ধান কৃষকের, লাভ মধ্যস্বত্বভোগীর

প্রকাশ: ২৩ মে ২০২০

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) ও কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি

চলনবিলে করোনাকালীন এই সময়ে ধান বিক্রি করতে গিয়ে ফড়িয়া ব্যবসায়ীদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। ফড়িয়া ধান ব্যবসায়ীদের কাছে কম মূল্যে এবং বাকিতে ধান বিক্রি করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।

জানা গেছে, চলনবিলের অধিকাংশ উপজেলায় সরকারি খাদ্যগুদামে ন্যায্যমূল্যে ধান ক্রয় শুরু না হওয়ায় চলনবিলের কৃষকরা সরকার নির্ধারিত ধানের দামের চেয়ে কম দামে ধান বিক্রি করতে

বাধ্য হচ্ছেন।

কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, খাদ্যশস্যের ভান্ডার খ্যাত চলনবিলের সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ, উল্লাপাড়া, শাহজাদপুর, তাড়াশ, পাবনার ভাঙ্গুড়া, চাটমোহর, নাটোরের সিংড়া, গুরুদাসপুর, নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুমে বেশিরভাগ জমির ধান কাটা শেষ হয়েছে। আর ধান কাটার পরে ঈদসহ নানা প্রয়োজনে কৃষক নতুন ধান বিক্রি করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন।

কেননা করোনাকালীন সময়ে চলনবিলের ৪৫-৫০টি প্রসিদ্ধ হাটবাজারে সারা বছর লাখ লাখ টন ধান বিক্রি হয়। স্থানীয়রা জানান, মূলত জেলা নওগাঁ, বগুড়া, পাবনা, নাটোরসহ অত্র অঞ্চলের হাজার হাজার চালের চাতালে লাখ লাখ টন ধান প্রয়োজনের তাগিদে চলনবিলের হাটবাজার থেকে ব্যবসায়ী মহাজনরা কিনে থাকেন। কিন্তু করোনার কারণে ধান কেনাবেচায় সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। কেননা বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বিভিন্ন অঞ্চলের বড় বড় ধান ক্রেতা মহাজনরা চলনবিলের হাটবাজারে তেমন না আসায় স্থানীয় ফড়িয়া ধান ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম বেড়ে গেছে।

কাস্তা গ্রামের কৃষক আব্দুল করিম জানান, করোনাকে পুঁজি করে ফড়িয়া ধান ব্যবসায়ীরা চলনবিলের গ্রাম এলাকার কৃষকদের জিম্মি করে ফেলেছে।

ফড়িয়া ব্যবসায়ী আব্দুল বারিক বলেন, শহরের বড় বড় মহাজনের কাছ থেকে টাকা নিয়েই তারা ধান কেনাবেচা করেন। তারাও করোনাকালীন পরিস্থিতিতে ব্যবসাপত্র গুটিয়ে বসে আছেন। তাই সামান্য টাকায় কোনোমতে ধান কেনার ব্যবসা করার চেষ্টা করছি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লুৎফুন্নাহার লুনা বলেন, করোনার কারণে ধান কেনাবেচায় সমস্যা হচ্ছে। সরকারিভাবে ন্যায্যমূল্যে ধান কেনা শুরু হলে কৃষকের এ সমস্যা অনেকটাই কেটে যাবে।

এদিকে যশোরের কেশবপুরে ধানের ফলন বেশি হওয়ায় ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে ধানের দাম কমিয়ে দিয়েছে। ধান কাটা শুরুতে যে ধান বিক্রি হচ্ছিল প্রতি মণ এক হাজার ৫০ টাকায়, বর্তমানে তা বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে সাড়ে ৭০০ টাকায়। সরকার এখনও ধান ক্রয় শুরু করেনি। এ সুযোগে ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করার কারণে কৃষক সরকার নির্ধারিত মূল্য পাচ্ছেন না। তাদের উৎপাদিত ধানের ৬০ কোটি টাকা চলে যাচ্ছে সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের পকেটে।

কৃষকদের অভিযোগ, করোনার সুযোগে ব্যবসায়ীরা অধিক মুনাফা লাভের আশায় সিন্ডিকেট করে ধানের দরপতন ঘটিয়েছে। সরকার ধান ক্রয় শুরু না করায় সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের পকেটে চলে যাচ্ছে ৬০ কোটি টাকা। ধান ব্যবসায়ী মোকাররাম হোসেন জানান, হঠাৎ বাজারে ধান বেশি ওঠায় দরপতন ঘটেছে। সরকার যে ধান কিনছে তাতে বাজারে কোনো প্রভাব পড়ছে না। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মহাদেব চন্দ্র সানা বলেন, ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে থাকলে আমাদের কিছুই করার নেই।