বগুড়া

বাড়ির আঙিনায় বাড়ছে সবজি চাষ

প্রণোদনা পাচ্ছেন সাড়ে ৩ হাজার কৃষক

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২০

বগুড়া ব্যুরো

শুধু ফসলি জমিতে নয়, বগুড়ায় বাড়ির আঙিনায়ও শাকসবজি চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকের। আর কৃষকের পাশাপাশি অন্যদের মধ্যেও সাড়া ফেলেছে এটি। জমি পতিত না রেখে কাজে লাগাচ্ছেন তারা। আর এ জন্য কৃষকদের সরকারের পক্ষ থেকে প্রণোদনা দেওয়ার পাশপাশি সবজি চাষে উদ্বুদ্ধ করছেন কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা। প্রথম পর্যায়ে জেলার তিন হাজার ৪৮৮ কৃষককে শাকসবজি চাষের জন্য প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে।

জেলার গাবতলী উপজেলার কাগইল গ্রামের বাসিন্দা পলাশ চন্দ্র বাড়ির আঙিনায় পড়ে থাকা এক শতাংশ জমিতে শাকসবজি চাষ করছেন। তিনি একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং কৃষক। সম্প্রতি তিনি কৃষি কর্মকর্তাদের অনুপ্রেরণায় শাকসবজি চাষ করতে জমি প্রস্তুত করছেন। তিনি জানান, এই শাকসবজি চাষ করে বিক্রি করতে না পারলেও নিজ পরিবারের সবজির চাহিদা তো মেটাতে পারবেন।

তার মতো উপজেলার হিজলি গ্রামের কৃষক নুরুল ইসলামও বাড়ির আঙিনায় সবজি চাষের জন্য জমি প্রস্তুত করছেন। তিনি বলেন, আশা করছি শাকসবজির ভালো ফলন হলে নিজ পরিবারের চাহিদা মিটিয়েও বিক্রি করতে পারব।

ওই এলাকায় কর্মরত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জান্নাতুন মহল স্থানীয় কৃষকদের কাছে কৃষি আপা হিসেবে পরিচিত। তিনি বিভিন্ন ফসল সম্পর্কে কৃষকদের হাতেকলমে প্রশিক্ষণ দেন এবং মাঠে গিয়ে চাষাবাদের উন্নত পদ্ধতি সম্পর্কে দেখিয়ে দেন। জান্নাতুন মহল জানান, বাড়ির আঙিনাতেই কমপক্ষে ১০ ধরনের শাকসবজি চাষ করা যাবে। এগুলো হলো- লালশাক, পুঁইশাক, কলমিশাক, মরিচ এবং মাচা তৈরি করে ঝিঙা, বরবটি, শিম ও লাউ।

জেলা কৃষি বিভাগ জানায়, এ বিষয়ে প্রায় এক মাস আগে নির্দেশনা পাওয়ার পর কৃষি বিভাগ মাঠপর্যায়ে নেমে পড়ে। পাইলট প্রকল্প হিসেবে জেলায় প্রথম পর্যায়ে প্রণোদনার আওতায় ১০৯টি ইউনিয়নের তিন হাজার ৪৮৮ কৃষককে নির্বাচিত করা হয়। তাদের জনপ্রতি বীজ ও সাইনবোর্ডসহ সব মিলিয়ে দুই হাজার ৬৩৫ টাকা করে প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। প্রণোদনার টাকা মোবাইল ব্যাংকিং ও চেকের মাধ্যমে দেওয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মো. শাহাদুজ্জামান জানান, মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তরা বাড়ির আঙিনায় শাকসবজি চাষ করতে কৃষকদের সহায়তা দিয়ে আসছেন। সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে এতে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। সাড়াও মিলছে।