স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, স্বাস্থ্যসেবায় যুগান্তকারী সফলতা অর্জিত হয়েছে। নবনির্মিত শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউট বিশ্বের সবচেয়ে বড় বার্ন হাসপাতাল। অনেক বড় অত্যাধুনিক অবকাঠামো গড়ে উঠেছে, এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সততা ও দায়িত্ব বোধের সঙ্গে কাজ করা। সরকারি হাসপাতালের ওপর জনগণের আস্থা না থাকার সুযোগে প্রাইভেট ক্লিনিক ও দালালদের জন্ম হয়েছে। চিকিৎসার মতো মহৎ পেশায় টাকার মোহ ঢুকে গেছে। এতদিন স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ, ব্যবস্থাপনা, প্রমোশন, অনুপাত ইত্যাদি ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ছিল না, যা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। স্বাস্থ্য খাতে জনবল সংকট কাটিয়ে উঠতে নতুন বছরে আরও সাড়ে পাঁচ হাজার নতুন ডাক্তার, ১০ হাজার নার্স এবং ৪০ হাজার কর্মচারী নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সারাদেশে জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে আট বিভাগে আটটি ক্যান্সার হাসপাতাল গড়ে তোলা হবে। পরে আট বিভাগে একটি করে কিডনি ও হার্ট হাসপাতাল গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সভাকক্ষে গতকাল রোববার মাতৃমৃত্যুমুক্ত কাপাসিয়া মডেল ও সার্বিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনাবিষয়ক উপস্থাপনা ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি মাতৃমৃত্যুমুক্ত কাপাসিয়া গড়ে তোলায় এমপি সিমিন হোসেন রিমি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মীসহ সংশ্নিষ্ট বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রশংসা করেন। এ ক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে গর্ভবতী মায়েদের বিভিন্ন ধরনের সেবা প্রদানের ধারণাকে সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়ার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। মা ও শিশু স্বাস্থ্যের পাশাপাশি সব জনগণের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার বিষয়ে সবাইকে আরও জোর দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, কিডনি, হার্ট, শ্বাসকষ্ট, অপুষ্টিসহ নানা রোগের কারণ ও ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করার জন্য তিনি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি আমাদের দেশে মাতৃমৃত্যুর হার কমিয়ে আনার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ করারও আহ্বান জানান। এর আগে সকাল সাড়ে ১১টায় কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপস্থিত হয়ে সাধারণ পুরুষ ওয়ার্ড, মহিলা ওয়ার্ড, ডেলিভারি ওয়ার্ড, শিশু ও প্রসূতি কর্নার, কেবিন, জরুরি বিভাগসহ হাসপাতালের সার্বিক অবস্থা পরিদর্শন করে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

সিমিন হোসেন রিমি এমপির সভাপতিত্বে ও উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুর রহিমের সঞ্চালনায় অন্যদের মাঝে বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলাম, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের সচিব শেখ ইউসুফ হারুন, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আ খ ম মহিউল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব হাবিবুর রহমান, গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আবু নাসার উদ্দিন, গাজীপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. খায়রুজ্জামান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. আব্দুস সালাম সরকার, কাপাসিয়া উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান মো. আসাদুজ্জামান আসাদ প্রমুখ।

মন্তব্য করুন