্যন্ত সাভার এবং ধামরাই উপজেলায় এই মোবাইল হাসপাতালে দুই সহস্রাধিক রোগীর চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালটি সাধারণ চিকিৎসা এবং প্রাথমিক শল্য চিকিৎসা দু'ধরনেরই স্বাস্থ্য পরিচর্যা ও সেবা প্রদান করছে। এ ছাড়া সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও হাত ধোঁয়ার জন্য সাবান দেওয়া হচ্ছে। এখান থেকে প্রতিদিন গড়ে ২৫০ জনের বেশি রোগী চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন। স্যাভলন এবং আগ্রহের এমন ব্যতিক্রমী চিকিৎসা কার্যক্রমে এলাকার মানুষ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। আগ্রহের স্ট্র্যাটেজিক ম্যানেজমেন্ট কর্মকর্তা দূরদানা তাবাসসুম নওরীনের তত্ত্বাবধানে হাসপাতালটির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

আগ্রহের চেয়ারপারসন ডালিয়া রহমান এ মহৎ উদ্যোগে আর্থিক সহায়তার জন্য স্যাভলনকে ধন্যবাদ দিয়ে বলেন, মোবাইল হাসপাতালের মাধ্যমে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষসহ সবার স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য দেশের অন্যান্য উপজেলাতেও এই হাসপাতালের কার্যক্রম শিগগিরই চালু করা হবে।