আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক ব্যবস্থাপত্রে লেখেন এলোপ্যাথিক ওষুধ

প্রকাশ: ২৬ মার্চ ২০২০

নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

আয়ুর্বেদিক শাস্ত্রে লেখাপড়া করে হয়েছেন আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক। সরকারি নিয়োগও পেয়েছেন আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক পদে। অথচ ব্যবস্থাপত্রে তিনি লেখেন এলোপ্যাথিক ওষুধ। এমনটিই চলছে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলা হাসপাতালে।

গত মঙ্গলবার ওই হাসপাতালের নতুন ভবনে একটি নীল রঙের ব্যানার দেখতে পাওয়া যায়। তাতে সাদা রঙে বড় হরফে লেখা রয়েছে 'এই হাসপাতালে বিএএমএস ডিগ্রিধারী ডাক্তার দ্বারা আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়। আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা গ্রহণ করুন, সুস্থ থাকুন'- প্রচারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। খোঁজ নিয়ে জানা যায় হাসপাতালের ওই আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকের নাম ডা. রোকনুজ্জামান। তিনি নতুন ভবনের ১৩ নম্বর কক্ষে বসে প্রতিদিনের মতো বহিঃবিভাগের রোগী দেখছেন। এ সময় তার কক্ষে বেশ কয়েকজন রোগীর জটলা দেখতে পাওয়া যায়। কক্ষের বাইরে থেকে বেশ কয়েকজন রোগীকে দেওয়া ব্যবস্থাপত্রে দেখা যায় তিনি আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক হলেও ওষুধ লিখছেন এলোপ্যাথিক। খুব কম সংখ্যক রোগীকে দু-একটি আয়ুর্বেদিক ওষুধ লিখে দিচ্ছেন। ১১৫৩১ নম্বর টিকিটধারী ৮ বছর বয়সী জুবাইরকে চুলকানির জন্য লিখে দিয়েছেন-পেন ভি, এন্টাসিড ও হেমোসেফ। ১১৫২০ নম্বর টিকিটধারী ২৫ বছরের জুয়েলকে পেট ব্যথার জন্য প্যারাসিটামল লিখে দেওয়ার পাশাপাশি জরুরি বিভাগে যেতে লিখে দিয়েছেন। ১১৫৩৬ টিকিটের ৬০ বছরের ফিরোজাকে শরীর ব্যথার জন্য এন্টাসিড, পেন ভি ও প্যারাসিটামল দেওয়ার পাশাপাশি বাইরে থেকে অন্য একটি ওষুধ কিনে নিতে লিখে দিয়েছেন।

ডা. রোকনুজ্জামানের কক্ষে প্রবেশ করে পরিচয় দিয়ে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক হয়েও ব্যবস্থাপত্রে কেন এলোপ্যাথিক ওষুধ লিখে দিচ্ছেন জানতে চাইলে প্রথমে তিনি তা অস্বীকার করেন। পরে মোবাইল ফোনে ধারণ করা বেশ কয়েকটি ব্যবস্থাপত্রের কথা বললে তিনি তা স্বীকার করে বলেন, আয়ুর্বেদিকের পাশাপাশি তাদের এলোপ্যাথিক চিকিৎসা করার জন্যও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ইকবাল আহমেদ নাসের বলেন, 'আমি এখানে নতুন এসেছি। আসার পর এ বিষয়টি জেনেছি। তবে এখন তো করোনা নিয়ে সবাই ব্যস্ত। অবস্থার পরিবর্তন হলে সবার কামরার সামনে নাম পদবিসহ সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেব। তা হলেই রোগীরা আর প্রতারিত হবেন না।