বাঞ্ছারামপুরে 'শেখ হাসিনা তিতাস সেতুর' অধিগ্রহণকৃত জায়গায় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও দোকানপাট নির্মাণ করে ব্যবসা ও ভাড়া দিচ্ছে। অবৈধ দখলদারদের কারণে এই সেতুটির সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে। এসব অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে উপজেলা প্রকৌশল অফিস থেকে সাত দিনের সময় বেঁধে দিয়ে চিঠি দেওয়া হলেও দখলদাররা এখনও তা করেনি।

উপজেলার চরলহনিয়া ও ভুরভুরিয়া এবং হোমনা উপজেলা রামকৃষ্ণপুর গ্রামের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করতে ২০১৬ সালে তিতাস নদীর ওপর একশ' চার কোটি টাকা ব্যয়ে ৭৭১.২০ মিটার দৈর্ঘ্যের ওয়াই আকৃতির শেখ হাসিনা তিতাস সেতুটি নির্মাণ করা হয়। সেতুটি নির্মাণের সময় তিন অংশে প্রায় নয় একর জায়গা অধিগ্রহণ করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই সেতু উদ্বোধন করেন ২০১৮ সালের ২৪ অক্টোবর। উদ্বোধনের পর থেকে অধিগ্রহণের এসব জায়গায় বিভিন্ন ব্যক্তি বিপণিবিতান, টং দোকান, পাকা ভবন নির্মাণ ও স'মিল স্থাপন এবং বালি জমাট করে ব্যবসা করছেন।

চরলৌহনিয়া গ্রামের আবু তাহের মাস্টার পাকা ঘর উঠিয়ে ভাড়া দিয়েছেন। তার মতো একই গ্রামের আব্দুল আজিজ, আমান উল্লাহ ও কামাল মিয়া স'মিল স্থাপন করে ব্যবসা করছেন। সাইদুর রহমান সেতুর নিচে বালির ব্যবসা করছেন। রামকৃষ্ণপুর বাজার অংশে নদীর পারে মাসুদ ভূঁইয়া পাকা ভবন নির্মাণ করেছেন, তার পাশে মসজিদ কমিটি পাকা ভবন নির্মাণ করেছে। তাদের মতো, মাসুদ মোল্লা, আসানউল্লাহ, অলি মেম্বার, মাওলানা নুরুল ইসলাম টিনের ঘর উঠিয়ে ভাড়া দিচ্ছেন। সেতুর পশ্চিম অংশের ডালে ভুট্টো মিয়া, এমদাদ ম্যানেজার, পুলিন সূত্রধর ও তপন সাহা এবং ভুরভুরিয়া অংশে অবিদ মিয়া, রমিজ মিয়া, গিয়াস উদ্দিনসহ কয়েকজন ঘর উঠিয়ে ভাড়া দিচ্ছেন।

রামকৃষ্ণপুর গ্রামের মাসুদ ভূঁইয়া বলেন, আমাদের ৩২ শতক জায়গা অধিগ্রহণ করা হয়েছে। তবে আমরা মূল্য কম দেওয়ায় আমরা টাকা গ্রহণ করিনি। আমি মাত্র দেড় শতকের মধ্যে ভবন নির্মাণ করছি।

চরলৌহনিয়া গ্রামের আবু তাহের বলেন, অধিগ্রহণের জায়গায় ঘর উঠিয়ে ভাড়া দিয়ে রেখেছি। আমাকেসহ অনেককে নোটিশ করা হয়েছে এই জায়গা থেকে ঘর সরিয়ে নিতে। অন্যরা সরিয়ে নিলে আমিও আমার ঘর সরিয়ে নেব।

ফরদাবাদ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ বলেন, আমার কিছু জায়গা পড়েছে তার ওপর। এই জায়গা নিয়ে মামলা চলছে, আমাকেও নোটিশ করা হয়েছে। দখলদার রামকৃষ্ণপুর গ্রামের তপন সাহা বলেন, আমরা যে জায়গায় দোকান উঠিয়েছি এর বেশির ভাগ জায়গা আমাদের। অধিগ্রহণে কিছু জায়গা পড়েছে। যখন তারা বলবে, তখন আমরা ভেঙে নিয়ে যাব। উপজেলা প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, ওয়াই সেতুর অধিগ্রহণের জায়গায় টং দোকান,পাকা ভিটি, পাকা ভবন ও স'মিল নির্মাণ করা হয়েছে। তাদের তালিকা করে নোটিশ করা হয়েছে। তারা স্বেচ্ছায় স্থাপনা সরিয়ে না নিলে তাদের উচ্ছেদের ব্যবস্থা করব। এই জায়গা কোনোভাবে কাউকে দখল করতে দেওয়া হবে না।

ফরদাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহমেদ সেলিম জানান, ওয়াই সেতুর বিভিন্ন অংশে বিভিন্ন ব্যক্তি দখল করে ঘর নির্মাণ করে ব্যবসা ও ভাড়া দিচ্ছে এবং বালির ব্যবসা করছে। এতে সেতুর শোভা নষ্ট হচ্ছে।

চান্দের চর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আবুল বাশার মোল্লা জানান, ওয়াই সেতুর রামকৃষ্ণপুর অংশের অধিগ্রহণের জায়গায় বিভিন্ন ব্যক্তি দোকানপাট নির্মাণ করে ভাড়া ও ব্যবসা করছেন। অনেকেই স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করছেন।

ইউএনও নাসির উদ্দিন সরোয়ার জানান, এটা একটি জাতীয় স্থাপনা। এই জায়গা দখল করে কেউ দোকানপাট কিংবা অন্য কোনো স্থাপনা নির্মাণ করতে পারবে না। ইতোমধ্যে অনেক দখলদারকে নোটিশ করা হয়েছে। তারা যদি স্থাপনা সরিয়ে না নেয় তবে তাদের উচ্ছেদ করা হবে।

মন্তব্য করুন